 |
ঢাকা: সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সদস্যদের হাজিরা নিয়ে সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকলেও তা মানছেন না বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। অনিয়মই এখন এ কমিটির নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এ কমিটির দুই সদস্য কার্যপ্রণালী বিধি লঙ্ঘন করে কমিটির বৈঠকে অনুপস্থিত থাকছেন। কমিটির সভাপতিকে এ ব্যাপারে কিছুই জানাচ্ছেন না তারা। অন্যদিকে কমিটির সভাপতিও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপও নেননি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে কমিটির বৈঠকে অনুপস্থিত থাকার অর্থ হলো কমিটির প্রতি ‘অবজ্ঞা’ দেখানো।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত ২৯ জুলাই কমিটি ৩৭তম বৈঠক করে। অথচ কমিটির সদস্য চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বিএসসি (চট্টগ্রাম-৮) সংসদীয় কমিটি গঠন হওয়ার পর মোট ৩৩ বৈঠক অনুপস্থিত রয়েছেন। ২০০৯ সালের ১৯ মার্চ প্রথম বৈঠকে থেকে পরবর্তীতে আর মাত্র তিনটি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তিনি। এরপর আর কোনো বৈঠকেই তিনি উপস্থিত হননি।
এদিকে চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত আরেক সংসদ সদস্য এম. আবদুল লতিফ (চট্টগ্রাম-১০) কমিটির প্রথম বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও দ্বিতীয় থেকে সপ্তম, ১২তম থেকে ১৪তম এবং ১৬তম থেকে ৩৪তম বৈঠক পর্যন্ত অনুপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বৈঠকে উপস্থিত থেকেও একদিন হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেননি তিনি।
প্রসঙ্গত কার্যপ্রণালী বিধির ১৯৩ বিধিতে বলা হয়েছে, “কমিটির অনুমতি ব্যতিরেকে কোন সদস্য যদি পর পর দুই বা ততোধিক বৈঠক হইতে অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে ওই সদস্যকে কমিটি হইতে পদচ্যুত করার জন্য সংসদে প্রস্তাব আনা যাইতে পারে।”
সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কমিটি শাখা সূত্রে জানা গেছে, নুরুল ইসলাম বিএসসি ও এম. আবদুল লতিফ কমিটি বৈঠকে অনুপস্থিত থাকা নিয়ে এখন পর্যন্ত কমিটির কাছ থেকে অনুমতি নেননি।
দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়া কমিটির বৈঠকে অনুপস্থিত থাকায় কার্যপ্রণালী বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে স্পিকার আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের সঙ্গে কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি টেলিফোনে বাংলানিউজকে বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ আছি। সে কারণে কমিটির বৈঠকে উপস্থিত হতে পারিনি।”
কমিটির অনুমতি নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি আর কোনো মন্তব্য করবেন না জানিয়ে ফোনের লাইন কেটে দেন।
আবদুল লতিফের টেলিফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়া কমিটির বৈঠকে অনুপস্থিত থেকে সংসদীয় কমিটির প্রতি অবজ্ঞা দেখানো হয়েছে মন্তব্য করে সংসদীয় রাজনীতি বিষয়ক গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নিজাম উদ্দীন আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, “এটা কমিটির প্রতি অবজ্ঞা। কেউ যদি দায়িত্ব পালন করতে না পারেন তবে সদস্য পদ ছেড়ে দেওয়া উচিত। সদস্য হিসেবে বহাল থেকে অনুমতি ছাড়া বৈঠকে উপস্থিত না হওয়া কাম্য নয়।”
এদিকে কমিটির সভাপতি চট্টগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আবুল কাশেমের মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।”
বাংলাদেশ সময়: ১৫০৮ ঘণ্টা, আগস্ট ১৯, ২০১২
এআর/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর