 |
| ছবি:সোহেল সারোয়ার /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তালসরা দরবার শরীফ থেকে বহুল আলোচিত টাকা লুটের মামলায় র্যাব-৭ এর সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল (বরখাস্ত) জুলফিকার আলী মজুমদার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভের পর বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৬টায় জুলফিকার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে আসেন।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ছগির মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, ‘জামিন আদেশ আসার পর সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে জুলফিকার আলী মজুমদারকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।’
জেলার মাহবুবুল আলম বাংলানিউজকে বলেন, ‘হাইকোর্ট থেকে জামিন আদেশের কপি আজ (বৃহস্পতিবার) কারাগারে পৌঁছেছে। এরপর জুলফিকার আলী মজুমদারকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।’
জুলফিকারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বাংলানিউজকে জানান, গত ১৭ জুন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ জুলফিকার আলী মজুমদারের জামিন মঞ্জুর করেছেন। ২০ জুন এ জামিনের আদেশ সংশ্লিষ্ট আদালতে এসে পৌঁছে। এরপর আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে জামিন আদেশের কপি কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে গত ১৭ জুন জুলফিকার আলী মজুমদারকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিল আনোয়ারা থানা পুলিশ। এ আবেদনের উপর শুনানির জন্য আগামী ২৪ জুন সময় নির্ধারণ করেছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ড আবেদনের সময় নির্ধারণের সঙ্গে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ পারভেজ তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজিরের জন্য প্রটেকশন ওয়ারেন্ট জারি করেছিলেন। কিন্তু হাইকোর্টের জামিন আদেশ আসার পর ওই প্রটেকশন ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার করে তাকে রিমান্ড শুনানির দিন সশরীরে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের আনোয়ারা তালসরা দরবার থেকে গত বছরের ৪ নভেম্বর ২ কোটি সাত হাজার টাকা লুট করে র্যাবের একটি দল।
এ ঘটনায় গত ১৩ মার্চ তালসরা দরবারের গাড়িচালক ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় একটি ডাকাতির মামলা করেন। আসামিদের মধ্যে ১০ জন র্যাব সদস্য ও দু’জন র্যাবের সোর্স।
তারা হলেন- লে. কর্নেল (বরখাস্ত) জুলফিকার আলী মজুমদার, ফ্লাইট লে. শেখ মাহমুদুল হাসান, সুবেদার বাশার, এসআই তরুণ কুমার বসু, এএসআই হাসানুজ্জামান, নায়েক জাহাঙ্গীর হোসেন, ল্যান্স নায়েক লিটন মিয়া, নায়েক সুমন চন্দ্র দে, সৈনিক আশরাফ উদ্দিন, ল্যান্স করপোরাল জসিম উদ্দিন, সোর্স দিদার উল ইসলাম ও আনোয়ার মিয়া।
আসামিদের মধ্যে এর আগে তরুন কুমার বসু, আবুল বাশার ও দিদারুল আলম গ্রেফতার হয়েছেন। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এর মধ্যে গত ৩০ এপ্রিল অভিযুক্ত জুলফিকার আলী মজুমদারকে চাকরিচ্যুত করে সেনাবাহিনী। ওইদিন রাতেই তিনি তার কর্মস্থল আর্মি রিসার্চ ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (আর্টডক) থেকে বের হয়ে আত্মগোপন করেন।
এরপর গত ৩ মে ভোর ৩টার দিকে তাকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার রমনা থানা এলাকায় তার গার্মেন্টস ব্যবসায়ী এক বন্ধুর বাসায় আত্মগোপনরত অবস্থা থেকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানা পুলিশ।
এরপর তাকে কারাগারের অভ্যন্তরে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’দফায় ধারাবাহিকভাবে মোট ১৫ দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন আদালত।
বাংলাদেশ সময়: ১৭ ৫৭ ঘন্টা, জুন ২১, ২০১২
আরডিজি/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর