 |
| ছবি : নাজমুল হাসান /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার রফতানি করতে চায় বসুন্ধরা গ্রুপ। আর এ লক্ষ্যেই এগিয়ে চলছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প এ প্রতিষ্ঠানটি।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টের (dot4b420) মান অনুযায়ী কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে সিলিন্ডার তৈরির কারখানা দেশে এই প্রথম। এখানে দৈনিক ৩০০০ সিলিন্ডার তৈরি করা সম্ভব।
এখানে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কোরিয়ার বিশ্বখ্যাত হুন্দাই ও ভারতের টাটা স্টিলসের হটরোল। কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে চীনের হুয়ান টেকনিক্যাল ইমপোর্ট এবং এক্সপোর্ট করপোরেশন অ্যান্ড জিয়াংয়ান সিটি ইউহাই ম্যানুফেকচারিং কোম্পানি লিমিটেড নামের দুটি প্রতিষ্ঠান।
এখানে তৈরিকৃত গ্যাস সিলিন্ডার ৭৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপ প্রয়োগ প্রপাটি নিশ্চয়তা বিধান করা হয়। ১৭০০ পিএসআই চাপে হাইড্রোলিক টেস্ট ও হাইড্রোলিক লিকেজ টেস্ট করানো হয়। এ কারণে এই সিলিন্ডার পুরোপুরি নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানের।
এই প্রথম পাউডার পুটিং পদ্ধতিতে রং করা হচ্ছে। যা অন্যরা এনামেল পেইট করছে।
গ্যাস সিলিন্ডার এতদিন আমদানি নির্ভর হওয়ার কারণে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্র্রা ব্যয় করতে হতো। কিন্তু বসুন্ধরার এ উদ্যোগের ফলে এখন সিলিন্ডার আমদানির প্রয়োজন পড়বে না। এতে সাশ্রয় হবে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।
নতুন উদ্যেক্তা যাদের সিলিন্ডার তৈরির সক্ষমতা নেই তাদের সুন্দরবন ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সে উৎপাদিত এ সিলিন্ডার দিয়ে চাহিদা পূরণ করার সুযোগ রয়েছে।
২০১১ সালের ২৫ নভেম্বর এই কারখানাটি যাত্রা শুরু করে। এরই মধ্যে সুনাম ও গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
উল্লেখ্য ২০১০ সালের আগস্ট থেকে আবাসিকে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ রয়েছে। এ কারণে এখন এলপিজি একামাত্র বিকল্পে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে এলপি গ্যাসের চাহিদা অনেক বেশি কিন্তু সরবরাহ খুবই কম।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সূত্র জানিয়েছে, দেশে এলপি গ্যাসের বার্ষিক চাহিদা রয়েছে প্রায় ৫ লাখ টন।
এই বিশাল চাহিদার বিপরীতে ২০১০-১১ অর্থ বছরে সরকারি প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লি. (আরপিজিসিএল) ৭ হাজার ৮৫৪ দশমিক ১৪ মে. টন ও ইস্টার্ন রিফাইনারি ১৩ হাজার ২৮৪ মে. টন এলপিজি বাজারে সরবরাহ করছে।
অন্যদিকে বসুন্ধরা এলপি গ্যাসসহ ৪টি প্রতিষ্ঠান আমদানি করে বছরে ৮০ হাজার টন এলপিজি বোতলজাত করে বাজারে ছাড়ছে।
চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বিশাল ব্যবধান থাকায় অনেক সময়েই দুর্ভোগের শিকার হতে হয় গ্রাহকদের। এর এই দুর্ভোগের মূল কারণ হচ্ছে সিলিন্ডার ঘাটতি। তবে এই সিলিন্ডার ঘাটতি দূর করতে পুরোপুরি সক্ষম বলে দাবি করেছে বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লিমিটেড।
সরকার মংলায় বার্ষিক এক লাখ মে. টন ক্ষমতায় একটি এলপিজি স্টোরেজ, বোতলজাত ও বাজারজাতকরণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও দেশে এলপি গ্যাসের বার্ষিক ঘাটতি থাকবে প্রায় ৩ লাখ টন (বর্তমান চাহিদানুযায়ী)।
বসুন্ধরা এলপি গ্যাস ও সুন্দরবন ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সে হেড অব ডিভিশন মো: আকবর হোসেন সিরাজী বাংলানিউজকে জানান, দেশ ও মানুষের কল্যাণে বসুন্ধরা গ্রুপ। বিষয়টি কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করে চলেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। এলপি গ্যাস পরিবেশবান্ধব। যে কারণে প্রকৃত অর্থে সবুজ বাংলাদেশ গড়তে বিশাল অবদান রাখছে।
তিনি বলেন, “সরকার যদি এই খাতে প্রণোদনা দেয়, তাহলে সুদুর প্রসারী ফল পাওয়া যাবে।”
বসুন্ধরা গ্রুপ সূত্রে জানা গেছে, সিলিন্ডার কেনার বিষয়ে ভারত, মিয়ানমারসহ কয়েকটি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। সরকারের সহায়তা পেলে গার্মেন্ট খাতের মতো এ খাতেও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব।
বাংলাদেশ সময়: ২১০০ ঘণ্টা, জুন ২৬, ২০১২
ইএস/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর;জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com