মোড়েলগঞ্জ (বাগেরহাট): পূর্ব সুন্দবনের চাঁদপাই রেঞ্জের অধীনে কয়েকটি ফরেস্ট অফিস ও টহল ফাঁড়িতে রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার পশুর ও সুন্দরী কাঠ।
বনবিভাগ ও কোস্টগার্ডের জব্দ করা এসব কাঠ জমা রাখা হয়েছে ক্যাম্প ও টহল ফাঁড়িতে। এর মধ্যে ৯৯ ভাগই সুন্দরী কাঠ। বাকিগুলো পশুর, গরান, গেওয়া ও অন্যান্য জাতের।
সরেজমিনে দেখা যায়, চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর, আমরবুনিয়া, কলমতেজী, বরইতলা, বৌদ্ধমারী, জিউধরা, শরণখোলা রেঞ্জ অফিসসহ এলাকার অন্যান্য ক্যাম্প ও অফিসগুলোয় হাজার হাজার ঘনফুট কাঠ স্তুপ আকারে পড়ে আছে।
মৌসুমী বৃষ্টি ও রোদে এ কাঠ পঁচে মিশে যাচ্ছে মাটিতে। উল্লিখিত অফিসগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র গুলিশাখালী টহল ফাঁড়িতেই প্রায় ৬ হাজার ঘনফুট ও জিউধরা স্টেশন অফিসে প্রায় ৩ হাজার ঘনফুট জব্দকৃত কাঠ রয়েছে বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন স্টেশন অফিসার আলমগীর হোসেন ও আব্দুর রশিদ। যার মূল্য অন্তত ৫৪ লাখ টাকা।
স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, বছরের পর বছর ধরে জব্দকৃত এ কাঠ অবহেলায় পড়ে থাকায় এর অর্ধেকই এখন আর কোনো কাজে আসবেনা।
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা বন কর্মকর্তা মিহির কুমার দো বাংলানিউজকে জানান, চোরাকারবারীদের নিয়ন্ত্রণের জন্য ২০০৯ সাল থেকে নিলাম বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে। সে কারণে জব্দকৃত কাঠ বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। শুধুমাত্র সরকারি প্রয়োজনে এ কাঠ ব্যবহার করা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জাতীয় সম্পদ সুন্দবন রক্ষার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে নিলাম বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত যে উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে, বাস্তবে তা হচ্ছে না। নিলাম বিক্রয় বন্ধ করে শুধুই পঁচানো হচ্ছে কোটি কোটি টাকার কাঠ। বন্ধ হয়নি কাঠ পাঁচার। প্রতিনিয়তই চোরাকারবারীরা সুন্দরবন থেকে বিভিন্ন সাইজ ও জাতের কাঠ কেটে বিক্রি করছে প্রকাশ্যে।
মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা ও আশপাশের এলাকার কাঠ ব্যবসায়ীদের দোকানে অহরহ চোখে পড়ছে সুন্দরবনের কর্তন নিষিদ্ধ ওইসব কাঠ। এ এলাকার ইটভাটাগুলোতেও অবাধে পোড়ানো হচ্ছে সুন্দরবনের সুন্দরী, গরান, গেওয়া ও বাইন কাঠ।
ইটভাটা মালিকরা চোরাকারবারীদের অগ্রীম টাকা দিয়ে কাঠ সংগ্রহ করছেন। নৌকায় এবং টমটমে করেই বেশিরভাগ কাঠ বন সংলগ্ন এলাকা থেকে আনা হয়। এ কাঠ কাটা ও পাঁচারের সঙ্গে একশ্রেণীর বনরক্ষী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরাসরি জড়িত।
তারা সরবরাহকারী, মজুতদার, ব্যবসায়ী ও ভাটা মালিকদের কাছ মাসোহারা আদায় করেন বলে অনুসন্ধানে জানাগেছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোড়েলগঞ্জের খাল, বিল, পুকুর, নদী ও দোকান থেকে বিভিন্ন সময় বনবিভাগ ও কোস্টগার্ড কাঠ জব্দ করতে পারলেও কোনো চোরাকারবারী ধরা পড়ে না। যার দখল বা দোকান থেকে কাঠ উদ্ধার হয় তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়না।
বাংলাদেশ সময়: ২০১৬ ঘণ্টা, মে ৩১, ২০১২
সম্পাদনা: রোকনুল ইসলাম কাফী, নিউজরুম এডিটর