 |
চট্টগ্রাম: নগরীর বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙ্গে সৃষ্ট মর্মান্তিক ঘটনার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকার ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকতারা ঘটনাস্থলে গেলেও যাননি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)`র চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।
ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হতে চললেও ফ্লাইওভার বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিডিএ`র চেয়ারম্যানের ঘটনাস্থলে না যাওয়া নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই বলছেন, জনরোষের ভয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন না। আবার অনেকে বলছেন, ঘটনার দায় এড়াতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তদবিরের জন্য সবার অগোচরে ঢাকায় ছুটে গেছেন আবদুচ ছালাম।
তবে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে শনিবার রাত থেকে বেশ কয়েক দফা সিডিএ চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একইভাবে সিডিএ চেয়ারম্যান ঘটনার পর থেকে ঘনিষ্ঠ দু`তিনজন সাংবাদিক ছাড়া আর কারও ফোন রিসিভ করছেন না বলে জানা গেছে।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর বহ্দ্দারহাট সংলগ্ন শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়কের বহদ্দার পুকুর পাড় এলাকায় নির্মাণাধীন সিডিএ`র ফ্লাইওভারের তিনিট বড় বড় গার্ডার ধসে পড়ে। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় ১৪ জনের মারা যাবার খবর পাওয়া গেছে।
দুর্ঘটনার পর এলাকার হাজার হাজার উত্তেজিত জনতা রাজপথে নেমে আসেন। তারা প্রকাশে সিডিএ চেয়ারম্যানের পদত্যাগ ও বিচার দাবি করে শ্লোগান দেন। এসময় উত্তেজিত জনতা ফ্লাইওভারের বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী, শ্রমিকদের অস্থায়ী ঘর, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী কার্যালয়, জেনারেটর সহ বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
রাতেই উত্তেজিত জনতা বহদ্দারহাট মোড়ে সিডিএ চেয়ারম্যানের মালিকানাধীন ওয়েল ফুডের শোরুমে আগুন ধরিয়ে দেন। এছাড়া জনতা নগরীর মোহরা এলাকায় সিডিএ চেয়ারম্যানের বাসভবনের সামনেও বিক্ষোভ করেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
দুর্ঘটনাস্থলের শাহ আমানত ডেকোরেটার্সের মালিক হাজী মোহাম্মদ বখতেয়ার বাংলানিউজকে বলেন, `ছালাম সাহেব যদি আসেন, মানুষ আরও বেশি বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠবেন। উনি হয়ত জনরোষে পড়ার চেয়ে না আসাকেই ভাল মনে করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এসে ঘুরে যাবেন।`
ঘটনাস্থলের অদূরের একটি রেস্তোঁরার মালিক মুজিব বাংলানিউজকে বলেন, `ছালাম সাহেব ঘটনাস্থলে না আসলেই ভাল। উনি না এসে যদি পদত্যাগ করেন, তাতেই আমরা বেশি খুশি হব।`
বহদ্দারহাট এলাকার হক মার্কেটের ব্যবসায়ী এস এম ফোরকান বাংলানিউজকে বলেন, `ছালাম সাহেবকে এত মানুষের মৃত্যুর দায় নিতে হবে। মন্ত্রীরা যা-ই বলুক, আমরা তাকে কোনভাবেই এখানে আসতে দেবনা। শুনেছি, তিনি পদ বাঁচাতে ঢাকায় গেছেন, তিনি সেখানেই থাকুন।`
উল্লেখ্য রোববার সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে জনতার তোপের মুখে পড়েন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড.হাসান মাহমুদ। পরিদর্শন শেষে চলে যাবার পথে জনতা মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন কটুক্তি করেন। এছাড়া মন্ত্রী গাড়িতে উঠার পর উত্তেজিত জনতা গাড়ি লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল নিক্ষেপের চেষ্টা করেন। এসময় জনতাকে থামাতে গিয়ে ইটের আঘাতে এক পুলিশ সদস্য আহত হন।
বাংলাদেশ সময়: ১৮০০ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৫, ২০১২
আরডিজি/টিসি