 |
| ছবি: সোহেল সরওয়ার/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম চাঞ্চল্যকর দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় ঘটনা তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির অন্যতম সদস্য ও সিআইডির তৎকালীন ডিআইজি ফররুখ আহমেদের জেরা আবারও শুরু হয়েছে।
এর আগে গত ১০ জুলাই নির্ধারিত জেরার দিন ‘অস্বাভাবিক অনুপস্থিতি’র পর ফের সমন পেয়ে রোববার ফররুখ আহমেদ আদালতে হাজির হয়েছেন। বেলা ১২টা থেকে তাকে জেরা শুরু করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
চট্টগ্রামের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মুজিবুর রহমানের আদালতে এ জেরা কার্যক্রম চলছে।
নির্ধারিত জেরার দিনে ফররুখ আহমদ অনুপস্থিত থাকায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট কামালউদ্দিন আহমেদ আদালতে জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আইনগত প্রক্রিয়ায় বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও তার খোঁজ পেতে ব্যর্থ হয়েছে। তার এ অনুপস্থিতিকে অস্বাভাবিক বলেছিলেন মহানগর পিপি।
এর আগে গত ৩ জুলাই সাক্ষ্যগ্রহণের পর দু’দিন ধরে ফররুখ আহমদকে জেরা করেন আসামীপক্ষের আইনজীবীরা।
এদিকে, আসামিদের মধ্যে যারা আদালতে হাজির হয়েছেন তারা হলেন, জামায়াত নেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই’র তৎকালীন মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইর তৎকালীন পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআইর সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার সাহাবুদ্দিন, উপ-পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর লিয়াকত হোসেন, ফিল্ড অফিসার আকবর হোসেন খান, রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা সিইউএফএল’র সাবেক এমডি মোহসীন তালুকদার, চোরাচালানী হিসেবে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান ও ট্রলার মালিক দীন মোহাম্মদ।
অসুস্থ থাকায় সিইউএফএল’র সাবেক মহাব্যবস্থাপক এনামুল হককে আদালতে হাজির করা হয়নি।
এছাড়া সম্পূরক চার্জশিটভুক্ত দুই আসামি ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নূরুল আমিন বর্তমানে পলাতক আছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) জেটিঘাটে দশ ট্রাক অস্ত্রের চালানটি ধরা পড়ে।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকে প্রায় সাড়ে তিন বছর অধিকতর তদন্তের পর ২০১১ সালের ২৬ জুন সিআইডি আদালতে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর ওই বছরের ১৫ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়। ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিচার।
এ মামলায় তত্তাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক শিল্পসচিব ড.শোয়েব আহমেদ, গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএইফআইর সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সাদিক হাসান রুমি, বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইমামুজ্জামান বীরবিক্রম, এনএসআইর সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এনামুর রহমান চৌধুরী, ডিজিএফআই’র সাবেক ডিটাচমেন্ট কমান্ডার কর্ণেল (অব.) এ কে এম রেজাউর রহমান, এনএসআই’র সাবেক সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী এবং সিএমপি’র বন্দর জোনের তৎকালীন উপ-পুলিশ কমিশনার আবদুল্লাহ হেল বাকী, সাবেক ডিআইজি (এসবি) শামসুল ইসলাম, সাবেক ডিআইজি (সিআইডি) ফররুখ আহমেদ ও সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহমুদুর রহমান সহ ১২ জন ইতোমধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১১১৯ ঘণ্টা, জুলাই ২৯, ২০১২
আরডিজি/সম্পাদনা: রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর