 |
আবছা আলোর ঘোর
একটা লাল চোখ নিয়ে তোর দিকে তাকিয়ে আছি
তুই ভয় পাস না?
আমি পুরুষ!
তোকে কিন্তু কখনোই বলবো না ‘একটু সরে বস, বরং
হুট করে জিজ্ঞেস করতে পারি,
“তোর গায়ে এত কড়া ঘ্রাণ কিসের?”
আচ্ছা বাদ দে ওসব! তুই বরং গ্লাসে আরও একটু ঢাল,
বাদামের গায় ভিনেগার, পেঁয়াজ; মরিচের ঝাল!
তুই এত নির্বিকার থাকিস কেন?
এখন চোখের ভিতর হয়ে যদি তোকে মস্তিষ্কে নিয়ে যাই!
যদি বেফাঁস কিছু বলে ফেলি, অশ্লীল!
যদি ঘুঙুর ছুঁড়ে বলি ‘নাচ, চুমকি নাচ!’
হা হা হা যদি আরও বলি,
তোর তরতর করে কাঁপা শরীর চাই!
চনমনে, একটু দ্বিধা – একটু তৃষ্ণা
অর্ধেক প্রেম – অর্ধেক ছলনা
কড়া খুবই কড়া!!! হা হা হা...
আচ্ছা বাদ দে ওসব! তুই বরং আরও একটু বরফকুচি ঢাল,
বাদামের গায় ভিনেগার, পেঁয়াজ; মরিচের ঝাল।
কি যেন বলছিলাম... ও... বিড়িটা দে,
একটা সুখটান, একটা চুমো, একটা নিশপিশে হাত,
একটা আঁচড়, একটা, একটা... ধ্যাত মনে পড়ছে না।
তুই হাসছিস!!
হা হা হা... ওভাবে ভাবিস না!
আমি পুরুষ!
নারীকে মোম ভেবে আগুন জ্বালানো আমার স্বভাব!
আচ্ছা বাদ দে ওসব! তুই বরং গ্লাসে আরও একটু ঢাল,
বাদামের গায় ভিনেগার, পেঁয়াজ; মরিচের ঝাল।
হলুদ সঙ্কেত
আমি নাগরিক পথ-ঘাট, বাসস্থান, ইট কাঠ পাথর পিচে নয়
সাদা কালো, রঙিন কবিতা দিয়ে মুড়িয়ে দিতে চাই।
যেখানে ঘরময় যৌথ পরিবার, যৌথ সুখ, যৌথ সমাচার
যেখানে পঁচা মাংসের গন্ধে বুঝতে হয় না
‘পাশের ফ্ল্যাটে স্বামী কতৃক স্ত্রী খুন’।
আমি সেই সময়কে ফিরিয়ে আনতে চাই, যেখানে-
প্রতিবেশী বলে একটা সম্প্রদায় ছিল,
মহল্লা, পাড়া নামক কিছু গোষ্ঠী ছিল।
আমি
ভুল করেও আর দেখতে চাই না একটা পোস্টার, যার শিরোনাম
-অমুক হত্যার বিচার চাই! -অমুক শক্তি নিপাত যাক!
আমি সেই সব ‘দিন-আনে দিন-খায় নাগরিকদের দিকে,
তাদের কালিমাখা ভাতের হাড়ি থেকে গরম সোঁদা গন্ধ নিয়ে যাব-
নিয়ে যাব হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মত অভিজাত নগরীর জরায়ু-কূপে।
খুব দুপুরে ছোট হয়ে আসা ফেরিওয়ালার ছায়ার মত, হাই তোলা-
নেড়ি কুকুরের মত, স্কুল মাঠে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরী!
চেন পড়ে যাওয়া- বিরক্ত রিক্সাওয়ালার মত,
বিষম রোদে, চিটচিটে ঘাম-দুর্গন্ধময় বাস্তবতাকে শোনাবো-
একটা প্রণয়ের কবিতা। মানবিক শহরের সব ডাস্টবিন গুলো-
পরিপূর্ণ করে দিব ক্লান্তিহীন রঙের কিছু রঙ্গিন ফুল দিয়ে।
যে শহরে, স্ট্রিট ল্যাম্পের আলোই ভাগ্যাহত জনগোষ্ঠীর আব্রু!
যে শহরে, অহেতুক লাল-হলুদ-সবুজ বাতির আকস্মিক সংকেতে-
হঠাৎ কেঁপে ওঠে একটি ঘুমন্ত শিশু! সে শহরকে-
আমি খুব আয়োজন করে দিতে চাই- একটা ‘স্বাধীনতা পদক’
দলিল করে দিয়ে যাব হাড়ভাঙা খাটুনি, ফুল বেচা শিশুর শৈশব!
নেশাগ্রস্ত চাহিদা
আমি বড় বেশি অস্থির!
একটা হুলুস্থুল রকমের প্রেম চাই
তোমার চুল থেকে পায়ের নখে মোড়ানো প্রেম চাই!
কনকনে শীতে আগুনের মত চাই তোমার স্পর্শ!
বলতে দ্বিধা নেই-
চাই তোমার সম্পূর্ণ ওম, দিনে কিংবা রাতে
চাই শরীর কাঁটা দিয়ে ওঠা, তোমার প্রতিটি চুম্বন।
যতটুকু লিখে প্রকাশ করা যায় না তারও অধিক...
চাই নেশাগ্রস্ত যুবকের মত – ‘তুমি’ নামক প্যাথিড্রিন।
সিনেমার মত একরোখা; উন্মাদ পাগলের মত,
অত বাধা – অত প্রতীক্ষা – অত ভূমিকা নয়
বাচ্চাদের আবদারের মত তোমাকে চাই, ফুচকার টঙে।
শুধু বিশেষ উৎসবে আয়োজনে- সাজানো পুতুল রূপে নয়
চাই দৈনন্দিন চলাফেরায় - রিক্সায় জনবহুল ফুটপাতে।
আল্লাহ্র কিরা লাগে! একটা প্রেম চাই-
অনেকটা তেঁতুলের মত-
যেন জিব ছোঁয়াতেই শিউরে ওঠে অনাবাদি শরীর।
কিছুটা ভয় খুব জরুরী!
জীবন, যান্ত্রিক কাঠামো, নৌকা, সব ভাসমান
দূরের দু`একটা টিমটিমে আলো ওরাও ভাসমান
ভাসমান বুকে ভাসমান ঢেউ!
নদী নাকি সর্বস্ব কেড়ে নেয়!
কারো ঘর, কারো জীবিকা, কারো মোহ!
কারো বুকে ক্ষণিকের জন্য হলেও রেখে যায়
- চাষাবাদযোগ্য পলি।
আবার এমনও শুনেছি, নদী নাকি ভীষণ রসিক, কামনা বাড়ায়!
ঢেউয়ের বুকে চুমু খায় নেশারু চাঁদ, সারারাত- উন্মাদ উত্তাল।
কুঁচকানো বাতাসের হাত, ছুঁয়ে গেলে- নড়েচড়ে ওঠে মেঘ
ক্রমশঃ বর্ধিত হয় রাত, আকাশের শরীর জুড়ে বাড়ে ক্ষুধা!
তারা হয়ে জেগে থাকে চকচকে ঘাম;
নদীকে জল ভেবে কতবার যে সাঁতরে গেলাম,
সৌন্দর্য ভেবে কেবলই হেঁটে গেলাম কিনার ঘেঁষে
উপমা ভেবে বারবার বলে ফেলা হয়-‘আমিও নদীর মত’
ভেসে ভেসে আজ এখানে তো কাল ওখানে!
এক তীর জড়িয়ে ধরলে ক্রমাগত ভেঙ্গে যায় অন্য তীর!
সাঁতার জানার এই এক সমস্যা!
ভয়কে কখনো আপন মনে হয় না!
অথচ ডুবে মরার ভয় কখনো কখনো বাঁচিয়েও দেয়।
দিব্যি ছিল
বহুদূর, যতদূর দৃষ্টি ঝাপসা তারও আবডালে
কেউ যেন নিরবতা ভাঙে; বলে এভাবে নয়!
আরও কাছে এসে দেখে যাও ডোরাকাটা স্বপ্ন!
জলের পরিধি জুড়ে দৃষ্টির ছায়া ‘ছলছল!
কেন এত দূরে থেকে যাও?
চুল সরিয়ে এসো, ঘন শ্বাস জড়িয়ে এসো...
দাপাদাপি এই কাজলের রেখা লেপটে দাও!
হাতের বুননে রেখে যাও কিছু কথা,
ভাষা হয়ে থেকে যাও তাবিজের মত!
অন্ধকার ঘিরে আসছে, আসুক...
আলোটুকু জিইয়ে রেখে আর কতকাল!
চুপিচুপি নিভে যাওয়া শোক,
বলে বারবার... কিছু দিব্যি ছিল; দিব্যি ছিল!
স্পার্ক (spark )
একটা অসহ্য দিন,
আরও আছে চ্যাটের বালের অস্থিরতা! কোথাও কিচ্ছু নেই!
যারা আসে, বুঝায় নানাবিধ ধুনফুন – তাদের স্রেফ ভরে দিতে ইচ্ছে করে
একদম চুপ! রাস্তায় প্রচণ্ড জ্যাম! বাইরে বৃষ্টি!
ভিতরে দগদগে ঘা! পাঁচিলে গজায় সম্ভাবনার নতুন নতুন বাল!
অথচ গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে ঠিক আগের জায়গায়।
এতদিনের দেখা ভরপুর যৌবনের শহর
হঠাৎই যদি বলে বসে-
আজ দিতে পারবো না, চলছে মাসিকের দ্বিতীয় দিন!
যদি ঢেকে দেয় জরায়ু; গুঁজে রাখে ন্যাপকিন!
তবে পরিণত এই টাটানো অসুখ, মৌলিক সুখ কীসে মিটাই?
মাথার মধ্যে সাউয়ার সেই উরকি – ধুরকি পেইন...
ইশ একটুর জন্য, স্রেফ একটুর জন্য ছুটে গেল লাস্ট ট্রেন!
কোন এক শালা হয়তো বলেছিল - বাঁচো নয়ত মরো!
উফফ কী অসহ্য! কী নির্মম!
বুকের মধ্যে শুধু ঘাই মেরে যায়; চুতিয়ার মত হাসি হেসেই যায়,
বলেই যায় – আজই বুঝি মরে যাওয়ার দিন, হেরে যাওয়ার দিন!
বাংলাদেশ সময়: ১৮৩৫ ঘণ্টা, ০৯ আগস্ট, ২০১২