 |
ঢাকা: সিরীয় বাহিনীর অগ্রাভিযানের মুখে আলেপ্পোর কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা থেকে পিছু হটেছে সিরীয় বিদ্রোহীরা। তবে এখনও নগরীর অন্যান্য অংশে উভয় পক্ষের মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ চলছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।
আলেপ্পোর দক্ষিণাঞ্চলীয় সালাহেদ্দিন জেলা থেকে সরকারি পক্ষের ভারী গোলাবর্ষণের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হওয়ার কথা স্বীকার করেছে বিদ্রোহীরাও। তবে অন্যান্য জেলাগুলোতে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার দাবি করেছে তারা। এদিকে সরকারি বাহিনী আলেপ্পোর বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ৮০ টি ট্যাংক মোতায়েন করেছে বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
বিদ্রোহীরা দাবি করেছে মূলত মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়িয়ে বিদ্র্রোহীদের অবস্থানে ট্যাংক ও জঙ্গি বিমান থেকে নির্বিচারে গোলাবর্ষণ করছে সরকারি বাহিনী।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয় ‘সন্ত্রাসীদের’ কবল থেকে সালাহেদ্দিন জেলাকে মুক্ত করেছে সেনাবাহিনী। পাশাপাশি সরকারি বাহিনী আলেপ্পোর অন্যান্য ফ্রন্টেও ‘সন্ত্রাসীদের’ ওপর আক্রমণ চালিয়েছে বলে দাবি করা হয় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে।
তবে বিদ্রোহী ফ্রি সিরিয়ান আর্মির মুখপাত্র কাসেম সাদেউদ্দিন দাবি করেন, আলেপ্পোর অংশ বিশেষ থেকে বিদ্রোহীদের সরে আসার মানে এই নয় যে তারা আলেপ্পো নগরী ত্যাগ করছে। নগরীতে লড়াই চালানোর জন্য তাদের একটি পৃথক সমর পরিকল্পনা আছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে কফি আনানের স্থলে জাতিসংঘ আরবলীগ বিশেষ দূত হিসেবে প্রখ্যাত আলজেরীয় কূটনীতিক লাখদার ব্রাহিমিকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে বলে বৃহস্পতিবার আভাস দিয়েছেন জাতিসংঘের কূটনীতিকরা।
এর আগে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ওয়ায়েল আল হালকিকে নিয়োগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। হালকি পক্ষত্যাগী সাবেক প্রধানমন্ত্রী রিয়াদ হিজাবের স্থলাভিষিক্ত হন বলে জানা গেছে। গত সপ্তাহে বাশার আল আসাদের পক্ষত্যাগ করে সপরিবারে জর্দানে পালিয়ে যান তিনি।
এদিকে সহিংসতা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার আলেপ্পোতে চিকিৎসা, খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে রেডক্রস। এক বিবৃতিতে ত্রাণ বিতরণের কথা ঘোষণা করে রেডক্রস জানিয়েছে গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই প্রথম আলেপ্পোর অভ্যন্তরে সাহায্য প্রবেশ করাতে সক্ষম হলো তারা।
এদিকে বৃহস্পতিবার সিরিয়া বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ইরানের রাজধানী তেহরানে। সম্মেলনে দেওয়া বিবৃতিতে অতি সত্ত্বর বিদ্রোহী ও সরকারি পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরুর আহবান জানিয়েছে ইরান।
এছাড়া তেহরান সম্মেলনে অংশ নেওয়া জাতিসংঘের প্রতিনিধি জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের একটি বিবৃতি পড়ে শোনান। বিবৃতিতে বান কি মুন বলেন, “সিরিয়ার সংঘাতে আসলে কেউই বিজয়ী হতে পারবে না। আমরা দুঃখজনক ভাবে লক্ষ করছি সমৃদ্ধ সিরীয় সমাজ আজ দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের কারণে ধ্বংসের পথে।”
এদিকে শুক্রবার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ জানিয়েছে সহিংসতা শুরুর পর থেকে ইতিমধ্যে সিরীয় উদ্বাস্তুদের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। অর্ধলক্ষেরও বেশি উদ্বাস্তু আশ্রয় নিয়েছে তুরস্কের বিভিন্ন শিবিরে। এছাড়া জর্দানে ৪৫ হাজার, লেবাননে ৩৬ হাজার এবং ইরাকে ১৩ হাজারেরও বেশি সিরীয় আশ্রয় নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র সংখ্যক সিরীয় আলজেরিয়া, মিসর, মরক্কো এবং গ্রিস সহ অন্যান্য আরব রাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১৭৫৫ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০১২
সম্পাদনা:রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর