 |
| ছবিঃ দেলোয়ার হোসেন বাদল/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
নয়াপল্টন থেকে: পদ্মাসেতুর দুর্নীতির দায় স্বীকার করে এই মুহূর্তে সরকারকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি সরকারকে ‘ব্যর্থ’, ‘অযোগ্য’ ও ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে পদত্যাগ করে জাতিকে মুক্তি দেওয়ারও আহ্বান জানান।
বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালককে জীবিত অবস্থায় তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দান, সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ আলি হত্যার বিচার এবং দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, নারী-শিশু নির্যাতন ও আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির প্রতিবাদে প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সরকারের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘অবিলম্বে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুর্নবহাল করে নির্বাচন দিন, ক্ষমতা ছেড়ে দিন। যদি জনগণের দাবি না মানেন, তাহলে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দাবি মানতে বাধ্য করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করা হবে।’’
সরকারকে `আধিপাত্যবাদের তোষামোদকারী ও পরনির্ভরশীল` আখ্যায়িত করে ফখরুল বলেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে আবারও ট্রানজিট চুক্তি নবায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা তিস্তার পানি পাচ্ছি না। সীমান্তে মানুষ হত্যা বন্ধ হচ্ছে না। আমরা প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই। তার মানে এই নয় যে, ক্ষমতায় থাকার জন্য দেশের স্বার্থকে বিকিয়ে দিয়ে অন্যের হাতে তুলে দিতে হবে।’’
পদ্মাসেতু নির্মাণে এই সরকার ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘‘আজ দুর্নীতির কারণে জাইকা, এডিবি, বিশ্বব্যাংক সবাই ঋণচুক্তি বাতিল করেছে। এই সরকার নিজেরা চুরি ও দুর্নীতি করে সারা বিশ্বের কাছে গোটা জাতিকে চোর হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।’’
বিশ্বব্যাংকের নিন্দা জানিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া অর্থমন্ত্রীর বিবৃতি সম্পর্কে ফখরুল বলেন, ‘‘তিনি দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করতে সাফাই গেয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের যে নিন্দা করেছেন, তা খুবই দুঃখজনক। কারণ, বিশ্বব্যাংক আওয়ামী লীগকে চোর ও দুর্নীতিবাজ প্রমাণ করেছে, এটাই তাদের অপরাধ।’’
তিনি বলেন, ``সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। তাদের যদি লজ্জা থাকতো তাহলে পদ্মাসেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে পদত্যাগ করা শোভন হতো।``
অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ, জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মজিবুর রহমান, বাংলাদেশের জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম আল মামুন, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আব্দুল লতিফ নেজামী, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা শিরিন সুলতানা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম।
বাংলাদেশ সময়: ১৯১৫ ঘণ্টা, জুলাই ০৪, ২০১২
এমএম/এমআইএইচ/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর;জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com