বেনাপোল(যশোর): সরকার ঘোষিত ন্যায্য মজুরি বস্তবায়নের দাবিতে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল বন্দরে হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা ৩য় দিনের মতো লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন।
চলমান অচলাবস্থা নিরসনে বেনাপোল বন্দরের পরিচালক আবুল কালাম আযাদকে মঙ্গলবার দুপুরে স্ট্যান্ডরিলিজ করা হয়েছে। তিনি বন্দরের শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনের দায়িত্ব নিয়ে ৫ মার্চ বন্দরে যোগদান করেছিলেন।
এদিকে, নতুন পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আব্দুল আওয়াল হাওলাদার। তিনি ঢাকা টিএসসিতে ডেপুটি ডাইরেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন।
এদিকে নৌমন্ত্রণালয়ের ৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বন্দরের চলমান অচলাবস্থা নিরসনে বেনাপোলে এসেছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ে বন্দর প্রশাসনিক ভবনের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করছেন। শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে বন্দর থেকে সব ধরনের মালামাল খালাস প্রক্রিয়াসহ ভারত থেকে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে।
এর আগে নৌমন্ত্রী, বাংলাদেশ স্থল বন্দরের চেয়ারম্যান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বেনাপোলের ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে, এ অচলাবস্থা নিরসনে জটিলতা বাড়ছে।
এদিকে বন্দর, ধর্মঘটে পড়ে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সরকার হারাচ্ছে, কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।
বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের (৮৯১) সভাপতি মোস্তফা বাংলানিউজকে জানান, ইতোপূর্বে ন্যায্য মজুরি বাস্তবায়নে ৩ বার ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। সে সময় নৌমন্ত্রী শাহাজান খান ও স্থানীয় সংসদ আলহাজ শেখ আফিল উদ্দীনের আশ্বাসের পরিপেক্ষিতে শ্রমিকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেয়।
কিন্তু জুন মাস পার হয়ে গেলেও শ্রমিকরা এখনো তাদের ন্যায্য মজুরি না পাওয়ায় একই দাবিতে আবারও এ ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। নৌমন্ত্রণালয়ের ৩ কর্মকর্তা বেনাপোলে আসলেও তারা এখনও পর্যন্ত তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠকে বসেনি।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও টেন্ডারবাজদের দুর্নীতির কারণে চলমান এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
এবার আর কারো প্রতিশ্রতি মানা হবে না। খাতাকলমে ন্যায্য মজুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার কর্মবিরতি চলতে থাকবে বলে জানান তিনি।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ সামছুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, বেনাপোল বন্দরের শ্রমিকদের সমস্যা সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি। বার বার শ্রমিক কর্মবিরতির ফলে বন্দর অচল হয়ে থাকছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জরুরি কাঁচামাল এ বন্দর দিয়ে আমদানি হয়ে থাকে।
বেনাপোল বন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নতুন পরিচালক আব্দুল আওয়াল হাওলাদার বাংলানিউজকে জানান, বন্দরের চলমান অচলাবস্থা নিরসনে নৌমন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল বেনাপোলে এসেছে। তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বন্দর সংশিষ্ট সবার উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক এখনো করা হয়নি বলে জানান বন্দর পরিচালক।
এর আগে বন্দরের শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নম্বর ৯২৫ ও ৮৯১) নামে দুটি শ্রমিক সংগঠনের ডাকা লাগাতার কর্মবিরতির ফলে বেনাপোল স্থলবন্দর অচল হয়ে পড়েছে। বেনাপোল বন্দরে মালামাল লোড-আনলোডসহ আমদানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৯১৮ ঘণ্টা, জুলাই ১০, ২০১২
সম্পাদনা: শামীম হোসেন, নিউজরুম এডিটর