 |
ঢাকা: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য করতে কি ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হবে তা ঠিক করতে চলতি মাসের (আগস্ট) শেষ সপ্তাহে দলের স্থায়ী কমিটির নেতাদের নিয়ে বৈঠক বসবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
ওই বৈঠকে শুধু আন্দোলন কর্মসূচিই নয়, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্দলীয় সরকারের ফরমেট (রূপরেখা) নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।
তবে যে নামেই ডাকা হোক না কেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নিবার্চনের দাবিতেই অটল থাকবে বিএনপি। আর এ ধরনের সরকারের নাম কি হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হবে স্থায়ী কমিটির আসন্ন বৈঠকে। এমনকি বিরোধী দলের দাবি নিশ্চিত হলে নির্দলীয় সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা কfরা হবেন, তা নিয়েও আলোচনা করবেন বিরোধী দলের নেতারা।
ওই বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের পক্ষে ব্যাপক জনমত গড়ে তোলার বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে। যদিও শুরুতেই কঠোর আন্দোলনে না গিয়ে ধাপে ধাপে সরকার পতনের আন্দোলন জোরদার করার সিদ্ধান্ত একপ্রকার নিয়েই রেখেছে বিএনপি। তবুও এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করবে হাইকমান্ড।
এরপর ১৮ দলের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি।
সূত্রমতে, ক্ষমতাসীনদের নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করতে জনসভা, পথসভা, গণসংযোগ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে চায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দল।
তবে জনদুর্ভোগ বাডবে, এমন কোনো কর্মসূচি বিএনপি সহজে দেবে না বলেও জানিয়েছেন দলটির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা।
বিএনপির হাইকমান্ড মনে করে, ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দিয়ে জনগণের বিরাগভাজন হওয়ার চেয়ে সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে সরকারের দুনীর্তি, লুটপাট ও চাঁদাবাজির খতিয়ান তুলে ধরলে জনসমর্থন বাডবে বিএনপির। তাই ঈদের পরও এ কৌশল নিয়েই এগুতে চায় বিএনপি ও ১৮ দল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক প্রবীণ নেতা বাংলানিউজকে বলেন, “বিএনপি ধ্বংসাত্মক কোনো কর্মসূচি দেবে না।”
বিএনপির জনসমর্থন বাড়াতে গনসংযোগ, সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বেশ কয়েকটি টিমের থানা, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় শহরে ঝটিকা সফরের মাধ্যমে সরকারের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরা হবে বলে বাংলানিউজকে জানান ওই নেতা।
এছাড়া ঈদের পর আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে টাঙ্গাইল, রাজবাড়ী ও কিশোরগঞ্জ জেলায় সমাবেশ করার কথা রয়েছে বিএনপির। এসব সমাবেশে খালেদা জিয়ার প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ারও কথা রয়েছে।
এর পর ঢাকার আশপাশের জেলা মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও নরসিংদী সফর করবেন বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া। তিনি এ সব জেলায় সমাবেশে বক্তব্যও রাখবেন।
ঢাকা ও তার আশপাশের জেলা এবং নাটোর ও রাজবাড়ী জেলায় সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে খালেদা জিয়ার এসব জনসভা করার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ওই নেতা বলেন, “ঈদের পরের বৃহস্পতিবার (চলতি মাসের শেষ দিকে ) বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।
এদিকে অপর এক সূত্র জানায়, থানা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যন্ত ঝটিকা সফর ও পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, জনগণের সঙ্গে বিএনপির সম্পৃক্ততা বাড়ানো।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলানিউজকে বলেন, “বিএনপি ধ্বংসাত্মক রাজনীতি পছন্দ করে না। এ দলটি জনগণ ও দেশের জন্য রাজনীতি করে। তাই জনগণের ক্ষতি হবে এমন কর্মসূচির পক্ষে বিএনপি প্রধান নন।”
তিনি বলেন, “তারপরও ঈদের পরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে হবে দল কি কর্মসূচি দেবে সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের রুপরেখার কিছু নেই। আওয়ামী লীগ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের ঘোষণা দিলেই প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।”
তিনি বলেন, “সরকার যতোক্ষণ না নির্দলীয় সরকারের ঘোষণা দেবে ততোক্ষণ পর্যন্ত জনগণের আন্দোলন চলবে। সেই চূড়ান্ত আন্দোলনের সিদ্ধান্ত হবে বিএনপির নীতি-নির্ধারকদের বৈঠকে।”
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সরকারের অন্যায়, অত্যাচার-অপকর্ম, নির্যাতন-জুলুমের চিত্র তুলে ধরতে জনসভা, পথসভা ও গণসংযোগ করা হবে।”
তিনি বলেন, “সরকার দুনীর্তি ও লুটপাটের যে মহোৎসব চালাচ্ছে, তার খবর সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বিএনপির অন্যতম কাজ।”
বাংলাদেশ সময়: ১৯৫০ ঘণ্টা, আগস্ট ১৯, ২০১২
এআর/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর