 |
ঢাকা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে ‘তৃতীয় শ্রেণীর মাস্তান’ বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাস্তানি করার জন্য যুবলীগ-ছাত্রলীগকে উস্কে দিচ্ছেন। তার বক্তব্য ও কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে, তিনি একজন তৃতীয় শ্রেণীর মাস্তান।
রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৮ দলীয় জনসভা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার এসব কথা বলেন খোকা। আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের বাধা, সন্ত্রাস, জুলুম-নির্যাতনের কারণে বিএনপিসহ ১৮ দলের অনেক নেতাকর্মী বুধবারের জনসভায় আসতে পারেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সাদেক হোসেন খোকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘‘এ রকম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমরা অনেক দেখেছি। ঢাকার রাজপথে সেনা ট্যাংক দেখেছি। এসব করে কোনো লাভ হবে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়াবো। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে আমরা যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।’’
একই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ অভিযোগ করেন, বুধবারের জনসভার আগে ও জনসভায় আসার সময় পুলিশ প্রশাসন ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় ২ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশ গ্রেফতার করেছে ৭০ জন নেতাকর্মীকে। বুধবার রাতে যুবদল সভাপতি আলালের ওপর হামলার জন্যও সরকারি দলকে দায়ী করেন রিজভী।
সাদেক হোসেন খোকা এভাবে গণতান্ত্রিক সমাবেশে বাধা দেওয়া সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর করা ‘বাংলাদেশ গণতন্ত্রের রোলমডেল হতে পারে’ মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত-শিবিরের নাম দিয়ে বিএনপি ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও গ্রেফতার করছে সরকার। এটিকে আগুন নিয়ে খেলা বলে উল্লেখ করে এর পরিণাম ভালো হবে না বলে মন্তব্য করেন খোকা।
নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের জনদাবি সরকারকে মানানোর জন্য এ দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যা যা করার, তা বিএনপিসহ ১৮ দল করবে বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক এই মেয়র।
জামায়াত প্রসঙ্গে খোকা আরো বলেন, ‘‘জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে আমরা শতভাগ একমত নই। তবে জামায়াত একটি নিবন্ধিত দল। তাদেরও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে, কথা বলার অধিকার রয়েছে, সভা-সমাবেশ করার অধিকার রয়েছে।’’
তবে জামায়াতকে যদি নিষিদ্ধ করা হয়, সেটি সরকারের নিজস্ব ব্যাপার বলে মন্তব্য করেন তিনি। খোকা বলেন, ‘‘জামায়াত আগে পুলিশকে মেরেছে, না পুলিশ আগে জামায়াতকে মেরেছে, সেটা দেখতে হবে। যদি জামায়াত আগে পুলিশের ওপর হামলা চালায় বলে প্রমাণিত হলে আমরা সরকারের পক্ষে থাকবো।’’
জামায়াতের প্রেস ক্লাবের সমাবেশে পুলিশ ইচ্ছে করে আগে হামলা চালিয়েছে, নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছে বলে অভিযোগ করে খোকা আরো বলেন, ‘‘দাড়ি-টুপি দেখলেই হামলা-মামলা, গ্রেফতার করা হলে আমরা বসে থাকবো না।’’
রুহুল কবির রিজভী আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে পরিসংখ্যান তুলে ধরে অভিযোগ করেন, ১৮ দলের জনসভাকে কেন্দ্র করে ঢাকার কলাবাগান থানা এলাকায় ১২ জন, নিউমার্কেট থানা এলাকায় ১৭ জন, তেজগাঁও থানা এলাকায় ২৭ জন ও কেরাণীগঞ্জে ৭ জনসহ সারা দেশের ৭০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জনসভার আগের দিন গ্রেফতার করা হয় জিয়া পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি ডা. শফিকুল ইসলাম শফিককে। পুলিশি হামলায় কেরাণীগঞ্জে ১৫ জন, শনির আখড়ায় ১০/১২ জন, কিশোরগঞ্জে ২২ জন নেতাকর্মীসহ সারা দেশের ২ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
ঢাকার গাবতলী, আমিনবাজার, যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, টঙ্গি জয়দেবপুর, মাওনা, কাঁচপুর, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন স্থান দিয়ে জনসভায় আসার সময় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় পরিণতি হবে ভয়াবহ।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা শিরিন সুলতানা, ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ১২৫৩ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৯, ২০১২
এমএম/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর- eic@banglanews24.com