 |
ঢাকা: ‘আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে/হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।’ কিংবা সোনালি কাবিন কবিতায়- ‘বধূবরণের নামে দাঁড়িয়েছে মহামাতৃকুল/গাঙের ঢেউয়ের মতো বলো কন্যা কবুল কবুল।’ আবার ‘আম্মা বলেন, পড়রে সোনা/ আব্বা বলেন, মন দে/পাঠে আমার মন বসে না/কাঁঠালচাঁপার গন্ধে।’
এমন অসংখ্য কালজয়ী কবিতা ও শিশুতোষ কবিতার স্রষ্টা, আবহমান বাংলা ও বাঙালি ঐতিহ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপকার, দেশের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদের ৭৭তম জন্মদিন আজ বুধবার।
১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার মৌড়াইল গ্রামের মোল্লাবাড়ির ব্যবসায়ী ও সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম আল মাহমুদের।বাংলাদেশ, স্বাধীনতা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সমান্তরালে আল মাহমুদ নিজেকে নিয়ে আসতে পেরেছেন।
কবিতা নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ বুধবার মগবাজারে কবির ফ্ল্যাটে জন্মদিন উদযাপিত হবে। এতে দেশের বরেণ্য কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা কবিকে শুভেচ্ছা জানাবেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কবি আসাদ চৌধুরী। এছাড়া ১৪ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের আয়োজনে বিকেল ৩টায় কবির জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তী কবি আল মাহমুদের বর্ণমালার পাঠ শুরু হয় দাদি বেগম হাসিনা বানু মীরের কাছে। ভাষা আন্দোলনের সময় নিয়াজ মোহাম্মদ হাইস্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র থাকা অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় ভাষা আন্দোলন কমিটির লিফলেটে তার কবিতা ছাপা হলে পুলিশ তাকে খুঁজতে থাকে। সে সময় ভাষার মিছিলে গলায় হারমোনিয়াম ঝুলিয়ে আল মাহমুদের কবিতা গান হিসেবে গাওয়া হতো।
লেখালেখি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য তিনি ঢাকায় আসেন ১৯৫৪ সালে। চাকরি নেন দৈনিক মিল্লাতে। ১৯৫৫ সালে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায় আল মাহমুদের কবিতা ছাপা হলে বাংলা সাহিত্যে সাড়া পড়ে যায়। ১৯৬৩ সালে দৈনিক ইত্তেফাকে যোগ দেন প্রুফ রিডার হিসেবে। সে বছর বন্ধুজন কাইয়ুম চৌধুরী, আসাদ চৌধুরী, হাশেম খান, রফিক আজাদের সহায়তায় কপোতাক্ষ থেকে আল মাহমুদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘লোক লোকান্তরে’ প্রকাশিত হয়।
আল মাহমুদ তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘সোনালি কাবিন’ এর ১ নম্বর সনেটটি চট্টগ্রামে বসে লেখেন। ১৯৬৮ সালে তিনি বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৭২ সালে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের বিশ্বাসীদের মুখপত্র এবং সরকারবিরোধী একমাত্র রেডিক্যাল পত্রিকা ‘গণকণ্ঠ’ বের হলে তিনি এর সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গণকণ্ঠ সেই সময় ব্যাপক হৈ চৈ ফেলে দেয়।
তার লেখা বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘সোনালি কাবিন’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। ১৯৭৫ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে শিল্পকলা একাডেমীর সহকারী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেন। এ সময় তার গল্পগ্রন্থ ‘পানকৌড়ির রক্ত’ প্রকাশিত হয়।
১৯৮৪ সালে কলকাতা থেকে কবিতার জন্য কাফেলা সাহিত্য পুরস্কার এবং ছোটগল্পের জন্য বাংলাদেশে হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কারে ভূষিত হন। ১৯৮৬ সালে কবিতায় রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদক পান।
তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা চল্লিশের বেশি। উপন্যাস বিশটি এবং গল্পগ্রন্থ দশটির মতো। এছাড়াও তিনি শিশুসাহিত্য, সম্পাদনা এবং প্রবন্ধের বই লিখেছেন। দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতা নিয়েও তিনি ডিকটেশনের মাধ্যমে নিয়মিত লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ সময়: ঘণ্টা, জুলাই ১১, ২০১২
সম্পাদনা: আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com