ঢাকা: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) লোকসান বাণিজ্য হয় দাঁড়িয়েছে ক্রিকেট বোর্ডের জন্য। স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে এখনপর্যন্ত কানা কড়িও পায়নি বিসিবি। উল্টো খাজাঞ্চি থেকে বেরিয়ে গেছে কোটি কোটি টাকা।
এ বছর বিপিএল থেকে বিসিবির আয় হওয়ার কথা ছিল প্রায় ৪০ কোটি টাকা। গেম অন স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে প্রথম বছর যে চুক্তি হয়েছিল, সে হিসেবে এই টাকা পাওয়ার কথা বোর্ডের। কিন্তু অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং গেম অন স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি হয়। এই চুক্তিতে কিছু দায়িত্ব নিজেদের ঘাড়ে নিয়ে অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। যার মাসুল দিতে হচ্ছে প্রতি পদে পদে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি তোলার দায়িত্ব ছিল গেম অন স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের। নতুন চুক্তিতে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল নিয়েছে সে দায়িত্ব। সে হিসেবে সাত ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে ২২ কোটি টাকা পাওনা বোর্ডের। এর বিপরীতে কোনো ব্যাংক গ্যারান্টিও পায়নি সাত ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাছ থেকে। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক এনিয়ে আক্ষেপই করলেন,‘ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি‘র ২২ কোটি টাকা বোর্ডের তোলার কথা। এখান থেকে এক টাকাও আমরা পাইনি। বাকি টাকা পাব গেম অন স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের কাছে। তারাও টাকা দেয়নি। ১৫ কোটি টাকার একটি ব্যাংক গ্যারান্টি দিবে। তাদের দাবি পাকিস্তানি ক্রিকেটার না আসায় বিজ্ঞাপনের ক্ষতি হয়েছে। আল জাজিরার কাছে ফিড বিক্রি করতে পারেনি। এসবের জন্য ছাড় চাচ্ছে তারা। আমরা গেম অনকে লিখিত দিতে বলেছি। এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবে বোর্ড।’
বিপিএল প্রথম আসর থেকে ৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা আয় করেছে বিসিবি। লোভনীয় বিপিএল বাণিজ্য দ্বিতীয় আসরেই লোকসানের বোঝায় পরিণত হয়েছে। এমনিতে প্র্যাপ্য টাকা পাচ্ছে না তারওপর খেলোয়াড়দের সম্মানীর জামিনদার বিসিবি। ফ্র্যাঞ্চাইজিরা টাকা না দিলে সর্বোচ্চ চুক্তি বাতিল করতে পারবে বোর্ড। ফ্র্যাঞ্চাইজি নিলাম করে যে টাকা পাওয়া যাবে; তার চেয়েও বেশি অর্থ লাগবে ক্রিকেটারদের সম্মানী দিতে। এ অবস্থায় আম ছালা দুটোই হারাতে বসেছে বোর্ড।
বাংলাদেশ সময়: ২১৪২ ঘণ্টা, ১৯ মে ২০১৩ এসএ/এফএইচএম
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।