 |
ঢাকা: মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টা। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন থেকে আওয়াজ উঠেছে ‘ঈদের পর আন্দোলনের মাধ্যমে হাসিনা-এরশাদ সরকারকে মাইনাস করা হবে...।’
মানববন্ধনের কয়েক গজ দূরেই সাদা জমিনের ওপর কালো কালিতে লেখা দুটি ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন
সদ্য এমবিবিএস শেষ করা এক তরুণ ডাক্তার। নাম তার রাসেল আল-হারুন। পড়াশোনা শেষ করে যার পেশাজীবনে প্রবেশের কথা, তিনি এখন রাস্তায়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় চরম শঙ্কা তার মনে।
ফেনী সদর উপজেলার শরসাদী ইউনিয়নের ঘাঘরা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা গোলাম কিবরিয়া মন্ডলের ছেলে ডা. রাসেল এ বছর চট্টগ্রাম বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ (ইউএসটিসি) থেকে এমবিবিএস শেষ করেছেন।
‘সরকার ও বিরোধী দলের প্রতি আকুল আবেদন’ শিরোনামে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রীকে একত্রে বসার আহ্বান জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘‘দেশের স্বার্থে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে আপনারা ঐক্যবদ্ধ হোন। রমজান পরবর্তী প্রতিহিংসামূলক ও দেশবিরোধী পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি থেকে বিরত থাকুন। আরও একটি জাতীয় বিপর্যয় থেকে দেশকে রক্ষা করুন।’’
রাসেলের বাবা ফেনী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার।
ব্যতিক্রমী উদ্যোগ প্রসঙ্গে ডা. রাসেল বাংলানিউজকে বলেন, ‘‘বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। সেই স্বাধীন দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রধান দুই দল একে অপরকে হুমকি দিচ্ছে। ঈদের পর দেশে কি হবে তা নিয়ে সবাই শঙ্কায় আছে। এ শঙ্কা থেকে বিবেকের তাড়নায় মাঠে নেমেছি।’’
অপর একটি ব্যানারে রাসেল লিখেছেন, ‘‘আসুন রাজনৈতিক শীর্ষ নেতা-কর্মীগণের জুতা পরিস্কার করার মাধ্যমে তাদেরকে দেশের স্বার্থে প্রতিহিংসার রাজনীতি ছেড়ে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানাই এবং স্লোগান তুলি- আওয়ামী লীগ-বিএনপি ভাই ভাই, দেশের স্বার্থে ঐক্য চাই।’’
এ প্রসঙ্গে রাসেল জানান, দেশ রক্ষায় প্রয়োজনে রাজৈনিতক নেতাদের জুতা পরিস্কার করে তাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করবেন তিনি।
ডা. রাসেলের একক কর্মসূচিতে প্রেস ক্লাবের সামনে দিয়ে হেঁটে চলা অনেকেই তাচ্ছিল্যের চোখে তাকালেও সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই তার। ডা. রাসেল বলেন, ‘‘অনেকেই অনেক কথা বলছে। কিন্তু প্রত্যেকে আমার মতো নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা পালন করলে রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে রক্ষা পাবো আমরা।’’
ছাত্রজীবন থেকেই সচেতনতামূলক নানা কাজ করে আসছেন দাবি করে রাসেল বলেন, দেশীয় পণ্য ব্যবহার এবং বিদেশি পণ্য বর্জনের ব্যাপারেও প্রচারণা চালিয়ে আসছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে রাসেল বলেন, ‘‘এই কাজটির মাধ্যমে প্রতি বছর আমরা একটি পদ্মাসেতু নির্মাণ করতে পারি।’’
বাংলাদেশ সময়: ১৯৫৬ ঘণ্টা, আগস্ট ১৪, ২০১২
এমআইএইচ/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর