পথের গল্প
হয়তো পথের গল্পই সঠিক ছিলো। হয়তো উপল
উপত্যাকা ছেড়ে জলের রেখায় হেঁটে গেছে
যে দুপুর বেলার জ্যোৎস্না; তারপর স্বপ্নে
কেটেছে তমস অন্ধকার গতি।
এটা খুব পরিচিত দৃশ্য
এটা খুব পরিচিত মুখ
এটা খুব পরিচিত সময় হয়তো
হতে পারতো; পারেনি।
পায়ে পায়ে; পায়ের রেখারা শুয়ে আছে,
রঙধনু ব্রাশ মেরে যাবে
এমন ভেবেই সুতোর চরকি কেটে
পুকুরের জল, লেকের জলের
অতলে মুখের হেঙ্গারে ঝুলছে
জল টলমল চোখ।
হয়তো চোখের জলের গল্পরা আর গল্প নয় বলে
সিঁড়ি বেয়ে, রেলিঙ মাড়িয়ে দূর্বা শরীরের
কুয়াশা ঝরিয়ে; হাঁটা পথের সামান্য দূরে;
ওই দূরে... হয়তো...হয়তো...
ফেরা হয় ফেরা যায় না বলেই। হয়তো ফিরতে
হবে একথা উপল উপত্যাকায় খোদাই
রেখে তাই বেঁকে গেছে পথ।
থই থই রুপোর ছায়ায় মেলে যাওয়া দিগন্ত;
বরফ কুঁচির গোপনে গলতে থাকা মোম;
হয়তো জলের ভাঁজে ভাঁজে নিপাট লুকিয়ে গেছে
শ্বাস; স্বপ্ন; ক্রোধ; লাটিম গতির বাউণ্ডুলে
অন্ধ অন্ধকার। তারপরও হয়তো...তুমি!
আমার সন্তান
সময় আবার চিৎকার করছে বেসুরো তাল-লয়ে
এত লম্বা সাঁকো পেছনে পড়েছে
হেই হেঁচকা সন্ধ্যায়!
হাওয়ার কুণ্ডলি মোড়ানো ভিষণ ব্যথায়
আশ্রয় খুঁজেছি কোথাও,
শিমুল তুলোর দৃশ্য ভেসে গেছে
জলে জলে হেসেছে সবুজ রঙ,
ফের তবু বাজে বুকের কিনারে
শিতান শিতান!
আমারে ভুলেছে; রেখেছে মনে
আমার সন্তান?
কালো কালো ছায়ায় মুড়েছে দিন
গভীর গোপনে রাখা হন্তারক মুখগুলো
বেড়াল নৈঃশব্দে হাঁটে,
হেঁটে হেঁটে পথ চলে গেছে দখিন মেরুর সভ্যতায়
বিমান ছুটেছে বলে পাহাড় মেঘের কোলে
খুঁজিনি রাত্রির মায়া।
খুঁজিনি ধুলোয় পায়ের চিত্রল দাগ
খুঁজিনি ঘামের গন্ধ মোড়ানো ন্যাপথলিন...
সভ্যতা সভ্যতা মাকড়শার খাঁচায়
কুয়াশার বেশি মায়াজাল মাখে,
গুহায় গুহায় টর্চলাইট ফোকাসে
ফের ফেরে ধুসর জৌখতিয়ান!
আমারে ভুলেছে; রেখেছে মনে
আমার সন্তান?
বাইরে ভিজেছে বৃষ্টি
বৃষ্টি ভেজা নই বলে বাইরে ভিজেছে বৃষ্টি
বোবা চোখে সেদিনও বৃষ্টি ছিলো
টুপুর-টাপুর, টুপুর-টাপুর।
বৃষ্টি ভেজা নই বলে দক্ষিণের মেঘ
এসেছিলো উত্তরের ঘরে।
ও মাঠের হাওয়া; পাঁজরে লেগেছে আঘাত;
বিশ্রাম চাদরে ঘুম,
কি ভীষণ তৃষ্ণায় কেটেছে রাত; বোবা রাত!
শীত ঘরে গলা ভেজে, রোদ ঘরে গলা ভেজে
বোবা অন্ধকার হাত বাড়ালে নিষ্ঠুর
ভিজে যায় পাপড়িহীন চোখের গভীর। আলতো
স্পর্শ দিলে আরো ভেজে
নিরাপদ চিৎকার
আপাদমস্তক রোমহীন ত্বকের অলীক ক্ষত।
চাঁদ নেমেছে বৃষ্টির রাতে
এখন দুপুর রাত, এখন শেষ প্রহর রাত
এখন আলিঙ্গনে আলিঙ্গনে সময় ভোলা রাত
মাম্মি, ও মাম্মি এখন বৃষ্টি মোড়া রাত বলে
মরে গেলে ফের জন্ম দেবে তুমি
মাম্মি, ও মাম্মি, টুপুর-টাপুর, টুপুর-টাপুর, আহা!
লাল নিশানায় হুইসেল বাজলে জিহ্বায়
মাখা জল ঠোঁট আর স্তনের প্রলেপে গেছে।
বোবা ভয়; বোবা বৃষ্টি; বোবা রাত,
বোবা বোবা সময়গুলো তৃষ্ণার জলে;
বৃষ্টির বেভুল জলে ভেসে গেছে...
মানুষ সবটায় মজে
খুনসুটিতে খুনের নেশা মিশে গেলে জাহাজের ডেকে
সান্ধ্য ভোজের দৃশ্যরা কিলবিল করে।
পোকারা রন্ধন প্রিয় বলে আলোর নিকটে ঘুরে
পাখনায় গেঁথে নেয় মৃত্যুর পতন।
ভোজের দৃশ্যরা আর মৃত্যুর পতন এক কথা নয়;
আর তাই মানুষ-পোকার যৌথ জীবনে বসেছে
উই ঢিবি, হেলেঞ্চার খেত, বাঁশের সবুজ।
সমুদ্রের জলহীন শূন্যতার গল্প একবার শুনেছিলাম;
এতো হীরে জহরত! জলের গভীরে ঘুঙুরের নাচ,
তাও একবার দেখেছিলাম। এতো তীর্যক আলো!
দেখে যদি মনে পড়ে তীরের নিশানা,
বৃক্ষের বাঁকানো ফাঁক গলে ঝরে পড়া ফর্সা আলো;
তাহলে ভীষণ সর্বনাশ!
এতোসব সর্বনাশের নিপাট গল্প; তার শুরু
সীমানা প্রাচীর থেকে।
খুনসুটি খুনের নেশায় মজে না। মানুষ
সবটায় মজে, সবদিকে মজে।
উত্তরে-দক্ষিণে
উড়ে আসা হার্মাদ দিগন্ত নিয়ে
জলে-স্থলে...
ভাগ চাই না কিছুতে; ভাগ দিয়ে দাও
নিয়ে যাও। সৃষ্টির আদিতে এই নিয়ে খুনোখুনি
মানুষে-পশুতে লোভ আর তৃষ্ণায় মিশেছে।
হাওয়ার তরঙ্গে মেশেনি, রোদের ঝিলিক কাটা
পিচ্ছিল নেতানো শিলায় মেশেনি।
হার্মাদ দিগন্ত তারে দিনে দিনে সবটায় মিশিয়ে দিয়েছে...
বাংলাদেশ সময় ১৫৩৬, জুন ২৩, ২০১২