 |
| ছবি : দেলোয়ার হোসেন বাদল /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: সাংবাদিক নির্যাতন সরকারের পলিটিক্যাল কালচারের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকার তাদের পলিটিক্যাল কালচারের অংশ হিসেবেই সাগর-রুনি হত্যা, বিডিনিউজে হামলা ও জজ কোর্টে সাংবাদিকেদের ওপর পুলিশি নির্যাতন চালিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগকে পদদলিত করেছে।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘পেশাগত মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষায় যে দল বা যে ইউনিয়নের হোন কেন, আসুন ঐক্যবদ্ধ হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।’
শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে দৈনিক আমারদেশ আয়োজিত ‘আক্রান্ত গণমাধ্যম, বিপণ্ন বাক স্বাধীনতা’ শিরোনামে অনুষ্ঠানে মওদুদ এসব কথা বলেন।
আমারদেশ বন্ধ ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের গ্রেফতারের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলেক্ষে সংবাদপত্রের কালো দিবস পালনের উদ্দেশ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এতে আলোচনা, আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন ছিল।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সংবাদ কর্মীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদ জানানো হয়।
বক্তব্য দেন ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন, প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, লেখক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার, অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিয়া, সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অ্যাড. খন্দকার মাহবুব হোসেন, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক প্রমুখ।
এমকে আনোয়ার বলেন, ‘সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। এখনও বাকশালের আদর্শে বিশ্বাস করে বলে সরকারের তরফ থেকেই বলা হয়েছে। সরকারদলীয় এমপিরা সাংবাদিকদের খারাপ ভাষায় গালি দেওয়ার পরও সংবাদ মাধ্যমে কোনো উচ্চবাচ্চ দেখিনি। এ তে আমি বিস্মিত।’
তিনি বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া কোনো উপায় নেই।’ বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের বর্তমান অবস্থা থাকবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘সরকারের হাত অনেক লম্বা। সরকার সেই হাত দিয়ে সাগর-রুনির বেডরুমে ঢুকে পড়েছে, সাংবাদিকদের ও বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। কিন্তু সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদ ও জনগণের দুঃখ লাঘবে এ হাত কখনো ওঠেনি।’
ব্যারিস্টার রফিক উল হক বলেন, ‘আমারদেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও প্রতিবেদক ওয়ালিউল্লাহ নোমানের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, সে জন্য আইনজীবী হিসেবে ক্ষমা চাই।’
অনুষ্ঠানে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী উপস্থিত থাকলেও বক্তব্য দেননি। বক্তব্য না দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘যেখানে জামায়াতের লোকজন থাকবে সেখানে আমি বক্তব্য দেব না। এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়েনের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্নি সবুজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সদরুল আমিন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহ, ইসলামি ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নিজামী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। উদ্বোধন করেন ভাষা সৈনিক কমরেড আব্দুল মতিন, ব্যারিস্টার রফিক উল হক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আতাউস সামাদ, সাংবাদিক শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমান।
বাংলাদেশ সময়: ১৯১৫ ঘণ্টা, জুন ০১, ২০১২
এসকেএস/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর