১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, শনিবার মে ২৫, ২০১৩ ৭:২৯ পিএম BDST banglanew24
02 Aug 2012   07:42:23 PM   Thursday BdST
E-mail this

‘দুঃসহ সেই স্মৃতি আজো কাঁদায়’


মাহবুব আলম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
‘দুঃসহ সেই স্মৃতি আজো কাঁদায়’
ছবি:উজ্জ্বল ধর /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম ( ফাইল ফটো)

চট্টগ্রাম: বছর ঘুরে এলো ২ আগস্ট। দিনটি এলেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মনে ভাসে সেদিনের কালো অধ্যায়! বর্ধিত বেতন ফি বিরোধী আন্দোলনে ২০১০ সালের এদিন উত্তাল হয়ে উঠেছিল সবুজ ক্যাম্পাস।

সেই তিন বছর আগের কথা মনে হলেই আঁতকে ওঠেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা এই কালো দিনটিকে ‘কালো দিবস’ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন।

বর্ধিত বেতন ফি বিরোধী শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে না নেওয়ায় দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভে ফেটে পড়ে হাজারো শিক্ষার্থী। প্রশাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নিজেদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে সোচ্চার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলন দমাতে প্রথমে ছাত্রী হলের সামনে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার চত্ত্বরে প্রায় পাঁচ শতাধিক ছাত্রীকে ঘেরাও করে বেধড়ক লাটিচার্জ করে পুলিশ। এতে অন্তত ৫০ ছাত্রী গুরুতর আহত হন।

ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী তরু চৌধুরী পপি বাংলানিউজকে বলেন, ‘২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের অপমানের দুঃসহ স্মৃতি মনে এলেই চোখে জল আসে। কোনদিনই ভুলতে পারবো না।’

‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে পুলিশের বর্বর আচরণে মেয়েদের যে সম্মান হারিয়েছে, তা কোনো দিনই ফিরবে না,’ যোগ করেন পপি।

এ সময় বিভিন্ন হলে দায়িত্বরত শিক্ষকদেরও লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ওইদিনই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান থেকে কমপক্ষে ৩০২ জন ছাত্রকে গণগ্রেপ্তার করা হয়। এদিন বিকেলেই অনির্দিষ্ট কালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ বাদী হয়ে স্থানীয় হাটহাজারী থানায় তিনটি ও নগরীর পাচলাইশ থানায় একটিসহ ১৯০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞতনামা প্রায় ২৫ শ’ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি প্রবাল মজুমদার বাংলানিউজকে বলেন, ‘বর্ধিত বেতন ফি বিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের নামে দায়ের মামলা প্রত্যাহারে প্রশাসন সুপারিশ করেছে।’ এ ব্যাপারে একটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিরাজ উদ-দৌল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে দু’টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাকিগুলোও প্রক্রিয়াধীন।’

এদিকে, দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালীন ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমঝোতার বৈঠকে বসে চবি প্রশাসন। বৈঠকে বর্ধিত বেতন ফি কমিয়ে ১০ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়। যা গত বছর থেকে আদায় করা হচ্ছে।

তবে শিক্ষাথীদের অভিযোগ, বর্ধিত বেতন ফির জন্য আন্দোলন হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্নভাবে ফি আদায় করেই নিচ্ছে।

শাহ আমানত হলের আবাসিক ছাত্র সোলায়মান বাদশা বাংলানিউজকে বলেন, ‘কার্যত বর্ধিত ফি বিরোধী আন্দোলন হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফরমসহ বিভিন্ন ‘ফি’ ঠিকই বাড়ানো হয়েছে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৯৩০ ঘণ্টা, আগস্ট ০২, ২০১২
এমবিএম/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

জাতীয়

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান