 |
ঢাকা: কয়েকটি ‘যদি’র ওপর ঝুলে আছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি উত্তর ও ডিসিসি দক্ষিণ) নির্বাচন। এসব ‘যদি’র সমাধান করে এ বছরই এ নির্বাচন করা যাবে কিনা, তা নিয়ে সন্দিহান খোদ নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ বাংলানিউজকে বলেন, “বিষয়টা এখন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আদালতের নির্দেশনার ওপর।”
তিনি বলেন, “আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরই ডিসিসি নির্বাচনের পদক্ষেপ নিই। কিন্তু ওই সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা চলায় আমরা সময়মতো তফসিল ঘোষণা করতে পারিনি।”
হাফিজ বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম যে আদালত আমাদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছিলেন এবং নির্বাচন স্থগিত করেছিলেন, সেই আদালতেই রুলের জবাব দেওয়া এবং আপিল করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করা।”
তিনি জানান, এরই মধ্যে আপিল করা হয়েছে ও রুলের জবাব দেওয়া হয়েছে।
এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আমরা জবাবে আদালতকে জানিয়েছি, সীমানা নির্ধারণের ক্ষমতা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। তারা তা করেছিল বলে জানানোর পর এবং গেজেট প্রকাশের পরই ইসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।”
তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে ভোটার হালনাগাদের নিয়ম থাকলেও আইন এবং সংবিধান আমাদের ক্ষমতা দিয়েছে কোনো কারণে যদি ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা না যায়, তবে বিদ্যমান তালিকায় নির্বাচন করার। আমরা এ বিষয়টিও আদালতের নজরে এনেছি।”
তিনি বলেন, “এখন আমারা অপেক্ষা করছি আদালতের নির্দেশনার। আদালত নির্বাচনের বিষয়ে নতুন যে নির্দেশনা দেবেন, আমরা সে মোতাবেক কাজ করব।”
অন্য এক নির্বাচন কমিশনার বলেন, “এ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর কারণে।”
তিনি বলেন, “নিয়ম হলো নতুন যে কোনো সিটি করপোরেশন গঠনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে সীমানা নির্ধারণ করা। এরপর নতুন সীমানার আপত্তি মীমাংসার জন্য সময় দিতে হয়। কারো কোনো অভিযোগ থাকলে তা ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে সমাধান করতে হয়। কিন্তু আবু আলম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ তা করেননি। কেবলমাত্র ওয়ার্ডের নম্বর পুর্নবিন্যাস করেই তিনি তার দায়িত্ব সেরেছেন।”
এ নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, “কেবল ওয়ার্ডের নম্বর বিন্যাস করলেই সীমানা নির্ধারণের কাজ হয় না। আগের কুড়িল (১৯৯০), রামপুরা, উত্তরা এখন এক নেই। এসব ওয়ার্ডে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বনশ্রী আবাসিক এলাকা, আফতাবনগর, মোহাম্মদপুরে মাদানীনগর, কুড়িলে নিকুঞ্জ, তেজগাঁও- গুলশানে নিকেতন মিরপুর এবং ঢাকার চারপাশে অসংখ্য আবাসিক এলাকা গড়ে উঠেছে। শুরুর উত্তরা বিলুপ্ত ডিসিসির ১ নম্বর ওয়ার্ড ছিল। কিন্তু এখনকার উত্তরা আশুলিয়ার বেড়িবাঁধ পর্যন্ত ঠেকেছে। গোড়ান, মাদারটেক গিয়ে মিশেছে নন্দীপাড়ায়। বাসাবো, মাণ্ডার বিস্তৃতি ঠেকেছে ডেমরায় গিয়ে। অথচ স্থানীয় সচিবের চোখে এসব অসঙ্গতি পড়ল না। তিনি দেশবাসীর কাছে নির্বাচন কমিশনকে অপদস্ত করে ছাড়লেন।”
তিনি আরো বলেন, “সাংবিধানিকভাবে আমরা বিদ্যমান তালিকা দিয়ে নির্বাচন করার ক্ষমতা রাখি। কিন্তু সীমানা নির্ধারণের দায় স্থানীয় সরকারের। আদালত যে সময় যেভাবে নির্বাচন দিতে বলবেন, আমরা সে সময়ে সেভাবে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত আছি।”
তিনি বলেন, “আদালতে এ বিষয় সমাধান হতে ৬ মাস সময় লাগতে পারে।”
এ দুই নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যের সূত্র ধরে বলা যায়, এ বছর আর ডিসিসি নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই, যদি অনেকগুলো ‘যদি’র সমাধান করা না যায়।
বাংলাদেশ সময়: ১৯০০ ঘণ্টা, জুন ২৬, ২০১২
আরএম/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর;জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com