 |
ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করা হয়েছে।
২০১১ সালের এ মানবাধিকার বিষয়ক এ প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা অযথা গ্রেফতার, নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু, নির্যাতনের ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে সমালোচনা করা হয়েছে।
ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানায়, বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন সময় সকাল সাড়ে এগারোটায় (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে নয়টায়) যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দফতর বাৎসরিক মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারে ৪৩ পৃষ্ঠার বিস্তারিত পরিসরের এ প্রতিবেদনের সাতটি বিভাগে এদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের বিবরণ এবং মানবাধিকারের মানদণ্ডের সঙ্গে পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনের মুখবন্ধেই এদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চরম সমালোচনা করে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের খুবই উল্লেখযোগ্য মানবাধিকার সমস্যা হলো নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা নির্যাতন ও হত্যা।’
নিরাপত্তা বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী বাংলাদেশে সংঘটিত নিখোঁজ, নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু, অযথা গ্রেফতার, রিমান্ডে জীবনের হুমকি এবং দীর্ঘদিনের রিমান্ডের সঙ্গে জড়িত।’
বাংলাদেশের গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতা দিয়েছে সরকার, যেখানে স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ চালু রয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনী বাংলাদেশের সাংবাদিকদের হয়রানি করে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ‘দায়মুক্তি’ (ইমপিউনিটি) মারাত্মক সমস্যা হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে বলা হয়, বিশেষ করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব) এই দায়মুক্তি পেয়ে থাকে।
নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মৃত্যুর (কিলিং) ঘটনায় সরকার সমন্বিত কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি।
প্রতিবেদনে র্যাবের হাতে নিখোঁজ হওয়া দুইজন ব্যক্তির এখনো খোঁজ না পাওয়ার কথা বলা হয়। এরা হলেন, বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম ও ঢাকার উত্তর শাহজাহানপুরের চাকরিজীবী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার সংস্থার সূত্র দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গত বছর র্যাবের হাতে ৪৩ জন মারা গেছেন। এর আগের বছর মৃত্যু হয় ৬৮ জনের।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৪ সাল থেকে বিচারবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ডের জন্য কোনো র্যাব কর্মকর্তার বিচারের কথা প্রকাশ করেনি সরকার।
বাংলাদেশের বিচারবিভাগে সরকারের রাজনীতিকরণকে একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।
সরকার এখানে সংসদের স্বাধীনতাও খর্ব করেছে, যেখানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সন্ত্রাস এখনো একটি সমস্যা।
বহুল-বিস্তৃত সরকারি পর্যায়ের (অফিসিয়াল) দুর্নীতি মারাত্মক একটি সমস্যা বলেও উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও নারীর প্রতি সামাজিক সহিংসতা ও বৈষম্য দূর হয়নি।’
শিশুদের প্রতি সহিংসতা এবং প্রতিবন্ধীদের প্রতি বৈষম্য মারাত্মক সমস্যা হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়।
এছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে (যুক্তরাষ্ট্রের ভাষায় ইনডিজেনাস) সামাজিক সহিংসতা থেকে রক্ষায়ও শেখ হাসিনার সরকার ব্যর্থ উল্লেখ করে বলা হয়, ‘ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা সামাজিক সহিংসতার শিকার হয়েই চলেছেন।’
বাংলাদেশে শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রিত অধিকার এবং শিশুশ্রম ও অনিরাপদ শ্রম-পরিবেশ এখনো সমস্যাই রয়ে গেছে।
এদিকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের সহিংসতার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২০১১ সালে সীমান্তে ৩১ জনের মৃত্যুর ঘটনার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ০০৩২ ঘণ্টা, মে ২৫, ২০১২
একেআর/সম্পাদনা: রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর