 |
ঢাকা: পদ্মাসেতুর দুর্নীতি নিয়ে সরকারকে দেওয়া বিশ্বব্যাংকের চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনসহ অনেক মন্ত্রীর নাম রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর এ কারণেই নিজেদের অর্থায়নে সেতু নির্মাণের কথা বলে প্রধানমন্ত্রী নিজেদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়া আদর্শ সংসদ (জিআস) আয়োজিত ‘পদ্মাসেতু নির্মাণে দুর্নীতি, বিশ্বব্যাংকের চুক্তি বাতিল, আর্থিক সংকটে বাংলাদেশ এবং সর্বক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় দেওয়া বক্তৃতায় তিনি এ দাবি ও অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, “পদ্মাসেতুর দুর্নীতি নিয়ে সরকারকে দেওয়া বিশ্বব্যাংকের চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনসহ অনেক মন্ত্রীর নাম রয়েছে। সে কারণেই নিজেদের অর্থায়নে সেতু নির্মাণের কথা বলে প্রধানমন্ত্রী নিজেদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন।”
“পদ্মাসেতু নির্মাণে সরকারের মিথ্যা আশ্বাসে পুরো জাতি আজ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে” মন্তব্য করে
মির্জা ফখরুল বলেন, “পদ্মাসেতুর দুর্নীতিতে প্রধানমন্ত্রী তার পরিবারের সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করলেও বিদেশি সংবাদমাধ্যমে তার পরিবারের ঘনিষ্ঠদের জড়িত থাকার বিষয়ে কানাঘুষা চলছে।”
সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অঙ্গভঙ্গী তার দুর্বলতা প্রমাণ করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফখরুল বলেন, “বর্তমান সরকার আমাদের অর্থনীতি নিয়ে ছেলে খেলা করে দিনে দিনে জনগণকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।”
সরকারকে গণতান্ত্রিক পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে পদ্মাসেতুর দুর্নীতি নিয়ে সরকারকে দেওয়া বিশ্বব্যাংকের চিঠিগুলো জনগণের সামনে প্রকাশেরও দাবি জানান তিনি। অন্যথায় নৈতিকতার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, “দুর্নীতিতে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে সরকার। এ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে।”
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেই সুকৌশলে জনগণের নজর ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সরকার দক্ষ বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।
দুদকের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম মনজুর আলম বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হওয়ার পরই দুদক তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্তে নেমেছে। তারা কেন এটা করছে জনগণ তা ভালো করেই জানে।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “সরকারের সাড়ে তিন বছরে ইলিয়াস আলী ছাড়াও ১৩০ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী গুম হয়েছেন। নির্যাতনের শিকার হয়েছেন হাজার নেতা-কর্মী। আর সে কারণেই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদিও এতে সরকারের কিছু মন্ত্রীর মাথা খারাপ হয়ে গেছে।”
সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, “জনগণের পকেটের টাকা লুটের জন্যই নিজেদের অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণের কথা বলছে সরকার। অর্থায়ন বড় বিষয় নয়, বরং এই অর্থ কতোটা স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন হবে সেটাই মুখ্য।”
আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা টিএম গিয়াসউদ্দিন, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, নিলুফার চৌধুরী মনি প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৩৯ ঘণ্টা, জুলাই ১০, ২০১২
এমএম/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর