 |
নব্বই বছর আগে (১৯২২সালে) কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন ‘বিদ্রোহী’ কবিতা। তখন তাঁর বয়স ২৩ বছর। বাংলা কবিতার এক বিস্ময়কর ব্যতিক্রম নজরুলের ‘বিদ্রোহী’। এই কবিতার কোনও পূর্বসূরি নেই ও বাংলা কবিতার ঐতিহ্যের মধ্যে এই কবিতার বীজ নিহিত নেই; এর সার্থক উত্তরাধিকারও নেই।
নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ আদি-মধ্য-অন্তহীন; কোনও যুক্তিপরম্পরা, দ্বিধাদ্বন্দ্বের রৈখিকতায় প্রলম্বিত নয়; সৃষ্টিবৈরী মহাত্রাস শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রলয় নাচ নেচে যায়, তিনি থামবেন, ‘যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়ক কৃপাণ ভীম রণভূমে রণিবে না।’ উৎপীড়িতের পক্ষে ছিলেন তিনি তাই তো তিনি লিখতে পেরেছিলেন: “চাষী সমস্ত বছর ধরিয়া হাড় ভাঙা মেহনত করিয়া মাথার ঘাম পায়ে ফেলিয়াও দু-বেলা মাড় ভাত খাইতে পায় না... অথচ তাহারই ধান-চাল লইয়া মহাজনেরা পায়ের উপর পা দিয়া বারো মাসে তেত্রিশ পার্বণ করিয়া নওয়াবী চালে দিন কাটাইয়া দেন।...কয়লাখনির কুলিদিগকে আমরা স্বচক্ষে দেখিয়াছি, তাহাদের কেহ ত্রিশ-চল্লিশ বছরের বেশী বাঁচে না। তাহারা দিন রাত্রি খনির নিচে পাতালপুরিতে আলো-বাতাস হইতে নিজেদের বঞ্চিত করিয়া ফেলে। কোম্পানি তো তাহাদের দৌলতেই লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করিতেছে।”
কুলি-মজুরদেরকে কাজী নজরুল ইসলাম বিশেষ দৃষ্টিতে দেখতেন। তাঁর দৃষ্টিতে কুলি-মজুর মানুষের সেবায় নিবেদিত দেবতা বিশেষ। তাই তো তিনি লিখেছেন: ‘শোকের নিশির শিশির ঝরে/ ফলবে ফসল ঘরে ঘরে।’ তাঁর হাতে বাঙ্ময় হয়ে ওঠে: ‘জাগো অনশন বন্দি, ওঠরে যত/ জগতের লাঞ্ছিত ভাগ্যহত/ যত অত্যাচারে আজ বজ্রহানি/ হাঁকে নিপীড়িত জন-মন মথিত বাণী, নব জনম লভি অভিনব ধরণী/ ওরে ওই আগত।
শুধু যে কবিতাই লিখেছেন তা তো নয় তিনি এমন অনেক প্রবন্ধও রচনা করেছেন। নজরুলের দেশপ্রীতি, দেশের মানুষের প্রতি অকৃত্তিম ভালবাসা আমাদের অনুপ্রাণিত করে। তিনি ছিলেন জাতি-ধর্ম-সম্প্রদায়ের উর্দ্ধে।
বাংলা সাহিত্যে, কবিতায়, সংগীতে, স্বদেশপ্রীতিসহ বহু সৃষ্টিতে একটি অবিস্মরণীয় নাম কাজী নজরুল ইসলাম। অসামান্য প্রতিভার অধিকারী কাজী নজরুল ছিলেন একাধারে কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, গীতিকার, সুরকার, গীতি আলেখ্য ও গীতিনাট্য রচয়িতা, সংগীত পরিচালক এবং আরও অনেক কিছু।
কাজী নজরুল ইসলাম সংগীতে অনেক কিছু দিতে পেরেছিলেন বলে দাবি করেছিলেন। ১৯৩৮ সালে জনসাহিত্য সংসদের ভাষণে তিনি বলেছিলেন: ‘সাহিত্যে দান আমার কতটুকু তা আমার জানা নেই। তবে এইটুকু মনে আছে। সংগীতে আমি কিছু দিতে পেরেছি।’
১৯১০ সালে দশ বছর বয়সে নিম্ন প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আরবি ভাষায় কোরআন পাঠ আরম্ভ করেন। তাঁর এক কাকা বজলে করিমের আরবি ও ফারসি ভাষায় বিশেষ দখল ছিল। কাজী নজরুল তাঁর কাছে ফারসি শিখেছিলেন। তাঁরই প্রভাবে পরবর্তীকালে নজরুলের রচনায় বাংলার সঙ্গে ফারসির প্রয়োগ দেখা যায়। কাজী বজলে করিমের একটা লেটো দল (লেটো হচ্ছে এক ধরণের পালা গান) ছিল। নজরুল সেই দলে যোগ দেন। সেই থেকেই তিনি পালা গান লেখা আরম্ভ করেন। এগারো বছর বয়সে লেটো দলের সময়োপযোগী কবিতা, গান, নাটক রচনা করেন এবং সদলবলে বিভিন্ন গ্রামে অভিনয় করে খ্যাতি লাভ করেন। অর্থাৎ এসময়ই তার কবিত্ব শক্তির বিকাশ ঘটেছিল। এসময়ই তিনি ইংরেজি-বাংলা মিশ্রণে কমিক গান লেখেন: ‘রব না কৈলাসপুরে আই আ্যাম ক্যালকাটা গোয়িং/ যত সব ইংলিশ ফেসেন, আহা মরি কি লাইটনিং/ ইংলিশ ফেসন সবি তার, মরি কি সুন্দর বাহার/ দেখলে বন্ধু দেয় চেয়ার/ কামন ডিয়ার গুড মর্নিং’। নজরুল ‘চড়ুই পাখির ছানা’ কবিতাটি লিখেছিলেন মাত্র ১৯ বছর বয়সে। এই সময়ই তিনি লেখেন বিখ্যাত গানটি ‘কেউ ভোলে না কেউ ভোলে/ অতীত দিনের স্মৃতি।’
১৯১৭ সালে কবি নজরুল যখন রানীগঞ্জের শিয়ারশোল স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র তখন প্রি-টেস্ট পরীক্ষা না দিয়ে এবং কাউকে কিছু না জানিয়ে সৈন্য বাহিনীতে যোগ দিয়ে করাচি চলে যান। ১৯২০ সালের শেষ দিকে করাচি থেকে কলকাতায় ফিরে এসে কমরেড মোজাফ্ফর আহমেদের সান্যিধ্যে আসেন। শুরু হয় তাঁর জীবনের নতুন অধ্যায়। ১৯২২ সালে তাঁর সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘ধূমকেতু’ প্রকাশিত হয়। ধূমকেতুর জন্য নোবেল জয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আশীর্বাদ পাঠালেন-‘আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু/ দুর্দ্দিনের এই দুর্গশিরে/ উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন!’ একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর ‘ধুমকেতু’র শারদীয় সংখ্যায় কবি নজরুলের ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ শীর্ষক কবিতা প্রকাশের অভিযোগে তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। ‘আর কতকাল থাকবি বেটি মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল?/ স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি- চাঁড়াল।/ দেব-শিশুদের মারছে চাবুক বীর যুবাদের দিচ্ছে ফাঁসী;/ ভূ-ভারত আজ কসাইখানা,-আসবি কখন সর্বনাসী?’ দেবী দূর্গাকে সম্বোধন করে ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে তাঁর তীব্র রোষ ঝরে পড়লো। এই কবিতা লেখার অভিযোগে তৎকালীন বৃটিশ সরকার ১৯২৩ সালের ১৭ জানুয়ারি কাজী নজরুল ইসলামকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করে।
১৯২৩ সালের মে মাসে বৃটিশ শাসক কর্তৃক রাজবন্দীদের প্রতি অমর্যাদা প্রদর্শনে কাজী নজরুল রাজবন্দীদের সঙ্গে অনশন ধর্মঘট শুরু করেন। চুরুলিয়া থেকে কবিমাতা এসেও অনশন ভাঙ্গাতে ব্যর্থ হন। সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র ও চিত্তরঞ্চন দাশও আসেন। শিলং থেকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ টেলিগ্রাম বার্তা পাঠালেন অনশন ভঙ্গ করার জন্য। তিনি লিখলেন ‘অনশন ভঙ্গ করো। আমাদের সাহিত্য তোমাকে দাবি করে।’ রবীন্দ্রনাথ প্রথমে রাজি হননি তাঁকে অনশন ভঙ্গের কথা বলতে। কারণ তাঁর মনে হয়েছিল তাতে আদর্শবান এই কবিকে তাঁর আদর্শ থেকে চ্যুত হতে বলা হবে। কিন্তু অনশনের মেয়াদ বৃদ্ধিতে কবি শঙ্কিত হলেন। পরে ৩৯ দিন অনশনের পর তাঁর ঐতিহাসিক অনশন ভঙ্গ করেন।
কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থ প্রথম প্রকাশিত হয় অক্টোবর ১৯২২ সালেই বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রলয়োল্লাস, কামালপাশা, বিদ্রোহী, আগমনী’র মতো আবেগমথিত সর্বজনপ্রিয় কবিতাগুলি সেইসময়েই লেখা। ছাপাবার সঙ্গে সঙ্গে দুই হাজার কপি শেষ। পরের বছর যখন দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় তখন কবি রাজদ্রোহ অপরাধে কারারুদ্ধ।
সাম্যবাদ ছিল তাঁর মজ্জায়, তাঁর প্রতিটি রক্ত কণিকায়। তাঁর বহু গল্প-নাটক-কবিতার উপজীব্য হয়েছে মানবপ্রেম। সামাজিক, নৈতিক, রাজনৈতিক যাবতীয় অব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাঁর কলম গর্জে উঠেছে। সাহিত্য মূল্যের কথা মাথায় না রেখে তিনি অকাতরে সত্য উচ্চারণ করে গেছেন, যা থেকে আজও আমরা অনুপ্রাণিত হই। ধর্ম্মান্ধতার বিরুদ্ধে তিনি লিখেছেন- ‘...যবন না আমি কাফের ভাবিয়া খুঁজি টিকি দাড়ি নাড়ি কাছা’ (আমার কৈফিয়ত)।
বিদ্রুপ করে লেখেন- ‘..বদনা গাড়–তে গলাগলি করে নব প্যাক্টের আশনাই। মুসলমানের হাতে নাই ছুরি হিন্দুর হাতে বাঁশ নাই। আটসাঁট করে গাঁটছড়া বাঁধা হল টিকি আর দাড়িতে। বজ্র সাঁটুনি ফস্কা গেরো? তা হয় হোক তাড়াতাড়িতে’।
