 |
ঢাকা: গ্রামীণব্যাংকে একজন উপযুক্ত এমডি নিয়োগের জন্য ‘আন্তর্জাতিক আগ্রহপত্র’ (ইন্টারন্যাশনাল এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট) আহবান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার দুপুরে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ কথা বলেন। একই সঙ্গে ‘আসন্ন ঈদের আনন্দের মধ্যেও তিনি পদ্মাসেতু ও গ্রামীণব্যাংক নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছেন’ বলেও জানান।
গ্রামীণব্যাংক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘সোমবার মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আমি বলেছি যে, গ্রামীণব্যাংক সরকার দখল করেছে বলে ড. ইউনূস যা বলে বেড়াচ্ছেন, সেটা সম্পূর্ণ ভুয়া। এটা ঠিক যে, গত দেড় বছরে গ্রামীণব্যাংকের এমডি নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ঋণগ্রহীতারা ড. ইউনূসের নাম প্রস্তাব করায় সিলেকশন প্রক্রিয়ায় কেবল তার নামই চলে আসে। কিন্তু তিনি তো আর এমডি হতে পারেন না। গ্রামীণব্যাংকের বিধান অনুযায়ী ব্যাংকের এমডি মনোনয়ন দেবে পরিচালনা বোর্ড। তবে এক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের সুপারিশ লাগবে।’’
গ্রামীণব্যাংকের এমডি নিয়োগের জন্য দেশে-বিদেশে উপযুক্ত লোক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ``এ অবস্থায় গ্রামীণব্যাংকের একজন উপযুক্ত এমডি নিয়োগের জন্য ‘আন্তর্জাতিক আগ্রহপত্র’ (ইন্টারন্যাশনাল এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট) আহবান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গ্রামীণব্যাংকের এমডি হওয়ার জন্য অনেক বিদেশি বিশেষজ্ঞ এরই মধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ``সোমবার মার্কিন রাষ্ট্রদূত দু’টি বিষয়ে কথা বলেছেন। প্রথমত, ঋণগ্রহীতারাই এমডি নির্বাচন করবেন এবং দ্বিতীয়ত গ্রামীণব্যাংকের এমডিকে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হতে হবে। ``
ঋণগ্রহীতা কর্তৃক এমডি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ``অতোটা সচেতনতা বা সক্ষমতা এখনো তাদের হয়নি। তারা মনে করেন, ড. ইউনূস থাকলেই সব ঠিক। কিন্তু বর্তমানে নতুন ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে এ প্রবণতা তেমন নেই। এখন নতুন এমডি নিয়োগ দেওয়া হলেই ঋণগ্রহীতারা বুঝতে পারবেন যে, তিনি কতোটা যোগ্য। ``
প্রসঙ্গ: পদ্মাসেতু
পদ্মাসেতু প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি এবং আমার সরকার চায়, পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করুক। কারণ, বিশ্বব্যাংক যে অভিযোগ তুলেছে, এতে করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। এটা পুনরুদ্ধার করতে হবে। বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করলে এটা পুনরুদ্ধার করা সহজ হবে।’’
``পদ্মাসেতুর বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্বব্যাংক একটি বড় ভুল করেছে`` উল্লেখ করে তিনি বলেন, ``চিঠি লিখতে মাত্র দশ মিনিট লাগে। যে কোনো সময় এটি দেওয়া যেতে পারে। তবে পুরো বিষয়টি এখন একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এবং বিষয়টি এখন অনেক দূর এগিয়েছে।``
প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, ``চিঠি না দেওয়া হলেও বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বব্যাংকের ভারত-বাংলাদেশ-নেপালের নির্বাহী পরিচালক এম এন প্রসাদ (ভারতের সাবেক মুখ্য সচিব)। এডিবি ও জাইকাও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে। এছাড়া মঙ্গলবার থেকে বাংলাদেশের বিকল্প পরিচালক ড. মো. তারেক এ আলোচনায় যোগ দিচ্ছেন। পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন-আলোচনাটি একটি ইতিবাচক পর্যায়ে গেলেই চিঠি দেওয়া হবে।``
মন্ত্রী বলেন, ``এছাড়া আইডিবি’র বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েই আছে। একদিন তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।``
নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ``এটা সম্ভব। তবে এজন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার ও কৃচ্ছ সাধন করতে হবে। এখন যে রমরমা ভাবটা আছে, পরে সেটা থাকবে না। অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও জিডিপিতে এর প্রভাব পড়বে। ``
তিনি আরো জানান, ‘‘সোমবার এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে প্রস্তুত আছি।’’
অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করলে স্বল্প সুদে ও কম খরচে এটা করা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
বাংলাদেশ সময়: ১৬১৮ ঘণ্টা, আগস্ট ১৪, ২০১২
এসআর/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com