 |
ঢাকা: স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে যাওয়ার পর ক্রিকেটারদের কেউ কোন দিন হোমওয়ার্ক করেছেন বলে জানা নেই। জাতীয় দলের প্রধান কোচ রিচার্ড পাইবাস ক্রিকেটারদের হোমওয়ার্ক করাচ্ছেন। আসলে প্রত্যেকের ভেতর থেকে সেরা জিনিসটা বের করে আনার জন্য কোচ তার সব কৌশল ব্যবহার করছেন।
কিন্তু ক্রিকেটাররা কোচের কৌশলের সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে পারছেন তা বোঝা যাবে পরে। এই আয়ারল্যান্ড সফরেও প্রতিফলন ঘটতে পারে। যদিও দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনো মনের মতো দল গোছাতে পারেননি কোচ। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে বললেনও,‘জিম্বাবুয়েতে বেশ জয়েকজন প্রমাণ দিয়েছে। এখনো কিছু জায়গা উন্মুক্ত আছে। আজকের দিনটি আমি খুব উপভোগ করেছি। আমি জানি মুশি আনন্দ পায়নি। প্রস্তুতিতে ছেলেদের কাছে থেকে আরও বেশি কিছু প্রত্যাশা করেছিলো সে। প্রধান কোচ হিসেবে আমাকে দেখতে হবে কতটা ভালো অস্থার মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। আমি দেখতে চেয়েছি চাপের মধ্যে তারা কি ভাবে খেলে। আমাদের বোলাররা ভালো করেনি। ‘এ’ দলের চেজ করাকে আমার ভালো লেগেছে। সিনিয়রদের কাছ থেকে আমি আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা আশা করি।’
আয়ারল্যান্ডে যাওয়ার আগে শেষ টি-টোয়েন্টি প্রস্তুতি ম্যাচে ‘এ’ দলের কাছে আট উইকেটে হেরেছে জাতীয় দল। ২৪৩ রান করেও তার রক্ষা করতে পারেনি জাতীয় দল। রকিবুল হাসানের ১৪০ রানের অনবদ্য ইনিংসে ১৯.১ ওভারে ২৪৭ রান করে ম্যাচ জিতে নেয় ‘এ’ দল। দায়টা বোলারদের ওপরেই যায়। কোচ বলছিলেন,‘তিন দিন আগের কথা বললে আমরা খুব ভালো বোলিং করেছি। গত এক সপ্তাহ আমরা খুব পরিশ্রম করেছি। কিন্তু আজকে আগের পারফরমেন্স দেখাতে পারিনি। আমি বোলারদের ওপর দোষ চাপাতে চাই না। কিন্তু বলবে যখনই যে দলের বিপক্ষে খেলি এমন কি ‘এ’ দলের বিপক্ষেও আমাদেরকে পেশাদারিত্ব দেখাতে হবে।’
টি-টোয়েন্টিতে উন্নতি করতে হলে বেশি বেশি খেলার ওপরই জোর দিলেন পাইবাস। এছাড়া সাকিব আল হাসানের ফিরে আসাকে দলের শক্তি বৃদ্ধি হিসেবে দেখছেন কোচ।
অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম আয়ারল্যান্ড সফর নিয়ে তাদের পরিকল্পনার তুলে ধরেন সংবাদ সম্মেলনে,‘অনেক দিন পর আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলছি। তাছাড়া সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, তার আগে হাতে বেশি সময় নেই। কাজেই এই সুযোগগুলো শতভাগ কাজে লাগাতে হবে। কঠোর পরিশ্রম করতে হবে যেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আত্মবিশ্বাসটা আসে। যত বেশি ম্যাচ খেলব, যত বেশি উন্নতি করবো, তত বেশি আত্মবিশ্বাস বাড়বে। আমরাও ওভাবেই চিন্তা করছি।’
‘আমরা যদি সেরা খেলাটা খেলতে পারি আমার মনে হয় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জেতাটা আমাদের জন্য খুব বেশি কঠিন হবে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে। সাকিব চলে এসেছে, ইনশাল্লাহ তামিমও দুই-একদিনের মধ্যে চলে আসবে। অনুশীলন করছে। মাশরাফি ভাই আছে, রাজ ভাই আছে। সবাই এক সঙ্গে জ্বলে উঠলে জেতা খুব একটা অসম্ভব হবে না।’
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলে এখনও যে ভারসাম্য আসেনি মুশফিকুর রহিমও তা স্বীকার করলেন,‘কোচ খুব একটা খারাপ কথা বলেননি। একদশ একশ ভাগ ঠিক কথা। কারণ টি-টোয়েন্টিতে খেলবেই এমন খেলোয়াড় আমাদের চার পাঁচ জন ছাড়া কমই আছে। আমরা যদি নিজেদের খেলার মানটা একটু উন্নত করি তাহলে নিজেদের খেলা ভালো হবে দলেরও উন্নতি হবে।’
‘এ’ দলের কাছে হারের একটা ব্যাখ্যাও দিলেন অধিনায়ক,‘আজকের ম্যাচে ব্যাটিং মোটামুটি হয়েছে, তবে একইভাবে বোলিংটা যেরকম করা উচিত ছিল সেরকম হয়নি। মাশরাফি-আশরাফুল বিশ্রামে ছিল। প্র্যাকটিস ম্যাচে অনেক কিছু ট্রাই করেছি।’
বাংলাদেশ সময়: ২০২৬ ঘণ্টা, জুলাই ১০, ২০১২
এসএ