ঝালকাঠী: র্যাবের গুলিতে পা হারানো কলেজছাত্র লিমন হোসেনের মা হেনোয়ারা বেগম, বাবা তোফাজ্জল হোসেন, ভাই সুমনসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে র্যাবের সোর্স ইব্রাহিম হাওলাদার ঝালকাঠীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন।
অভিযুক্ত অন্যরা হলেন- সাতুরিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হেমায়েত হোসেন নুরু, লিমনের চাচী সিদ্দিকা হাওলাদার, মোরশেদ জোমাদ্দার, ফিরোজ জোমাদ্দার, মোতালেব হাওলাদার, শাহীন হাওলাদার, নৈকাঠির মফিজ শিকদারের ছেলে সুমন শিকদার।
ইব্রাহিমের আইনজীবী ফারুক হোসেন বাংলানিউজকে জানান, ঈদের দিন (২০ আগস্ট) ইব্রাহিমের শ্যালক ফোরকানকে (৩৮) লিমনের মা-বাবা-ভাইসহ অভিযুক্ত ১০ জন মিলে পিটিয়ে হত্যা করেন, এমন অভিযোগ এনে এ হত্যা মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
মামলাটি দায়ের করার পর আদালতের বিচারক নুসরাত জাহান মামলাটি আমলে নিয়ে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জেল হোসেনকে ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে লিমন বাংলানিউজকে বলেন, “সবাই জানেন, আমার মা ইব্রাহিমের হামলায় আহত হয়ে ওই সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আমার ভাই ও আমি তার সেবা করছিলাম। তাহলে আমার বৃদ্ধা মা ও বড় ভাই কিভাবে হামলা চালালেন? তাছাড়া ঈদের দিন ইব্রাহিম যেখানে আমাদের ওপর হামলা করেছিলেন, সেখান থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে ইব্রাহিমের শ্যালক মারা যান। তাও আমাদের ওপর হামলা করার ১ ঘণ্টা পর। তখন আমরা রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, আহত মাকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।”
লিমন আরও বলেন, “আরেকটি মিথ্যা মামলায় জড়ানো হলো আমাদের। আমাদের হয়রানি করতে ও তারা নিজেরা বাঁচতে আমার মা-ভাইয়ের বিরুদ্ধে এ মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।”
এ বিষয়ে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জেল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ‘‘শুনেছি একটি মামলা হয়েছে। তবে মামলার কাগজপত্র এখনও হাতে পাইনি। কাগজপত্র পেলে তদন্ত করে দেখবো।”
এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ``ঈদের দিন ঈব্রাহিমের শ্যালক ফোরকান মারা যান। এ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ পাওয়া যায়। ইব্রাহিমরা বলছিলেন, তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন লিমন ও তার সহযোগীরা। আবার লিমনরা বলেছেন, তারা কিছুই জানেন না। এখন লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলতে পারছি না।’’
বাংলাদেশ সময়: ১৪৫০ ঘণ্টা, আগস্ট ২৩, ২০১২
সম্পাদনা: প্রভাষ চৌধুরী, নিউজরুম এডিটর; নূরনবী সিদ্দিক সু্ইন ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com