 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
গোপালগঞ্জ: বাংলাদেশে বাম রাজনীতির পুরোধা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক নির্মল সেনের ৮২তম জন্মদিন শুক্রবার। এ দিন তিনি প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, “আপনারা সংলাপের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে দেশকে বাচাঁন।”
তিনি আরও বলেন, “এ দেশের জনগণকে বাঁচান। এ দেশের গণতন্ত্রকে বাঁচান। তা না হলে দেশে সংঘাত হবে, নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে।”
শুক্রবার বিকেল ৫টায় কোটালীপাড়া উপজেলার দীঘিরপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে ৮২তম জন্মদিনের কেক কাটার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় গুণী সাংবাদিক ও লেখকের জন্মদিনে উপস্থিত ছিলেন- কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মিজানুর রহমান, প্রকৌশলী আবু কালাম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পিনজুরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার, বাংলাদেশ প্রতিদিনের গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি আমিনুল হাসান শাহীন, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমের জেলা প্রতিনিধি একরামুল কবীর প্রমুখ।
এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা নির্মল সেনকে ফুল দিয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে আগত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রবীণ নির্মল সেন তার জীবনের শেষ ইচ্ছা নিজ বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেন মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার কথা পুনরায় ব্যক্ত করেন।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বাংলানিউজকে জানান, প্রবীণ সংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেন নামে একটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার করার জন্য ২৫ জুলাই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নির্মল সেনকে কলেজের জমি দেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, আগামী রোববার জমি দলিলের কাজ সম্পন্ন করা হবে। খুব তাড়াতাড়ি তার বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেন মহিলা কলেজের কাজ শুরু করা হবে।
নির্মল সেন ১৯৩০ সালের ৩ আগস্ট গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামে এক সভ্রান্ত হিন্দু পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।
নির্মল সেনের বাবার নাম সুরেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত। মাতার নাম লাবণ্য প্রভা সেন গুপ্ত। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে নির্মল সেন পঞ্চম ।
নির্মল সেনের বাবা সুরেন্দ্র নাথ সেনগুপ্ত কোটালীপাড়ার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ কোটালীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের গণিত শিক্ষক ছিলেন। তার আগে সুরেন্দ্রনাথ সেন গুপ্ত ঢাকার ইস্ট বেঙ্গল ইনস্টিটিউটে শিক্ষকতা করতেন।
ভারত ভাগের আগে ১৯৪৬ সালে নির্মল সেনের বাবা-মা অন্য ভাই বোনদের সঙ্গে নিয়ে কলকাতা চলে যান। কিন্তু জন্মভূমির প্রতি অকুণ্ঠ ভালবাসার এবং অবিচল দেশপ্রেমের কারণে তিনি এদেশে থেকে যান।
নির্মল সেনের কৈশোর কেটেছে ঝালকাঠি জেলার কলসকাঠি গ্রামে তার পিসির (ফুফু) বাড়িতে।
তিনি ঝালকাঠি জেলার কলসকাঠি বিএম একাডেমি থেকে ১৯৪৪ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে ম্যাট্রিকুলেশান(এসএসসি) পাস করেন।
পিসির বাড়িতে যাওয়ার আগে নির্মল সেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জিটি স্কুলে এক বছর লেখাপড়া করেন। তিনি বরিশাল বিএম কলেজ থেকে আইএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ ও মাস্টার্স পাস করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চিরকুমার।
নির্মল সেনের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় স্কুল জীবন থেকে ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের মাধ্যমে। কলেজ জীবনে তিনি অনুশীলন সমিতির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আরএসপিতে যোগ দেন। দীর্ঘ দিন তিনি কৃষক-শ্রমিক সমাজবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সভাপতি। রাজনীতি করতে গিয়ে নির্মল সেনকে জীবনের অনেকটা সময় জেলে কাটাতে হয়েছে।
দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় সাংবাদিকতার মধ্যে দিয়ে নির্মল সেন তার সাংবাদিকতার জীবন শুরু করেন ১৯৫৯ সালে। তার পর দৈনিক আজাদ, দৈনিক পাকিস্তান, দৈনিক বাংলা পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিষয়ে অতিথি শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন।
লেখক হিসেবেও নির্মল সেনের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। তার লেখা পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ, মানুষ সমাজ রাষ্ট্র, বার্লিন থেকে মস্কো, মা জন্মভূমি, স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই, আমার জবানবন্দি উল্লেখ্যযোগ্য।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৫০ ঘণ্টা, আগস্ট ০৩, ২০১২
সম্পাদনা: শামীম হোসেন, নিউজরুম এডিটর