 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
খুলনা: খুলনা মহানগরী ও জেলার ৯ উপজেলার দেড়শ স্পটে রাত-দিন সমানতালে চলছে মাদকদ্রব্যের জমজমাট বাণিজ্য।
এসব স্পট থেকে পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু সদস্য এবং এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি নিয়মিত মাসোহারা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মহানগরীর ৯টি থানার যেসব জায়গায় মাদক বিক্রি হয় তা হলো- খুলনা সদর থানার সোসাইটি সিমেনা হলের গলি, খুলনা সদর পুলিশ ফাঁড়ির কাছে কালিবাড়ি, হেলাতলা মোড়, স্টেশন রোড, বানিয়াখামার ফাঁড়ির পেছনে, মিস্ত্রীপাড়া, সদর হাসপাতালের পশ্চিম পাশে, স্টেডিয়াম এলাকা, নতুন বাজার, কাস্টমস ঘাট, রূপসা ফেরিঘাট, চানমারী বাজার, পিটিআই মোড়, টুটপাড়া কবর খানার মোড়, জোড়াকল বাজার, ছোট খালপাড় ও স্টার সিনেমা হলের পেছনে।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানা এলাকায় ময়লাপোতার মোড়, ট্রাক টার্মিনাল, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালের পেছনে, শেখপাড়া লোহাপট্টি, শিববাড়ি পুলিশ বক্সের সামনে, শিল্পব্যাংক ভবনের পেছনে, জিয়া হলের সামনে, ডালমিল মোড়, নূর নগর, গোবরচাকা শিল্পকলা ভবনের কাছে ও নিউমার্কেটের সামনে মিষ্টির দোকানের পেছনে।
খালিশপুর থানার ৭ ও ৫ নং ঘাট, নয়াবাটি, বৈকালী পালপাড়া, খালিশপুর নিউমার্কেট সংলগ্ন এলাকা, খালিশপুর ফাঁড়ির পেছনে, আলমনগর পালপাড়া, পোড়া মসজিদ, খালিশপুর রেললাইন বস্তি, বাস্তুহারা কলোনি, খালিশপুর জুট মিলের পেছনে, গোয়ালখালি মোড়, বিআইডিসি রোড, শিশুপার্কের সামনে, পিপলস ৫ তলা ভবন এলাকায় ও জোড়াগেট পাইকারী কাচাঁবাজার এলাকা।
দৌলতপুর থানার নতুন রাস্তার মোড় এলাকা, বিএল কলেজ রোড, বিএল কলেজের পেছনে, শামীম হোটেলের পেছনে, কল্পতরু মার্কেট এলাকা, দৌলতপুর রেলস্টেশন, রেলগেট, দৌলতপুর দিবা নৈশ কলেজের পেছনে, দৌলতখান রোড ও মহসিন কলেজের সামনে।
খানজাহান আলী থানার ইস্টার্ন গেট, দক্ষিণ গিলাতলা এলাকা, শিরোমনি গফফার ফুড এলাকায়, শিরোমনি পূর্ব পাড়া, তেঁতুলতলা এলাকা, মিরেরডাঙ্গা, রঙ মিল গেট এলাকা, সেনপাড়া এলাকা, ফুলবাড়ি গেট রেললাইন এলাকা ও দারোগা বাজার।
রূপসা উপজেলার রামনগর, রহিমনগর, কুদির বটতলা, কিসমত খুলনা, মডার্ন সী ফুডের সামনে, ব্যাংকের মোড়, কমমস সী ফুডের পেছনে, ইলাইপুর, পুরাতন রেল স্টেশন, বটতলা, গরুর হাট, বাগমারা, গাজী স্কুলের পাশে, রূপসা কলেজের পেছনে, আল-আকসা মাদরাসার সামনে, রূপসা সেতুর পূর্ব পাশে, কালীবাড়ি, চৌধুরীর ডক, নৈহাটী, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, গণকবর স্থান, রূপসা সিনামা হলের পাশে, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীনের মাজারের পেছনে, কাজদিয়া ও উপজেলা হাসপাতালের সামনে।
তেরখাদা উপজেলার রামচন্দ্রপুর, বাজারের পেছনে, কলেজের সামনে, তেরখাদা থানার পেছনে ও উপজেলা হাসপাতালের সামনে।
দাকোপ উপজেলার কালবগি, বানিশান্তা যৌনপল্লী, কেসি কলেজের সামনে, সুতারখালি, নলিয়ান, উপজেলার পেছনে, হাসপাতাল মোড় ও বাজুয়ার বাজার।
কয়রা উপজেলার মহেশ্বরপুর, বেতকাশী, উপজেলার সামনে, হাসপাতাল মোড় ও থানার পেছনে।
পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী, কাঠাখালী, ভিলেজ পাইকগাছা, গড়ইখালী, কপিলমুনি, মালত, গদাইপুর, বোয়ালিয়া, বান্দিকাটি ও পৌরসদরের সরলগ্রাম।
ডুমুরিয়া উপজেলার মহিলা কলেজের মোড়, শোভনা, ইটভাটার পেছনে, উপজেলা বাজারের পূর্বপাশে ও খর্ণিয়ার বাজার।
ফুলতলা উপজেলার দামোদর, থানার পেছনে, ফুলতলা যৌনপল্লী, গিলাতলা, পশু হাসপাতালের পেছনে, উপজেলার দক্ষিণ পাশে ও দক্ষিণ পাড়া এলাকা।