জাত-পাতের অন্ধত্বের বিরুদ্ধে তিনি সর্বদাই গর্জে উঠেছেন। ইসলাম ধর্মের সমস্ত আচার-ব্যবহার, নিয়ম যেমন ছিল তাঁর নখদর্পনে তেমনই ছিল হিন্দুশাস্ত্র সম্পর্কে অগাধ জ্ঞান, তিনি যেমন লিখেছেন ‘তোমার বাণীরে করিনি গ্রহণ ক্ষমা করো হযরত/ ভুলিয়া গিয়াছি তব আদর্শ, তোমার দেখানো পথ।’ আবার লিখেছেন ‘আমি ইন্দ্রাণী-সুত হাতে চাঁদ ভালে সূর্য/ মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাশরী, আর এক হাতে রণতুর্য/ আমি কৃষ্ণ কন্ঠ মন্থন বিষ পিয়া ব্যাথা বারিধির/ আমি ব্যোমকেশ, ধরি বন্ধন-হারা ধারা গঙ্গোত্রীর’।
দেশ-কাল-ধর্ম-সমাজ-এর বিধিনিষেধ কবি কাজী নজরুল ইসলামকে কখনও বাঁধতে পারেনি। কবি প্রত্যাভিভাষণে বলেছেন যারা আমার নামে অভিযোগ করেন তাঁদের মত হলুম না বলে তাঁদেরকে অনুরোধ, আকাশের পাখিকে, বনের ফুলকে, গানের কবিকে তাঁরা যেন সকলের করে দেখেন। আমি এই দেশে এই সমাজে জন্মেছি বলেই এই দেশের এই সমাজেরই নই। আমি সকল দেশের, সকল মানুষের সুন্দরের ধ্যান, তাঁর স্তবগানই আমার উপাসনা, আমার ধর্ম। যে কুলে, যে সমাজে, যে ধর্মে, যে দেশেই জন্ম গ্রহণ করি সে আমার দৈব। আমিও তাকে ছাড়িয়ে উঠতে পেরেছি বলেই কবি।
কবি নজরুল অনাবিলভাবে ভালোবেসেছেন দেশকে, দেশের মানুষকে। আর শুধু নিজের দেশের মানুষ নয়, তা চলে গেছে মানবজাতির প্রতি শ্রদ্ধা আর ভারবাসায়! “পূজিছে প্রস্থ ভণ্ডের দল। -মূর্খরা সব শোনো/ মানুষ এনেছে গ্রন্থ; গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো।” মানুষের বিচার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তার কাজের পরিচয়ে নয়। সম্পর্ক মানুষের সঙ্গে মানুষের দৃঢ় হয় মানবতার বন্ধনে। দীন দুঃখীর চোখের জল তাঁকে কাতর করেছে। তাই তো লিখেছেন: ‘চাষা বলে করো ঘৃণা!/ দেখো চাষারূপে লুকিয়ে জনক বলরাম এল কিনা।’ আবার লিখেছেন: ‘দেখিনু সেদিন রেলে,/ কুলি বলে এক বাবুসা’ব তাকে ঠেলেদিলে নিচে ফেলে/ চোখ ফেটে এল জল/ এমন করে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল!’ চতুর্দিকের এসব অত্যাচার অনিয়ম দেখেই তিনি লিখেছেন, ‘জাগো অনশন বন্দি, ওঠো রে যত/ জগতের লাঞ্ছিত ভাগ্যহত/ যত অত্যাচারে আজ বজ্রহানি/ হাঁকে নিপীড়িত জন-মন মথিত বাণী, নব জনম লভি অভিনব ধরণী/ ওরে ওই আগত।
শুধু চেখের জল ফেলার মানসিকতা তার নয়। খর রৌদ্রের দীপ্তিতে তিনি উজ্জ্বল। মাথা নিচু নয়, মাথা উঁচু করে আকাশ ফুরে উঠতে চান। বিদ্রোহী এই একটি কবিতাই তাকে অমরত্ব দিতে পারে। “বল বীর, বল উন্নত মম শির।/ শির নেহারি আমারি নত শির ঐ শিখর হিমাদ্রির, বলবীর..”.।
যেখানে দু:খ-যন্ত্রণা-দারিদ্র সেখানে তিনি, আর যেখানে শোষণ-বঞ্চনা সেখানেও তিনি। দেশ মাতৃকার পরাধীনতা, দেশের মানুষের পরাধীনতা, যেমন ব্যথিত করেছে তাঁকে অন্যদিকে দেশের মানুষের প্রতি ইংরেজ সরকারের চাপিয়ে দেওয়া দমননীতি-উৎপীড়ন ক্রুদ্ধ করে তুলেছে তাঁকে। ধূমকেতু, নবযুগ, লাঙল-এর পাতায় পাতায় তাঁর আগুন ঝরা লেখনী ইংরেজকে সন্ত্রস্ত করেছে। কারার লৌহ কপাট ভাঙার ডাক দিয়েছেন তিনি। সংবাদপত্রে দ্ব্যার্থহীন ভাষায় পূর্ণ স্বাধীনতার দাবিতে সরব হয়েছেন তিনি: ‘স্বরাজ টরাজ বুঝি না, কেন না ও কথাটার মানে এক এক মহারথী এক এক করে থাকেন। ভারতবর্ষের এক পরমাণু অংশও বিদেশির অধীনে থাকবে না। ভারতবর্ষের সম্পূর্ণ দায়িত্ব, সম্পূর্ণ স্বাধীনতা রক্ষা, শাসনভার সমস্ত থাকবে ভারতীয়দের হাতে।’ তাঁর বিষের বাঁশী, ভাঙার গান, প্রলয় শিখা প্রভৃতি বই বাজেয়াপ্ত হয়েছে কিন্তু তাঁকে স্তব্ধ করা যায়নি।
কাজী নজরুলের দৃষ্টিতে ভারতবর্ষ শুধু মন্দির-মসজিদের মহামিলনের তীর্থভুমির ভারত নয়। ভারতবর্ষের সকল স্তরের মানুষের প্রতি তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালবাসা ছিল। মুক্তি ও মিলনের জন্য যাঁরা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে কবি লিখেছেন: ‘মুক্তির লাগি মিলনের লাগি/ যাহারা আহুতি দিয়াছে প্রাণ,/ হিন্দু-মুসলমান চলেছি আমরা/ গাহিয়া তাদেরই বিজয় গান।’
কবি নজরুল নারীদের জন্য লিখেছেন: ‘যে দেশের নারীরা বন্দিনী,/ আদরের নন্দিনী নয়,/ সে দেশের সব জড়/ ভীরু কাপুরূষ রয়।’ স্বদেশের প্রতিও কাজী নজরুলের আরও মমত্ববোধের পরিচয় পাওয়া যায়। -‘মাকে আমি ছোট করছিনে, বলতে গেলে মা-ই বড়, তবে আমার আর এক মা আছে দেশ ‘মা’। তাকে আমি ‘বড় মা’ বলি।
কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীল জীবন মাত্র ২২ বছরের। ১৯২০ সাল থেকে ১৯৪২ সাল। এই ২২ বছরে তিনি বিভিন্ন আঙ্গিকে প্রচুর সৃষ্টি করে গেছেন যা আমাদের মধ্যে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এর পর কবি অসুস্থ অবস্থায় বেঁচে ছিলেন ৩৪ বছর। যদি তিনি সুস্থ থাকতেন তা হলে তাঁর সৃষ্টি যে কোথায় গিয়ে পৌঁছাতো তা ভাবতেও শিউরে উঠতে হয়।
পরিশেষে এই মরমী কবির একটি উক্তি দিয়ে আমার এই সংক্ষিপ্ত লেখাটি শেষ করছি। ‘বিশ্বাস করুণ আমি কবি ও নেতা হতে আসিনি, আমি এসেছিলাম প্রেম দিতে ও প্রেম পেতে।” তাই প্রেমিক কবির কণ্ঠে শোনা যায় তাঁর ব্রত, সাধনা ও তপস্যার কথা- “জীবন আমার যত দুঃখময়ই হোক, আনন্দের গান, বেদনার গান গেয়ে যাব আমি, দিয়ে যাব নিজেকে নিঃশেষ করে সকলের মাঝে বিলিয়ে, সকলের বাঁচার মধ্যে থাকবো আমি বেঁচে। এই আমার ব্রত, এই আমার সাধনা, এই আমার তপস্যা।’
বাংলাদেশ সময়: ১৯০২ ঘণ্টা, ২২ আগস্ট, ২০১২
সম্পাদনা: এম জে ফেরদৌস, নিউরুম এডিটর mjferdous0@gmail.com