 |
ওরা
নষ্টরা শিশুর হাসি চায় না, শিশুটাকে রক্তাক্ত করতে চায়।
ওরা ফুলবাগান ভালোবাসে না, ফুলবাগানে আগুন লাগাতে ভালোবাসে।
ওরা মমত্ববোধশূন্য, নির্মম।
ওরা দূরে থাকলে গালি দেয়, কাছে পেলে ঘা দেয়, ভালোবাসতে জানে না।
পৃথিবীর আনাচে-কানাচে যেভাবে সাপ থাকে,
তেমনি থাকে ওরাও, বিষ নিয়ে, রক্তে রক্তে ওরা মধ্যযুগীয় বিষ নিয়ে থাকে।
ওদের গায়ে আসলে আতরের সুগন্ধ নেই, ওটা বিষের গন্ধ।
ওরা সভ্যতাস্রোত রুদ্ধ করতে যুদ্ধ করে কদর্য জঞ্জাল খেয়ে।
ওরা রাত্রির প্রতীক্ষা করে, রাত্রিপূজারী ওরা।
সূর্য নেভাতে চায় আকাশের দিকে থুতু ছুড়ে।
ওরা বাংলার বসন্ত ঠেকিয়ে রাখতে চায় মরুভূমি থেকে বালতি ভরা তপ্ত বালু এনে।
ওরা পুষ্পকে চোখ রাঙায়, ফুটবি না।
গানকে তর্জনি দেখায়, স্তব্ধ হ।
গতিকে রুখে দিতে চায় পাথরচাপা দিয়ে।
সম্ভাবনাকে ভীত করে যমভাবনায়।
ওরা চলতে জানে না, থামতেও না;
জিত বোঝে না, হারলেও খুশি;
উঠতে বোঝে না, গর্বিত হয় নিচে নেমে।
ওরা নন্দদুলাল, সব নন্দনহীন, অভিনন্দনহীন,
নিন্দিত মোষের সমান, অজগরের সমান, ওরা বোঝে না।
ওদের কান নেই, কানে পানি গেলেও টের পায় না;
ওদের চোখ নেই, চোখে আঙুল দিলেও দেখে না।
ঝড়
ঝড় যখন প্রচণ্ড আঘাত করে,
উপকূল উলটে-পালটে ফেলে,
সমুদ্র এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ে তীরবর্তী ঘর-দোরে,
তখন গল্পের সৃষ্টি হয়;
নির্ঘুম পল্লিবাসী গল্পের প্লটে মরণের প্রস্তুতিপর্ব দেখে,
তারপর বেঁচে থাকলে সেই গল্প করে লোকের সাথে,
গল্পের সঙ্গে গল্প মেশায়,
সত্যের সঙ্গে সত্যের চেয়ে ভয়াল কল্পনা মেশায়,
তারা গল্প সৃষ্টি করে তামাকের নেশায় নেশায়।
অথচ ঠিক যে মুহূর্তে হেনেছিল সেই ঝড় আঘাত,
যখন সত্রাস চুমু ছুটে গেছিল দামাল দম্পতির,
যখন কবরের লাশ ভয়ে নড়ে উঠেছিলো,
যখন আলয়ে প্রলয়ে ভয়ে সংশয়ে বৃদ্ধা কাপড় ভিজিয়েছিলো,
তখন, হ্যাঁ, ঠিক তখন,
কেউ ভাবেনি, এ যে গল্পের সৃষ্টি হচ্ছে!
শুধু কবি ভেবেছিল, মরণ সত্য হলে সত্য,
আর না হলে গল্পই সত্য হবে,
এই রাত ভোর হোক, তারপর দেখা যাক।
বাংলাদেশ সময় : ১৫৩০ ঘণ্টা, ০৮ অক্টোবর, ২০১২