বটিয়াঘাটা উপজেলার জিরো পয়েন্ট, খুলনা বিশ্বদ্যালয়ের পেছনে, নিজখামার, হরিণটানা, রূপসা সেতুর পশ্চিম পাশে, সুখদাঁড়া, তসিল অফিসের পাশে, ফেরিঘাট, শিকদার আবাসিক প্রকল্পের সামনে, হোগলাবুনিয়া, মাথাভাঙ্গা, গল্লামারী পুলিশ বক্সের সামনে, উপজেলার পেছনে ও হাসপাতালের পূর্বপাশে।
দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি, খেয়াঘাট, দেয়ারা, বারাকপুর, উপজেলার সামনে, হাসপাতাল মোড় ও থানার পেছনে মাদকদ্রব্যের অবাধ বেচাকেনা চলে।
এ ৯ টি থানায় যারা মাদক ব্যবসা করছেন তারা হলেন- আলমগীর, ববি হাওলাদার, ঢালী, লসমি সাহানী, চন্দন সাহানী, মিরা সাহানী, বসন্ত সাহানী, পিচ্চি জাহিদ, সেন্টু, কচি, মাইছো বাবু, উজ্জ্বল, মুন্না, কানা আবুল, ফারুক জামান, আজহার, দিলু, শাহজাহান, সমীর, শানু, ওমর, আজিজুল,বাবু, মায়া, রেখা, রুবেল, খোড়া আশরাফ, হাতকাটা হানিফ, তার স্ত্রী শাবানা, শাফি, তহু, মান্দার শেখ, রাজিব, নুর ইসলাম, রানার মা, তেল ফারুক, সোলায়মান, মনা, কানা মালেক, জব্বার , হেমায়েত, রেখা, নাসিমা, রওশন, রুবেল ও তপু।
এছাড়াও হেলাল, রাহাত, শাহিন, মাসুদ কাজী, ফাতেমা ইয়াসমিন, মোটা রোজিনা, আলেয়া বেগম, বড় বাবু, কালু, মদ বাবু, শাহ আলম, ফেরদাউস, মাহবুব, মুনসুর ও হাবি খাঁ।
তবে খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসাব মতে, তাদের কাছে ৯৪ জন মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা রয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অধিকাংশ মাদক বিক্রির স্পট সংশ্লি¬ষ্ট থানা ও ফাঁড়িগুলোর খুব কাছেই অবস্থিত। পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্য রেখেই চলছে মাদকদ্রব্যের বিকিকিনি।
পুলিশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকায় এলাকাবাসীও এদের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারে না। মাসোহারা নিয়ে বনিবনা না হলেই শুধু আটক করা হয় মাদক বিক্রেতাদের। কিন্তু জামিনে মুক্তি পেয়েই তারা আবার মাদক ব্যবসায় ফিরে যায়।
তবে লোক দেখানো অভিযান চালানোর আগেই সোর্স মারফত মাদক বিক্রেতারা জেনে যায় কখন কোথায় অভিযান চালানো হবে। মাদক বিক্রির স্পটগুলো থেকে টাকা তোলার জন্য প্রতিটি থানায় রয়েছে তাদের নিয়োগকৃত ক্যাশিয়ার।
সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চল হওয়ায় খুলনায় খুব সহজেই ফেনসিডিল, হেরোইন, গাজাঁসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য প্রবেশ করে। রেলপথেও উত্তরাঞ্চল থেকে মাদক আসে এ জেলায়।
খুলনা নাগরিক ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ফিরোজ আহমেদ বাংলানিউজকে জানান, পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিলে মাদক ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব। মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে খুলনায় বিভিন্ন বেআইনি কার্যকলাপ বেড়েছে। নেশার টাকা জোগাড় করতে না পেরে মাদকাসক্তরা পরিবারের সদস্যদের মারপিটসহ চুরি ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
কেএমপির সহকারী কমিশনার (গোয়েন্দা) টি এম মোশাররফ হোসেন বাংলানিউজকে জানান, সীমান্ত পথ দিয়ে এবং সুন্দরবনের নৌসীমান্ত দিয়ে খুলনায় মাদক দ্রব্য ঢুকছে। তবে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনেক সমস্যা রয়েছে। জনবল এবং যানবাহন সঙ্কটের কারণে মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করা যাচ্ছে না। তবে সার্বক্ষণিকভাবে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৯১৯ ঘণ্টা, জুন ২৬, ২০১২
সম্পাদনা: প্রভাষ চৌধুরী ও রোকনুল ইসলাম কাফী, নিউজরুম এডিটর