 |
| ছবিঃ যুবায়ের রাকেশ/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: কুমিল্লার আবদুল মজিদ(৫৭)। ঢাকা পরিবহন লিমিটেডের বাসে গুলিস্তান থেকে টঙ্গী যাচ্ছেন। বাজেট নিয়ে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘ভাই বাজেট টাজেট বুঝি না। দু’গা (অল্প) ডাল-ভাত খাইয়া মরতে পারলেই খুশি। খুন-খারাবি বন্ধ হয়ে একটু শান্তিতে থাকতে চাই। এর বেশি কিছু বুঝতে চাই না।’
পাশের সিটে বসা নোয়াখালীর রেদোয়ান হোসেন সজল (৪২)। ভ্যান চালক ঢাকার একটি বস্তিতে থাকেন। তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আঁই জানি না, বাজেট কি?’ পাশের একজনকে দেখিয়ে বলেন, ‘আমনে হেতারে জিগান (আপনি তাকে জিজ্ঞাসা করুন)।’
সংসদে অর্থমন্ত্রীর বৃহস্পতিবারের বাজেট বক্তৃতা নিয়ে জন-সাধারণের প্রতিক্রিয়া জানতে বাংলানিউজের একটি টিম মাঠে নামে।
তারই অংশ হিসেবে মিরপুর থেকে গুলিস্তান এবং গুলিস্তান থেকে বসুন্ধরা-বারিধারা আসার পথে বাজেট নিয়ে বাস যাত্রীদের প্রতিক্রিয়ায় তারা এসব কথা বলেন।
প্রতিক্রিয়া গ্রহণকালে দেখা যায় বেশিরভাগ মানুষেরই বাজেট সর্ম্পকে কোন ধারণা নেই। তারা বাজেট ঘাটতি, কর, রাজস্ব আয়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, তারল্য সংকট অনেক কিছুই বোঝেন না। তারপরও তাদের রয়েছে সুন্দর জীবন যাপন করার তীব্র আকাঙ্খা।
ক্রমবর্ধমান নানা সমস্যায় জর্জরিত মানুষগুলো কখনো সরকারের উপর পুরোপুরি হতাশ। আবার কখনো সব ঠিক হয়ে হয়ে যাবে এমনই প্রত্যাশা তাদের।
শিক্ষিত আর অশিক্ষিত মিলিয়ে সাধারণ মানুষের নানা মত তুলে নিচে তুলে ধরা হল।
বাজেট নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাবিবুর রহমান, ‘এবারের বাজেটে যদিও ঘাটতির একটা বিষয় আছে। তারপরও ঠিক মত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে সরকারের বিগত তিন বছরের ব্যর্থতা ঢেকে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। তাই লুটপাটের সৈনিকরা নিজেদের আখের ঘোঁছাতে উঠে পড়ে লেগে যাবে। ফলে অতীতের মত মুখ থুবড়ে পড়তে পারে সব আশা, স্বপ্ন আর প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি।’
স্বল্প আয়ের একজন সরকারি চাকরিজীবী নুর মুহাম্মদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘প্রতিবছরই মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নাগালের মধ্যে রাখার উপযোগী করে বাজেট পাশ করা হয়। কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত থাকেনা।মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এখন গরীবের প্রাণের দাবি। আমাদের নাভিশ্বাস উঠে গেছে।’
আরেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বাজেট আসলে একটা ডামি শো। এটা দিয়ে জনগণকে বোকা বানানো হয়। গত বছরের বাজেটের সব টাকা এখনো খরচ করতে পারে নি সরকার।
তিনি বলেন, ‘যেসব টাকা খরচ হয়েছে তা আবার জনগণের কাছে পৌঁছতে পারে না। শীতের শিশিরের মত সামান্য টাকা কাজে লাগে। মন্ত্রী, আমলা, দলীয় ক্যাডারদের হাত ঘুরে যেতে যেতে হতভাগা জনগণ হতভাগাই থেকে যায়। মাঝখানে ভাগ্যের চাকা ঘুরে অনেকে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে যায়। দিন যায়। বদল হয় অনেক কিছুই। কিন্তু বদলায় না আমাদের সাধারণ মানুষের ভাগ্য।’
বিকল্প অটো সার্ভিসে মিরপুর থেকে গুলিস্তান যাবার পথে কথা হয় ব্যাংক কর্মকর্তা রেফায়েত উল্লাহ’র সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনমূখী ঘাটতি বাজেট সংস্কৃতি থেকে সরে আসা উচিত। ঘাটতি বাজেট এবং ব্যাংক ঋণ নির্ভর বাজেট অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। এতে মূল্যস্ফিতি ঠেকানো কঠিন হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকে তারল্য সংকট দেখা দিতে পারে।’
বিএনপি’র সমালোচনা করে বলেন, ‘দূরে থেকে শুধু অপরের নিন্দা করা ঠিক না। গঠনমূলক সমালোচনা করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আন্তরিক হওয়া দরকার। সব কিছুতে রাজনীতি টেনে নিয়ে আসা ঠিক না।
তাছাড়া তাদের আমলে দেওয়া বাজেটের সূফল জনগণ কতটুকু পেয়েছে নিজেদের সেটা মূল্যায়ণ করে কথা বলা উচিত।’
তার ছোট ভাই এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘আসলে আমাদের দূভার্গ্য দূনীর্তি আর শোষন নীতিই এখানে ক্ষমতাবানদের মূল মন্ত্র। সব সরকারই আবার তাদের কালো টাকা সাদা করার সুযোগ করে দেয়। গরীবদের নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই কারোরই। তাই রাজা আসে রাজা যায় কিন্তু এ হতভাগা প্রজাদের ভাগ্য বদলায় না।’
বাংলাদেশ সময়: ১৭০৮ ঘণ্টা, জুন ০৮, ২০১২
এমইউএম/এআর/সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর