 |
অনুভূতিসমগ্র
১.
প্রতিটি ভোরের ভারাক্রান্ত হৃদয়ে
ছলছল জলে কেঁদে যায় প্রকৃতি।
কখনো মৃদুমন্দ, কখনো সমুদ্রসঙ্গীতে
নীলপদ্মের মতন চেয়ে থাকে নীলাকাশে!
শ্যামল মায়া অবুঝ ছায়ায় গেয়ে চলে
দূর থেকে দূরান্তরের চপল বালিকার প্রেমে,
তার নিটোল পায়ের নূপুর নিক্বণের নুড়িপাথরে!
জলতরঙ্গে বেজে ওঠা রূপকথার পরতে
বালকের নিবিড় আলিঙ্গনে হরিণীর মত চায়,
ভাবনার অন্তরালের গভীর সমুদ্রে হারায়
আর যৌবনের পরাগরেণুতে মাখে প্রেম!
বাসনার উষ্ণতায় জন্ম নেয় এক সুধাসঙ্গীত
যাকে ঘিরে ঘরমুখী হয় সমগ্র সৃষ্টিজগৎ,
সন্ধ্যার আকাশের সকল প্রতীক্ষার অবসানে।
২.
আত্মার অগ্নিগিরির বিস্ফোরণে আজ
বিধ্বস্ত নীলিমায় লালাভ রক্তের মাদল বাজে,
ছিন্নভিন্ন হয় অনুভূতিহীন বসুমতী
স্মৃতিরা আঁচড়ে ক্ষতবিক্ষত করে হৃদয়।
তুষারঝরা বাতাসে আগুনের হল্কা লাগে
নিঃশ্বাসের নির্বিকার নিস্তব্ধতার জমাটখণ্ডে,
কাঁদে কৃষ্ণধূসর-নিরবউষর মৃত্তিকা।
অবুঝ তারুণ্য নিড়িয়ে দেয় আবেগের চারাগুলো;
যাকে শতসহস্রবার কামনা করা যায়
তবু স্পর্শ করা যায়না, রয়ে যায়
অস্পৃশ্যের বৃত্তের অচেতন চিত্তে,
বেদনার অন্তরালের অর্বাচীন প্রাচীনত্বে।
৩.
ঈষদচ্ছ কাগজে অস্বচ্ছ স্মৃতিদের গান,
বিস্মৃত স্মৃতি নামক পাখিদের ফেলে যাওয়া তান!
কালের কালিমায় চাঁদের কলঙ্কের নাটক,
জমে ওঠে রুপোর থালায়,সূর্যের ম্লান রক্তে
ধূসর মৃত্তিকার নৃত্য আঁকা চোরাবালিতে।
চেতনার অচেতন চিত্তে বৃত্তায়ন
বিপ্রতীপ বক্রতায় বয়ে চলা জীবন,
পূর্ণযৌবন স্রোতের শ্রোতা নির্বাক সম্মোহন!
নিষ্ঠুর মৃত্যুতে স্তব্ধ সুরের প্রজ্বলন।
জীবন-মরণ-সময়ের রঙ্গমঞ্চে
কালের খেয়ার নিভৃত অঞ্চলে,
চঞ্চল ইতিহাসের চোখ ভরা জল,
যে জলে জলাঞ্জলি যায় ঈশ্বরের পদতল!
৪.
সোনাঝরা আকাশের সুবর্ণ রঙধনু
ভেসে ওঠে বাস্পপাত্র চূর্ণায়িত আকাশপটে,
আরক্ত যৌবন রসে প্রতিফলিত অবয়বে
মৃত্তিকার অব্যক্ত কাতর কামনায়।
সেই ধারা প্রবাহিত হয় আমার মজ্জায়
শীৎকারে স্তম্ভিত ধরণীর বক্ষের অলক্ষে!
চন্দনফোঁটায় ঝরা অম্লের মতন ঘামে
জেগে ওঠে রক্তের মাতাল ঋত্বিক,
হু-হু বাতাস হুতাশ ঝরায় দখিন সমীরণে।
নিভৃতচারী কপট অভিমানের পত্রপুটে
আঁকা থাকে তরঙ্গায়িত স্রোতের উল্লাসে,
প্রেমপ্রতিমার শৈল্পিক পৈঠার আখ্যানতটে!
বাংলাদেশ সময়: ১৪১৭ ঘণ্টা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১২