 |
| ছবি: উজ্জ্বল ধর/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বিভাগের ব্যর্থতার কারণেই বন্দর দিয়ে অবৈধ পণ্য আসছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।
তিনি বলেন, বন্দর নিয়ে একটি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করছে। এ মহলটি অনেক লুকোচুরি খেলেছে। বন্দর দিয়ে অবৈধ মালামাল আনছে তারা।
‘বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তায় ব্যর্থ হওয়াতেই নিয়মিত অবৈধ পণ্য আসছে।’
সম্প্রতি লিফট ঘোষণা দিয়ে বিলাসবহুল প্রাইভেট কার আনার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এভাবে প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে অবৈধ পণ্য আনা হচ্ছে। আনা হচ্ছে অস্ত্রও।
বুধবার বিকেল পাঁচটায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরের বহুল আলোচিত এনসিটি টেন্ডার বাতিলের নির্দেশ দেয়ায় শোকরানা মোনাজাতের আয়োজন করে বন্দর রক্ষা পরিষদ। ওই আদেশের ফলে টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ল সাইফ পাওয়ারটেক।
সাইফ পাওয়ারটেককে কাজ পাইয়ে দিতে টেন্ডারে ১২টি শর্ত শিথিল ও বাতিল করার অভিযোগে আন্দোলন শুরু করে বন্দর রক্ষা পরিষদ। এর নেতৃত্বে ছিলেন চট্টগ্রামের বর্ষীয়ান নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরী।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে অপারেটর নিয়োগের জন্য দ্বিতীয় দফায় বাছাই করা ঠিকাদারদের তালিকা এবং গত জুন মাসে আহূত টেন্ডার বাতিল করার আদেশ দেয় একটি রিভিউ প্যানেল।
সোমবার সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) গঠন করা রিভিউ প্যানেল-৩ এর এক রায়ে এ আদেশ দেওয়া হয়। এ আদেশের প্রেক্ষিতে বুধবার শোকরানা মোনাজাতের আয়োজন করে।
মুনাজাত শেষে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামবাসী অন্যায়ের সামনে কখনো মাথা নত করেনি। আগামীদিনেও করবে না।
একটি মহল চট্টগ্রাম বন্দরকে নিঃশেষ করার চক্রান্ত করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের সব বন্দরে মাফিয়ারা অবস্থান করে। চট্টগ্রাম বন্দরকেও একটি মাফিয়া চক্র দখল করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।
বন্দরকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে উল্লেখ করে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, এটা আমাদের সম্পদ। এ বন্দরকে রক্ষা করতে হবে।
‘বন্দর নিয়ে কেউ চক্রান্ত করলেই তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।’
সাইফ পাওয়ারটেককে টেন্ডারে অংশ নেয়ার জন্য যারা সুযোগ করে দিয়েছে তাদের অনুপ্রবেশকারী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, যারা এ কাজ করেছে তাদের একদিন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
বন্দরের অভিজ্ঞ লোকদের বদলি করে করে অযোগ্যদের দিয়ে কাজ করাতে তারা অন্যায় করে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
চট্টগ্রাম বন্দরের ১০টি জেটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক মেয়র বলেন, বন্দরের কাছে টাকা থাকলেও ১০টি জেটির সংস্কার কাজ করা হচ্ছে না। দক্ষ শ্রমিক থাকা সত্ত্বেও অনেক শ্রমিকের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে চাকরিচ্যূত শ্রমিকদের চাকরির দাবিতে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর অনশন ও ৩০ সেপ্টেম্বর অবস্থান ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেন তিনি।
প্রসঙ্গত, নিয়মবহির্ভূতভাবে দরপত্র সংশোধনের অভিযোগ এনে দুটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটর গত মাসে সিপিটিইউর কাছে অভিযোগ দাখিল করে। গত ১৪ আগস্ট ফিলিপাইনের টার্মিনাল অপারেটর ‘ইন্টারন্যাশনাল কনটেইনার টার্মিনাল সার্ভিসেস (আইসিটিএস)’ এবং গত ৩০ আগস্ট যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘দ্য পেনিনসুলার অ্যান্ড ওরিয়েন্ট স্টিম নেভিগেশন কোম্পানি’ (পিঅ্যান্ডও) এ অভিযোগ করে।
জানা গেছে, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই টার্মিনালে অপারেটর নিয়োগে প্রথম দফায় চারটি প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করা হয়। এরপর ওই বছর জুলাইতে মূল দরপত্র বিতরণ করা হয়। কিন্তু দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণের সুযোগের কথা বলে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ দরপত্র প্রক্রিয়া স্থগিত করে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ সময়:১৮ ৪০ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১২
এমইউ, সম্পাদনা: তপন চক্রবর্তী ব্যুরো এডিটর tapan692003@yahoo.com