জেদ্দা: মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল জেদ্দা শাখার উদ্যোগে মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিল সম্প্রতি জেদ্দার এক অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল জেদ্দার চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) তাজুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেদ্দাস্থ কনস্যুলেট কনসাল মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন মিন্টু, শেখ বাবুল হোসেন, কাজী আমিন আহমেদ, মমতাজ হোসেন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন প্রমুখ।
প্রধান অতিথি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) তাজুল ইসলামকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল জেদ্দার ব্যাজ পরিয়ে দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন মিন্টু। এসময় নিজের লিখা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই রণাঙ্গন ৭১ প্রধান অতিথির হাতে তুলে দেন কমান্ডার মোহাম্মদ আবুল কাশেম। প্রধান অতিথিকে ফুল দিয়ে বরণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মঈনুদ্দিন ভূঁইয়া রবীন ও ছাত্রনেতা ফজলুল হক প্রমুখ।
এছাড়া সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথিকে ফুল দিয়ে বরণ করেন কেএইচএম শাহজাহান এবং কাজী শাফায়েত হোসেন। প্রধান অতিথিকে জেদ্দা থেকে প্রকাশিত সাহিত্য সাময়িকী রোদ্দুর এর কপি উপহার দেন সম্পাদক আবুল বাশার বুলবুল।
এছাড়াও প্রধান অতিথিকে বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতি জেদ্দার স্মরণিকা উপহার দেন সংগঠনের উপদেষ্টা মীর কাশেম মজুমদার এবং কাজী নেয়ামুল বশির।
কনসাল মিজানুর রহমান তার বক্তৃতায় জেদ্দায় সামাজিক অঙ্গনের সম্প্রীতির প্রশংসা করেন এবং প্রবাসে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখার স্বার্থে সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) তাজুল ইসলাম প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকরাবদ্ধ বলে উল্লেখ করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এখন থেকে সম্মানি। প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার অধিকার রয়েছে এ সম্মানি পাওয়ার। এটি মুক্তিযোদ্ধার প্রতি দয়া নয়, বরং সম্মান।
বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে বের করে তাদের পুনর্বাসনে যথাসাধ্য কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তাজুল ইসলামি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সূর্য সন্তান। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার প্রতিও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
সভাপতির বক্তৃতায় কমান্ডার মোহাম্মদ আবুল কাশেম দেশে অস্বচ্ছল, অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে বের করতে গ্রামে গ্রামে তৎপরতা চালানোর আহ্বান জানান। তিনি জেদ্দার সামাজিক অঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টির কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশ থেকে আসা আমাদের নেতৃবৃন্দের এ ব্যাপারে সজাগ থাকা বাঞ্ছনীয়। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিতির জন্যে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, কনসাল, বিশেষ অতিথিবৃন্দ এবং সুধীজনদের ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন প্রবীণ ছাত্রনেতা মার্শাল কবির পান্নু এবং ইসমাইল হোসেন।
বাংলাদেশ সময়: ২২০০ ঘণ্টা, ১৩ আগস্ট, ২০১২
সম্পাদনা: আহ্সান কবীর, আউটপুট এডিটর