 |
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন স্টেশনের নিজস্ব জায়গায় ‘মেসার্স জারিফ ট্রেডার্স’ নামে স্থায়ীভাবে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ।
অনেকদিন ধরে রেলের জায়গা দখল করে থাকলেও রেল থেকে কোনো অনুমতি বা ব্যবস্থাপত্র নেননি তিনি। এরপরও ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ায় রেলের লোকজনও তাকে কিছু বলতে সাহস পান না।
শুধু আবুল কালাম আজাদই নন, স্থানীয় যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগের নেতারাও বহুদিন ধরে রেলের জমি অবৈধভাবে ভোগদখল করে আসছেন। ক্ষমতাসীন দলের এসব নেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রভাবশালীরাও রেলের জায়গা-জমি ইচ্ছা মতো দখলে রেখেছেন।
ফলে এ রেলস্টেশনের প্রায় ৮০ একর জমি অবৈধ দখলদারদের দখলে চলে গেছে। এসব দখলদারের হাত থেকে রক্ষা পায়নি স্টেশনের প্লাটফর্মের ভেতরের জায়গাও। রেলের জমিতে স্থায়ীভাবে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের জন্য ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে গৌরীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদকে প্রশ্ন করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি।
তবে তিনি বলেছেন “১০ বছর আগে গাঁও গৌরীপুর এলাকার কাশেমের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকায় এ জায়গার ‘পজেশন’ কিনেছি। রেল থেকে কোনো অনুমতি বা ব্যবস্থাপত্র নিতে হয়নি।”
ময়মনসিংহ গৌরীপুর জংশন স্টেশন সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ থেকে জারিয়া, মোহনগঞ্জ, ভৈরব হয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রেলপথে গৌরীপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশন স্টেশন। ২৪ ঘণ্টায় গৌরীপুরের ওপর দিয়ে ২২টি যাত্রীবাহী রেল হাজার হাজার যাত্রী নিয়ে চলাচল করে।
এলাকাবাসী জানান, এ স্টেশনের বেহাত হওয়া জায়গা-জমির পরিমাণ প্রায় ৮০ একর। এসব দখলবাজীতে সহায়তার জন্য গৌরীপুর স্টেশনের স্থানীয় ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (কার্য) নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এ রেলস্টেশনের ২টি বিশ্রামাগার রেল পুলিশ ও ভাঙারি ব্যবসায়ীদের দখলে। প্ল্যাটফর্মের ভেতরেই কমপক্ষে ১০ থেকে ১২টি স্থাপনা রয়েছে। একইভাবে স্টেশনের বাইরে স্থাপনা নির্মাণ ও জায়গা নিয়ে চলছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের জমি দখলের প্রতিযোগিতা।
দেখা গেছে, প্লাটফর্মের জায়গা দখল করে গেস্টহাউস নির্মাণ করেছেন গৌরীপুর পৌর কৃষক লীগ নেতা মতিউর রহমান মতি। স্টেশন মাস্টার ও টিকেট বুকিং অফিসের সামনে ছাত্রলীগ কর্মী রাসেল জায়গা দখল করে স্টেশনারি দোকান দিয়েছেন। পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রব মোস্তাকিম ও জেলা যুবলীগ সদস্য কামাল হোসেন যৌথভাবে রেলের জায়গা দখল করে স্থায়ীভাবে ঘরবাড়ি ভাড়া দিয়েছেন।
দখলবাজীর বিষয়ে পৌর কৃষক লীগ নেতা মতিউর রহমান মতি বাংলানিউজকে বলেন, “রেল বিভাগ থেকে জায়গা বরাদ্দ নিয়েছি।”
ছাত্রলীগ কর্মী রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
দখলের বিষয়ে জেলা যুবলীগের সদস্য কামাল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, “আমার নিজস্ব জায়গার সঙ্গে রেলের মাত্র ১০ হাত জমি দখলে রয়েছে। এটাকে অবৈধ দখল বলা চলে না।”
এসব বিষয়ে গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জয়ন্ত মজুমদার বাংলানিউজকে বলেন, “আমি কিছু বলতে পারবো না। ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (কার্য) স্যারের সঙ্গে কথা বলেন।”
উল্লেখ্য, গৌরীপুরে রেলের সম্পদ ও সম্পত্তি দখলের বিষয়ে লাখ লাখ টাকা নিয়ে দখলবাজদের সহায়তার জন্য স্থানীয় এলাকাবাসী গৌরীপুর রেলস্টেশনের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (কার্য) নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি স্টেশন চত্বরে সমাবেশ করেছিলেন।
এ বিষয়ে গৌরীপুর রেলস্টেশনের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (কার্য) নুরুন্নবী সব অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলানিউজকে বলেন, “এসবের সঙ্গে আমি জড়িত না। তাছাড়া রেলের জমি সংক্রান্ত বিষয় দেখার দায়িত্ব আমার নয়। এটা স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাজ।”
বাংলাদেশ সময়: ১৩৩৮ ঘণ্টা, ১১ আগস্ট, ২০১২
সম্পাদনা: প্রভাষ চৌধুরী, নিউজরুম এডিটর; আহ্সান কবীর, আউটপুট এডিটর