 |
ঢাকা: পড়তি বাজারে নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় রয়েছে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গত এক মাস ধরে টানা দরপতন চলছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তৃতীয়প্রান্তিকের হিসাবে কম মুনাফা দেখাচ্ছে। এর প্রভাবে বাজারে ক্রেতা সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ প্রেক্ষাপটে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), বাংলাদেশ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্টদের সাথে সমন্বয়মূলক বৈঠক কিংবা বিনিয়োগকারীদের কোনো দিক নির্দেশনা দেয়নি। বরং প্লেসমেন্টধারীদের চাপে আইপিও (ইনিশিয়াল পাবলিক অফার) অনুমোদন নিয়ে ব্যস্ত সংস্থাটি।
এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
কেস স্টাডিতে দেখা যায়, বিকন ফার্মা তালিকাভুক্তির দুই বছরের মাথায় নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। এ কোম্পানিটি ২০১০ সালে তালিকাভুক্ত হয়। প্রথম বছরে ৫ শতাংশ ডিভিডেন্ড দিয়ে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে এবং ২০১১ সালে নো ডিভিডেন্ড দিয়ে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে যায়।
২০১২ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানি পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স। নতুন বাজারে আসার পরই তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাবে কম মুনাফা দেখিয়েছে কোম্পানিটি। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ফান্ড বৃদ্ধি দেখিয়েছে ১০ কোটি ৭৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা যা আগের বছরে ছিল ২২ কোটি ৯ লাখ টাকা।
নতুন কোম্পানিগুলো বাজারে আসার পর দুর্বল আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও এসইসি এর কারণ জানতে চায়নি। অথচ এসব কোম্পানিই আইপিওতে আসার আগে খুব শক্তিশালী আর্থিক প্রতিবেদন দেখিয়ে অনুমোদন নিয়েছে।
এরপরও এসইসি অতিরিক্ত প্রিমিয়ামে আইপিও অনুমোদন দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি অরিয়ন ফার্মা ৬০ টাকা প্রিমিয়ামে আইপিও অনুমোদন পেয়েছে। এর আগে কোম্পানিটি ১০০ টাকায় প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করেছে।
অভিযোগ রয়েছে প্লেসমেন্টধারীদের চাপেই কোম্পানিটিকে অতিরিক্ত প্রিমিয়ামে অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
এদিকে অরিয়ন ফার্মাকে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ডিএসই। একইসাথে তাদের আর্থিক প্রতিবেদনেও অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
তবে এসইসির পক্ষ থেকে ডিএসইর বিরোধিতা করে কোম্পানির সাফাই গেয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এতে এসইসি নিজেই প্লেসমেন্টের বিষয়টি স্বীকার করে বলেছে ‘বর্তমান কমিশন যোগদানের পূর্বে বেশ কিছু কোম্পানিকে উচ্চমূল্যে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে কিছু কিছু ইস্যুয়ারকে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের প্রদত্ত মূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে আইপিওর মাধ্যমে পুঁজি বাজারে আসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে’।
অভিযোগ উঠেছে, এসইসির এ পক্ষপাতমূলক আচরণে একদিকে যেমন প্রিমিয়ামবিহীন আবেদকারীরা বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে অনৈতিকভাবে প্লেসমেন্ট বিক্রিকারীদের প্রশ্রয় দিয়েই অতিরিক্তি প্রিমিয়ামে এসব কোম্পানিকে বাজারে আসার সুযোগ দিচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুন্ন হচ্ছে।
সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে মুনাফা বাড়া কমায় অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে বাজারের স্বার্থে তা তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসই। এরই প্রেক্ষিতে বেশ কিছু কোম্পানির অসঙ্গতিমুলক আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদনও জমা দেয় এসইসিতে।
তবে কম মুনাফা দেখানো নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেনি এসইসি বরং কোম্পানির পক্ষ হয়ে সাফাই গাওয়ায় ডিএসইর সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশ সময় ২১১৪ ঘণ্টা, নভেম্বও ২৩, ২০১২
এমএমকে