চট্টগ্রাম: তালসরা দরবার শরীফের টাকা লুটের ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি হবে আগামী ২৮ আগস্ট। অভিযোগপত্রে মামলার আসামি র্যাবের চট্টগ্রাম জোনের প্রধান লে. কর্নেল (বরখাস্ত) জুলফিকার আলী মজুমদারসহ সাতজন।
রোববার চট্টগ্রামের মুখ্য বিচারিক হাকিম মীর রহুল আমিন শুনানির এ সময় নির্ধারণ করেছেন।
চট্টগ্রাম জেলা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক অনু মং বাংলানিউজকে বলেন, “দরবার শরীফের টাকা লুটের ঘটনায় দাখিল করা অভিযোগপত্র আদালতে নথিভুক্ত হয়েছে। এর গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে আগামী ২৮ আগস্ট শুনানি করে আদেশ দেবেন আদালত।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আবদুস সালাম চট্টগ্রামের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রের আসামিরা হচ্ছেন, তৎকালীন র্যাব সদস্য ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট (বরখাস্ত) শেখ মাহমুদুল হাসান ডিএডি আবুল বশর, সাব-ইন্সপেক্টর তরুণ বড়ুয়া, র্যাবের সোর্স দিদারুল আলম, মানব বড়ুয়া ও আনোয়ার মিয়া।
পুলিশের দাখিল করা ওই চার্জশিটে ছয় আসামিকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ১২ পৃষ্ঠার ওই অভিযোগপত্রে ৪২ জনকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের আনোয়ারা তালসরা দরবার থেকে গত বছর ৪ নভেম্বর ২ কোটি সাত হাজার টাকা লুট করে র্যাবের একটি দল।
এ ঘটনায় গত ১৩ মার্চ তালসরা দরবারের গাড়িচালক ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় একটি ডাকাতির মামলা করেন। আসামিদের মধ্যে ১০ জন র্যাব সদস্য ও দুজন র্যাবের সোর্স।
গত ৩০ এপ্রিল অভিযুক্ত জুলফিকার আলী মজুমদারকে চাকরিচ্যুত করে সেনাবাহিনী। ওইদিন রাতেই তিনি তার কর্মস্থল আর্মি রিসার্চ ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (আর্টডক) থেকে বের হয়ে আত্মগোপন করেন।
এরপর গত ৩ মে ভোর তিনটার দিকে তাকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার রমনা থানা এলাকায় তার গার্মেন্টস ব্যবসায়ী এক বন্ধুর বাসা থেকে গ্রেফতার করে আনোয়ারা থানা পুলিশ।
গত ১৭ জুন জুলফিকার আলী মজুমদার হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। এরপর ২১ জুন তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
বাংলাদেশ সময়: ১৭২৪ ঘণ্টা, জুলাই ২৯, ২০১২
আরডিজি/রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর