 |
ঢাকা: ঘটনার ২০ বছর পর হত্যাচেষ্টা মামলায় সাক্ষ্য দিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন।
একই সঙ্গে ওয়ার্কার্স পার্টির তৎকালীন পলিট ব্যুরো সদস্য ও বর্তমানে কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হায়দার আকবর খান রনো এবং ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য আব্দুল খালেকও আদালতে সাক্ষ্য দেন।
১৯৯২ সালের ১৭ আগস্ট তোপখানা রোডের ওয়ার্কার্স পার্টি কার্যালয়ের সামনে দুষ্কৃতিকারীরা মেননকে হত্যার উদ্দেশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণ করে।
এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধও হয়েছিলেন মেনন। গুলিবিদ্ধ মেনন প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও পরে সিএমএইচে চিকিৎসা নেন।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যান। লন্ডনের একটি হাসপাতালে তিনি দু’মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন।
রোববার সকালে তারা ঢাকার ৫ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আনিসুর রহমানের আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসেন। সকাল ১১টায় তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
এ সময় জামিনে থেকে আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার তিন আসামি দেলোয়ার হোসেন বাবুল, কামরুল হাসান সোহেল ও আবুল কালাম আজাদ। অপর আসামি কবির মাস্টার পলাতক আছেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আলমগীর বাংলানিউজকে জানান, আরেক আসামি বাদশা মিয়া মামলা চলাকালে মারা গেছেন।
জবানবন্দিতে মেনন বলেন, “১৯৯২ সালের ১৭ আগস্টের ঘটনা। আমি ঘটনার একটু আগে পর্যন্ত পার্টি অফিসে বসা ছিলাম। সেখানে হায়দার আকবর খান রনো ও মৃত আবুল বাশারও ছিলেন। মিটিং শেষে আমি তাদের রেখে বেরিয়ে আসি। আমি জিপের দরজা খুলে গাড়িতে প্রবেশ করার সময়ে হঠাৎ বিকট আওয়াজ শুনি। আমি বুঝতে পারি আমাকে লক্ষ্য করে কিছু একটা করা হয়েছে। কাছাকাছি যারা ছিল তারা আমাকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যায়। এরপর সিএমএইচে চিকিৎসা করি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাই। সেখানে ২ মাস চিকিৎসাধীন ছিলাম।”
জেরার মুখে তিনি জানান, ডকে দাঁড়ানো আসামিদের বিষয়ে তাঁর কোন বক্তব্য নাই।
উল্লেখ্য, ঘটনাটি তদন্ত করে ১৯৯৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আদালতে প্রথম দফা চার্জশিট দেওয়া হয়। এরপর ঘটনাটির বর্ধিত তদন্ত করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ কমিশনার মুন্সি আতিকুর রহমান। তিনি ২০০২ সালের ৩১ জানুয়ারি আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন।
এর আগে যশোরের আগরপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মেননকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে আসামি দেলোয়ার হোসেন বাবুল আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৫১৭ ঘণ্টা, জুলাই ২৯, ২০১২
সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর