 |
ঝালকাঠি: অব্যাহত নদীভাঙন ও অতিবৃষ্টির কারণে ঝালকাঠির চার উপজেলার ৪৭টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
শুক্রবার সকাল থেকে ঝালকাঠির সন্ধ্যা, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ার বিষখালি নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এদিকে, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধিতে রাজাপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ৭৮টি গ্রামের মধ্যে নিম্ন অঞ্চলের প্রায় ২৬টি গ্রামের ২৭ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
অপরদিকে, জেলার কাঠালিয়া উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ২১ গ্রামের ২২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
এ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন জায়গার ২৭শ হেক্টর আমন ধানের বীজতলা নষ্ট এবং কয়েকশ হেক্টর জমির সবজি পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে।
এছাড়াও বন্যায় জেলার বিভিন্নস্থানে মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে রাজাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাওফিকুল আলম বাংলানিউজকে জানান, এ উপজেলার প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমির আমন বীজতলা, ২শ হেক্টর জমির রোপা ‘নেরিকা ধান’ ও ২৫০ হেক্টর জমির সবজি পানির নিচে নিমজ্জিত হয়ে পঁচে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পানি বেশি দিন স্থায়ী হলে বড় ধরনের ক্ষতির অশঙ্কা রয়েছে।
এ ব্যাপারে, ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মজিবুল হক মিয়া জানান, জোয়ারের পানিতে জেলার ২৭শ হেক্টর জমির আমন বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে বিষখালি নদীর ভাঙন কবলিত বাদুরতলা বাজার এলাকার ভাঙন পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক আশোক কুমার বিশ্বাস।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৩০ কেজি চাল সরবরাহসহ সার্বিক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মুনীরুজজামান ভূঁঞা, রাজাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আউয়াল গাজি, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান চন্দ্র শেখর হালদার ও মঠবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক এনামুল হক ও রহিম রেজা প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ২১০৩ ঘণ্টা, ০৬ জুলাই, ২০১২
সম্পাদনা: মাহাবুর আলম সোহাগ, নিউজরুম এডিটর