 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: দেশে ফিরে নাসির হোসেনের মনে পড়ে আয়ারল্যান্ডে পাওয়া ম্যাচ সেরার ক্রেস্টটি ফেলে এসেছেন। কোথায় ফেলে এসেছেন তা মনে করতে পারছেন না। সে জন্য একটু মন খারাপ। এই একটি বিষয় বাদ দিলে খুব ভালোই আছেন অলরাউন্ডার নাসির হোসেন।
জিয়াউর রহমান সন্ধ্যার পরে রিক্সায় করে কোথাও যাচ্ছিলেন। তিনিও মোবাইলফোনে জানালেন, সব মিলে ইউরোপ সফরটি ভালোই হয়েছে। তামিম ইকবালের জন্য খুবই ভালো একটি সফর ছিলো। নিয়মিত রান করেছেন। স্কটল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসের কাছে দুটো ম্যাচ হেরে যাওয়ায় কিছুটা আক্ষেপও আছে বাঁহাতি ওপেনারের। কিন্তু যোগবিয়োগ করে তার কাছেও ইউরোপ সফরটি ইতিবাচক।
অতএব ক্রিকেটীয় দিক থেকে ইউরোপে খুব ভালো একটি সফর করেছে বাংলাদেশ দল। যে আয়ারল্যান্ডের কাছে টি-টোয়েন্টিতে কোনো জয় ছিলো না, তাদের তিন ম্যাচের সিরিজে ধবলধোলাই দিয়েছে। স্কটল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আগে কোনো দিন টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতাই ছিলো না। এমন কি নেদরল্যান্ডসের কন্ডিশন সম্পর্কেও পূর্ব ধারণা ছাড়াই খেলতে হয়েছে। যে দুটি ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ দল তা ওই কন্ডিশনে তালগোল পাকিয়ে ফেলার জন্য। ক্রিকেটারদের বক্তব্য তেমনই। তামিম, নাসির, জিয়া প্রত্যেকে বলেছেন উইকেট ভালো ছিলো না।
তারপরেও ছয় ম্যাচের চারটিতে জয় ভালো পারাফরমেন্স। অলরাউন্ডার নাসির হোসেন ভালোর ব্যাখ্যাও দিলেন, ‘আয়ারল্যান্ডের সবগুলো ম্যাচ জিতেছি। তারা যতবার ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করেছে আমরা তাদের চেয়ে ভালো খেলে ম্যাচ জিতেছি। স্কটল্যান্ড খুব ভালো খেলে জিতেছে। রিচি ভেরিংটন অসাধারণ একটি ইনিংস খেলে। ৫৮ বলে ১০০ রান। আমাদের কল্পনাতেও ছিলো না কেউ একজন এত ভালো খেলে ফেলবে। নেদারল্যান্ডসের কাছে শেষ ম্যাচটি হেরে যাওয়া দুঃখজনক। ১৫ রান কম করেছি আমরা।’
ক্রিকেটের জন্য অনেক দেশে যাওয়া হয় নাসিরদের। ইউরোপে ইংল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডের বাইরে আগে অন্য কোনো দেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিলো না। সেটাও হয়েছে এই সফরে। খেলা শেষে যে একটা দিন পাওয়া গেছে তা কাজে লাগিয়েছেন নাসির হোসেন, ঘুরে বেড়িয়েছেন আমস্টারডামে। শহরটা ভালো লেগেছে তার, ‘খুব সুন্দর দেশ। দেখতে ভালো। আসার আগের দিন ঘুরে ঘুরে দেখেছি।’
জিয়ার জন্যও ইউরোপ সফরের গুরুত্ব অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেক এই সফরেই। এখন তিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির খেলোয়াড়। অভিষেকে একসঙ্গে ছয়টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা দারুণ। জিয়া বলছিলেনও,‘অভিষেক ম্যাচটি আমার জন্য স্মরণীয়। ভালো একটি স্কোর করেছি। আয়ারল্যান্ডের সবগুলো ম্যাচ জেতার অভিজ্ঞতা হয়েছে। স্কটল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসে উইকেটের জন্যই আমাকে ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন করতে হয়। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভালো। শেষ ম্যাচটির জন্য আক্ষেপ আছে। আরও কিছু রান করতে পারলে আমরাই জিততাম।’
পেসার আবুল হাসান রাজুরও টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়েছে। সফরে তার কেমন অভিজ্ঞতা হয়েছে তা জানা যায়নি। দেশে ফিরে মোবাইলফোন অন করেননি তিনি।
বাংলাদেশ সময়: ২১২২ ঘণ্টা, জুলাই ২৯, ২০১২
এসএ
সম্পাদনা: চঞ্চল ঘোষ, নিউজরুম এডিটর