 |
ঝালকাঠি: ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার সোনাউটা গ্রামের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী সুমি আক্তারের (১৩) লাশ ৫ মাস ২০ দিন পর আবার মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে কবর থেকে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলন করা হয়েছে।
সুমি উপজেলার পাটিকেলঘাটা ইউনিয়নের তারাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বাংলানিউজকে জানান, আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে ঝালকাঠি জেলা প্রসাশক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) সাইফুল ইসলামের উপস্থিতিতে পুলিশ সুমির লাশ উত্তোলন করে।
দুপুর আড়াইটার দিকে আবার ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।
সুমির মা শীলা বেগম অভিযোগ করে জানান, ১২ বছর আগে কাঁঠালিয়া উপজেলার সোনাউটা গ্রামের স্বামী খলিল সিকদারের সঙ্গে শীলা বেগমের ছাড়াছাড়ি হয়।
তখন থেকে ১ বছর বয়সী মেয়ে সুমিকে নিয়ে বাবার বাড়ি তারাবুনিয়া গ্রামে চলে আসেন তিনি। কিন্তু চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি বাবার স্বীকৃতি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সুমিকে খলিল নিজের বাড়ি বেড়াতে নিয়ে যান।
ভবিষ্যতে মেয়ে বাবার সম্পত্তির অংশীদার হবে এ কারণে খলিল ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী রেহেনা বেগমসহ কয়েকজন মিলে ২১ জানুয়ারি দুপুরে সুমিকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়।
এ ঘটনায় খলিলসহ ৮ জনকে আসামি করে আদালতে হত্যা মামলা এবং আবার লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্ত করার জন্য ঝালকাঠি জ্যেষ্ঠ বিচারিক আদালতে আবেদন করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, সুমি হত্যার সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন। আর এ সুযোগে ‘ওড়না পেঁচিয়ে সুমি আত্মহত্যা করেছে’- সুরতহালে পুলিশকে ম্যানেজ করে এ কথা লেখানো হয়।
সুমির মৃত্যু খবর পেয়ে তিনি ঢাকা থেকে ছুটে আসেন এবং খলিলের বাড়ি থেকে এক পর্যায়ে জোর করে সুমির লাশ দাফনের জন্য নিয়ে আসেন। লাশ গোসল করানোর সময় সুমির বুকের নিচে বড় ধরনের আঘাতের দাগ দেখতে পান। কিন্তু ময়না তদন্তে ডাক্তারের দেওয়া প্রতিবেদনে তা উল্লেখ ছিল না।
এমনকি সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের সময় সৎ মা (রেহেনা বেগম) সুমির আসল মা সেজে পুলিশ ও ডাক্তারকে তথ্য দেন।
পুলিশ ম্যানেজের অভিযোগ অস্বীকার করে কাঁঠালিয়া থানার ওসি আতাউর রহমান বাংলানিউজকে জানান, ঝুলন্ত অবস্থায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মেয়েটি মারা যায় বলে ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২২৩০ ঘণ্টা, জুলাই ১০, ২০১২
সম্পাদনায়: প্রভাষ চৌধুরী,নিউজরুম এডিটর