 |
| ছবি: রাজিব / বাংলানিউজটোয়েন্টিফার.কম |
ঢাকা: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বিশ্বব্যাংকের সমালোচনা করে বলেছেন, বিশ্বব্যাংক কোনো দেশের দারিদ্র্য বিমোচন করেছে, এমন নজির নেই।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গণ-গ্রন্থাগার মিলনায়তনে শেখ হাসিনার কারা-অন্তরীণ দিবস উপলক্ষে ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
হানিফ বলেন, “আফ্রিকা অঞ্চলে বিশ্বব্যাংক অনেক অর্থায়ন করেছে, কিন্তু তাদের দারিদ্র বিমোচন হয়নি। বিশ্বব্যাংকের কাজ হচ্ছে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লালন পালন করার ক্ষেত্র তৈরি করা। যুগ যুগ ধরে বিশ্ব ব্যাংক দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করে যাচ্ছে। অথচ বিশ্বের কোনো দেশের দারিদ্র্য বিমোচন বিশ্বব্যাংক করেছে, এমন নজির নেই।’’
পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে হানিফ বলেন, “পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সাময়িক ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এ ভুল বোঝাবুঝির খুব শিগগির অবসান হবে।”
বিএনপির প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাংকের লেজুড় বৃত্তি করবেন না । নিজের নাক কেটে অপরের যাত্রা ভঙ্গ করবেন না। বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করুক বা না করুক জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করুন।”
তিনি জাতীয় স্বার্থে বিরোধিতার পথ পরিহার করে এবং শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে জনমত গড়ে তুলে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান।
পার্শ্ববর্তী দেশ মালয়েশিয়ার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “বিশ বছর আগে মালয়েশিয়ায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ হয়েছে। ১৭ বছর আগে সিঙ্গাপুরেও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ হয়। এরপর থেকে তারা নিজেরা চেষ্টা করে নিজেদের অর্থনীতি শক্তিশালী করেছে।”
ওয়ান ইলেভেনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি গোটা দেশকে কারাগারে রূপান্তর করেছিল। বিএনপির কারচুপির বিরুদ্ধে ভোটের মাধ্যমে জনগণ রুখে দাঁড়িয়েছিল। এসব আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ১/১১ এর আবির্ভাব।”
হানিফ বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “আপনাদের নীল নকশা বাস্তবায়নের জন্য মঈনকে সেনাপ্রধান বানানো হয়েছিল। তারা হাসিনাকে মাইনাস করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছিল। আসলে তখন মাইনাস টু না, মাইনাস হাসিনা ফর্মুলা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছিল।”
তিনি বলেন, “যখন বুঝতে পেরেছিলেন, হাসিনাকে মাইনাস করা সম্ভব নয়, তখন খালেদা জিয়াকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল।”
তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে তিনি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক বিধান চালু রাখার আর কোনো সুযোগ নেই। আসুন সংসদে আলোচনা করে সুষ্ঠু নির্বাচনের সঠিক পন্থা ঠিক করি।”
আলোচনা সভায় ছাত্রলীগ সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ১৭৪৮ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০১২
এমএইচ/সম্পাদনা: আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর; নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আ্উটপুট এডিটর