 |
ঢাকা: গ্রাহকদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে দেশীয় ব্র্যান্ড মার্সেল। বিশেষ করে এ ব্র্যান্ডের ফ্রিজ সবার নজর কেড়েছে। বিশ্বমানের প্রযুক্তি ও গবেষণার মাধ্যমে শতভাগ বাংলাদেশি আবহাওয়া উপযোগী করে তৈরি মার্সেল ফ্রিজ দামেও সাশ্রয়ী। রোজা ও ঈদকে সামনে রেখে ব্যাপক বিক্রয় পরিকল্পনা নিয়েছে মার্সেল কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, সর্বোচ্চমানের প্রযুক্তি ও কাঁচামাল দিয়ে দেশেই তৈরি হচ্ছে মার্সেলের ফ্রিজ, টিভি, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস, ইলেকট্রিক্যাল ও অটোমোবাইল পণ্য। এরই মধ্যে বাংলাদেশের বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থানও তৈরি করেছে এই ব্র্যান্ড। বিশেষ করে ফ্রিজের মার্কেটের অন্যতম শীর্ষস্থান দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মার্সেল। সারাদেশে পাঁচ শতাধিক বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে চলছে বিপণন কার্যক্রম। তৃণমূল পর্যায়ে মার্সেল পণ্য পৌঁছে দিতে আরও নতুন বিক্রয় কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
মার্সেলের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোশারফ হোসেন রাজীব জানান, আসন্ন রমজান ও ঈদ সামনে রেখে তাদের ব্যাপক পরিসরে বিক্রয় পরিকল্পনা রয়েছে। রোজা, ঈদ ও গরম- সব মিলিয়ে এই সময়টাতে ফ্রিজের বিক্রি এবার রেকর্ড ছাড়াবে বলে তার ধারণা।
তিনি বলেন, এই সময়টাতে দেশীয় ব্র্যান্ড মার্সেল যাতে মার্কেট শেয়ারের একটি বড় অংশ অর্জন করতে পারে সেই লক্ষ নিয়ে কাজ করছেন তারা।
সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মোঃ রায়হান বলেন, মার্সেল ফ্রিজে ডিইসিএস ও আলট্রাবিড ফোর-ডি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। আছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ন্যানো পার্টিকল। ব্যবহৃত হচ্ছে ৮০ শতাংশ বিদ্যুত সাশ্রয়ী এনার্জি সেভিং এলইডি ল্যাম্প। ডোরসহ সব পার্টস সহজলভ্য ও রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টিও রয়েছে। আর এজন্যই বাজারে মার্সেল ফ্রিজের ব্যাপক চাহিদা।
মার্সেল করপোরেট সেলসের প্রধান আসাদুজ্জামান জানান, এ মুহূর্তে বর্তমানে দেশে ফ্রিজের চাহিদার সিংহভাগই পূরণ হচ্ছে বাংলাদেশে উৎপাদিত ফ্রিজ দিয়ে। পাঁচ বছর আগেও যা চিন্তা করা যেত না। এটা বাংলাদেশের জন্য একটা বিরাট অগ্রগতি। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। বাংলাদেশ এখন ফ্রিজ রফতানিকারক দেশ। শুধু তাই নয় কয়েক বছরের মধ্যেই বিশ্বের অনেক দেশেরই ফ্রিজের বাজারের একটি বড় অংশ দখল করতে যাচ্ছে বাংলাদেশে উৎপাদিত ফ্রিজ। তার মতে, পৃথিবীর সেরা ব্র্যান্ডে পরিণত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশি ব্র্যান্ডগুলো।
ফ্রিজের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আবহাওয়া। জানা গেছে, গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে মার্সেলে। সেই সঙ্গে মাইক্রোনসমৃদ্ধ ভিসিএম, পিসিএম, স্টেইনলেস স্টিলের ডোর ও সাইট সিট এবং সেরা মানের কম্প্রেসার ব্যবহার করা হচ্ছে। কন্ডেন্সার কপারের হওয়ার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি ফ্রিজ হয় টেকসই। একটি মার্সেল ফ্রিজ অনায়াসে ২৫-৩০ বছর ব্যবহার করা যায়। খাবার দীর্ঘক্ষণ ঠাণ্ডা থাকে। ন্যানো পার্টিকল থাকায় ফ্রিজের খাবার সহজে নষ্ট হয় না। তাছাড়া মার্সেল ফ্রিজের ডিপ অংশ বড় হওয়ায় আলাদা ডিপ ফ্রিজের প্রয়োজন হয়না।
মার্সেলের মিডিয়া উপদেষ্টা এনায়েত ফেরদৌস বলেন, ফ্রিজ তৈরিতে বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। মার্সেল সেরা মানের চ্যালেঞ্জ নিয়ে রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা দিচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ফ্রিজের মার্কেটের দ্বিতীয় শীর্ষস্থানে চলে যাবে মার্সেল। দেশব্যাপী পর্যাপ্ত বিক্রয় ও সার্ভিস সেন্টার থাকায় গ্রাহকের কাছে দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে সবধরনের সেবা।
বাংলাদেশ সময়: ১৫০৭ ঘণ্টা, জুলাই ১৫, ২০১২
সম্পাদনা: রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপটু এডিটর