ভোলা: ভোলার মনপুরা উপজেলার দুর্গম চর নিজাম (কালকিনির চর) এলাকা থেকে মেঘনার দুর্ধর্ষ দস্যু করিম বাহিনীর প্রধান করিমসহ ২ দস্যুকে আটকের পর গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় জেলেরা।
আটক ২ জলদস্যুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে মনপুরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আটকরা হলেন- করিম বাহিনীর প্রধান করিম (৩৫) ও তার সহযোগী মাঈনুদ্দিন (৩৭)। এদের বাড়ি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায়।
এর আগের দিন চরফ্যাশনের ভাসান চর ও মনপুরার চর নিজাম থেকে আরও ৮ দস্যুকে আটকের পর চোখ উৎপাটন ও একজনকে গণধোলাই দেন বিক্ষুদ্ধ জেলে ও জনতা।
এ নিয়ে বুধবার পর্যন্ত মোট ১১ জেলেকে আটক করা হলো। তবে এরা সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কাউকে জেলাহাজতে পাঠানো হয়নি।
আটক সব জলদস্যু করিম বাহিনীর সদস্য এবং মঙ্গলবার নিহত দস্যুদের সহযোগী বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, বুধবার দুপুরে মাঈনুদ্দিন নামে এক দস্যুকে পালানোর সময় চর নিজাম থেকে আটক করে গণপিটুনি দেয় জনতা।
এর পর বিকেল ৫টার দিকে বাহিনী প্রধান করিমকেও একইভাবে গণপিটুনি দেয় জনতা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।
তিনি বলেন, ‘জঙ্গলে আরও দস্যু থাকতে পারে। তাদের আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ ও জনতার গণপিটুনিতে ৫ দস্যু নিহত ও ২ জলদস্যু আটক হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, নিহত ৫ দস্যুর ময়না তদন্ত ভোলা সদর হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে।
পরিচয় না পাওয়ায় তাদের বুধবার বিকেলে বেওয়ারিশভাবে দাফন করা হয়।
ভোলা শহরের আলী মাদ্রাসা সড়কের গোরস্থানে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম এ লাশ দাফন করে বলে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শওকাত হোসেন বাংলানিউজকে জানান।
বাংলাদেশ সময়: ২২১৫ ঘণ্টা, মে ৩১, ২০১২
সম্পাদনা: আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর