 |
ঢাকা: আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মহাজোট সরকার বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সংবাদ সম্মেলন করে কিংবা সংবাদ বিবৃতি দিয়ে সরকারের চার বছরের সাফল্য তুলে ধরছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার বিগত দুই বছরে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি) সাফল্য তুলে ধরে একটি বিবৃতি দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ানের পাঠানো বিবৃতিতে ট্যুরিজম বোর্ডের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, অফুরন্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প খুবই সম্ভাবনাময়। ধারণা করা হচ্ছে তৈরি পোশাক শিল্পের পরই পর্যটন শিল্প থেকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশী বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারে।
বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণসমূহকে বিশ্বব্যাপী প্রচার এবং একে বিশ্ব দরবারে একটি ‘পর্যটন গন্তব্য’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ২০১০ সালে জাতীয় পর্যটন সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি) গঠন করে।
প্রতিষ্ঠার পর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড গত দুই বছরে বিভিন্ন প্রচারনামূলক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
২০১১ সালের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপে লোকাল পার্টনার হিসেবে ট্যুরিজম বোর্ড স্পনসর করে দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে তুলে ধরে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পর্যটনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ বিশ্বের ভ্রমণপিপাসুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী বিদেশিদের জন্য সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশ ফোক ফেস্টিভ্যাল’ কান্ট্রি প্রেজেন্টেশন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
বিটিবি রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর সঙ্গে যৌথভাবে সার্ক দেশসমূহের জাতীয় পর্যটন সংস্থা ও স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী ১১তম সার্ক ট্রেড ফেয়ার এন্ড ট্যুরিজম মার্ট-২০১২ আয়োজন করে।
বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে বিদেশিদের কাছে পরিচিত করতে এ সংস্থা দেশে প্রথমবারের মত জাপান, জার্মানি ও স্পেন থেকে সাংবাদিক, ট্রাভেল রাইটার ও ট্যুর অপারেটরদের আমন্ত্রণ জানিয়ে ‘দেশ পরিচিতিমূলক ভ্রমণ’ আয়োজন করে। এছাড়াও এ সংস্থা বেসরকারি ট্যুর অপারেটরদের নিয়ে ভারত, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে পর্যটন রোড শো আয়োজন করে।
বহির্বিশ্বে ব্যাপক প্রচারণার লক্ষ্যে ট্যুরিজম বোর্ড ভিজিট বাংলাদেশ ক্যাম্পেইন নামে একটি পর্যটন প্রচার ও বিপণন কার্যক্রম গ্রহণ করে। এর আওতায় ট্যুরিজম বোর্ড বিদেশে বাংলাদেশের পর্যটন প্রসারে ২০১১ ও ২০১২ সালে জাপান, সিঙ্গাপুর, চীন, জার্মানি, স্পেন, কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলায় সরকারি ও বেসরকারি ট্যুর অপারেটরদের নিয়ে অংশগ্রহণ করে। কোরিয়াতে অনুষ্ঠিত কোরিয়া ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল ফেয়ার-এ বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বেস্ট মার্কেটিং ন্যাশনাল ট্যুরিজম অর্গানাইজেশন সম্মাননা পায়।
ট্যুরিজম বোর্ড বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০১১ ও ২০১২ উপলক্ষ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন স্থানগুলোতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করে। এ সময়ে বোর্ড জাতীয় দৈনিকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশসহ গোলটেবিল বৈঠক, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে টক-শো ও বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এ সময়ে পর্যটন শিল্পের প্রচার ও বিপণনের জন্য মানসম্মত প্রচার ও উপহার সামগ্রী তৈরি করেছে এবং দেশে-বিদেশে বৈদেশিক মেলাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় এসব প্রচার ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করছে।
বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও প্রচারণার ফলে বাংলাদেশে পর্যটন খাতের উত্তরোত্তর প্রসার ঘটছে। আশা করা যায় সরকারি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত প্রয়াসে বিশ্বের পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশ আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।
বাংলাদেশ সময়: ২১৩৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৭, ২০১৩
আইএইচ/আরআর