 |
কয়েন আকাশ
তার কথা লিখতে এলেই বুক কাঁপে, যেন আমি তার রক্তমুখী চোখ, সুর ছেঁড়া গান। সে আটকে আছে জীবনবৃত্তে; ফলে যতোটা ঘোর নিয়ে ছোঁয়া যায় উড়াল তারও বেশি ঘোর নিয়ে সে পড়ে থাকে মৃত্যুর মতো। আর সবাই বলে, এতো প্রাণবান যে ছেলে তার বুকে বান মেরে কার এতো সুখ? তাই শুনে ছেলেটি মৃত পাখির ঠোঁটে হাসে যেন একজীবনে সে বহুজীবনের স্বপ্ন বুনে। দুঃস্বপ্নের ঘোর এখানেই শেষ নয়; সমাপ্ত নয় দূর থেকে ঘুরে আসা পথ। তবু বিশ্বাস করো তাকে লিখতে এলেই দুলে ওঠে পাঁজর আর বুকটা তখন চামড়া ফুঁড়ে নিজেই বাতাস হতে চায়। যেন জেনে আসতে চায় কতোদুর পাড়ি দিলে আকাশ কয়েন হয়ে মুঠোতে গড়ায়।
এই সংকটতাড়িত মুহূর্তের কথা এভাবে বহুদুর বলা যায় না। বড়োজোর কয়েক পা কিংবা গাছের ঐ শুষ্ক পাতার ছায়া। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়। লিখতে তার বুক কাঁপে, পাঁজর গলে জল গড়ায়; অন্য কোনও পাঁজরে।
চুম্বন
১.
হাত ছুঁয়েই বুঝেছি
বুকের গভীরে কেন এতো নিস্পন্দ কলরোল
দীর্ঘ দীর্ঘ চুম্বন জমেছে ঠোঁটে, তাই লোকায়ত আঁধারে জাগে খননপিপাসা।
তোমার চুমো চেপে ধরে আমাকে, অন্ধকারেই।
২.
তোমার ঠোঁট আমি জানি
ছুঁয়েছি বহুবার ঠোঁটে
লবণাক্ত তৃষ্ণার কাছে সুতীব্র চুম্বন
বড়ো হিংসুটে
তুমি নেই তবু উদাসী এই রাত
রেখেছি তোমার চুলে,
এতো অভিশাপ, চেয়েছি তোমায়
জীবনের ভুলে।
উড়ো, পোড়ো
উড়ছে আলো, পুড়ছে বাতাস ঝরছে মুখের আগুন
ও-মন তোর দীর্ঘ ক্ষতে স্বপ্ন পোড়ে না?
উড়ছে দেহ, পুড়ছে কায়া, ঝরছে বাঁশির সুর
ও মন তোর রঙিন ঘুড়ি স্বপ্ন পোড়ে না?
উড়ছে আকাশ, উড়ছে পাতাল, পুড়ছে চোখের ঘুম
ও মেঘ তোর ঘুমের দেশে আকাশ পোড়ে না?
প্রাপ্তে প্রাপক এক, কান্ত দিনে দীর্ঘ মুঠোয় এসো
দীর্ঘপথ ঘুরে তোমাকেই জানি
তুমিও জানো আটকে আছি সহজের জটিল বিনাশে
অভাবে যার সুর গেছে ছিঁড়ে
সেকি বুঝে সময়ের গোপন পদচিহ্ন
বুকে পোষে সত্য বাতাস, ভান করো মিথ্যে
যেন কথায় পেরোতে চাও সাঁকো
যেনা সাঁকোতেই দেখতে চাও চূড়ান্ত অশ্রুপাত।
কথা
আয়নায় ছেঁড়া মুখ দেখে বাতাসের সঙ্গে তার কথা শেষ হয় না
শরীরে জেগে থাকে অন্ধ ইশারা
পাতালের কাছে তার
আঙুল নড়েনা
কথা, মনে মনে এতো সুন্দর
ফুলের কাছে তার কোনো দায় থাকেনা। অথচ
নির্গত শব্দের কাছে আমাদের এতো ঋণ
ফুল ছাড়া তার পলক পড়েনা
বাংলাদেশ সময়: ১৬৫৪ ঘণ্টা, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১২