 |
ঢাকা: ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অভিযোগ বাড়ছেই। গত ৬ মাসে প্রায় তিন হাজার গ্রাহক কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, বিভিন্ন ব্যাপারে প্রায় তিন হাজারের কাছাকাছি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে সাধারণ গ্রাহকরা তাদের ভোগান্তির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। এর মধ্যে মে মাস পর্যন্ত এর সংখ্যা ছিলো ২ হাজার ৬৬০টি। বাকিগুলো এসেছে চলতি মাসের এই সময়ে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র মতে, যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণের পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না বাংলাদেশ ব্যাংক অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। শুধু অভিযোগের নিষ্পত্তি করেই দায়িত্ব শেষ করা হচ্ছে।
সূত্র বলছে, প্রাপ্ত অভিযোগের মধ্যে টেলিফোনে এক হাজার ২৯৯টি এবং লিখিত এক হাজার ৩৬১টি এসেছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে ২ হাজার ২৯১ টি অভিযোগের। তুলনামূলক জটিলতা থাকায় ৩৬৯টি অভিযোগের এখনো নিষ্পত্তি করতে পারেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধেই বেশি অভিযোগ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গত মে মাসে গ্রাহক হয়রানির যে অভিযোগ জমা হয়েছে তার ৫৯টি রাষ্ট্রায়ত্ব সোনালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে। এরপর অগ্রণী ব্যাংকের বিরুদ্ধে ১৮টি, জনতা ব্যাংকের বিরুদ্ধে ১৭টি এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে গ্রাহক হয়রানির ঘটনার অভিযোগ এসেছে ১৩টি। বেসরকারি প্রাইম ব্যাংকের বিরুদ্ধে ১২টি অভিযোগ করেছেন এর গ্রাহকরা। আর ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংকের বিরুদ্বে ৯টি করে অভিযোগ আসে বাংলাদেশ ব্যাংকে।
অভিযোগ পর্যালোচনা করে প্রায় সব মাসগুলোতে দেখা গেছে, রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে বেশি অভিযোগ হচ্ছে।
ব্যাংকের এক শ্রেণীর অসৎ ব্যাংক কর্মকর্তার কারণে গ্রাহক হয়রানিরও শেষ নেই। ঋণ বিতরণ, বিদেশ থেকে নিকটজনের পাঠানো অর্থ তুলতে, ব্যবসায়িক কাজে ঋণ পত্রসহ (লেটার অফ ক্রেডিট) সার্বিকভাবে ব্যাংকিং সেবার মান নিয়ে এসব অভিযোগ গ্রাহকদের। রয়েছে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগও। এছাড়া ঋণে অতিরিক্ত সুদ দাবিসহ আমানতের টাকা সময় মতো তুলতে না পারার অভিযোগও করছেন গ্রাহকরা। ব্যাংকের এ সব অসাধু কর্মকর্তাদের অপকর্মের ফলে অনেকে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
কিশোরগঞ্জের এক গ্রাহক সোনালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তার অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, তার ছেলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে টাকা পাঠালেও ব্যাংকের স্থানীয় শাখা সময় মতো পরিশোধ করেনি। তাকে অন্যায় ভাবে ঘুরিয়েছে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার এক কর্মকতা জানান, যে সব অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে তার বেশিরভাই গ্রামের। রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধেই অভিযোগ বেশি। অভিযোগের মধ্যে কোনো কোনোটির সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সমাধান করে। তবে বেশিরভাগই আমলে নেয় না সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো। এছাড়া দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয় না। ফলে সাধারণ মানুষ খুব বেশি সুফল ভোগ করছেন না।
সূত্র মতে, ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতিরোধে ও উত্তম সেবা প্রদানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গত বছরের মার্চ মাসে গঠন করা হয় হেল্প ডেস্ক। পরে এর নাম পরিবর্তন করে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান। এর পর থেকেই বিভিন্ন ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে অভিযোগ আসতে থাকে।
বাংলাদেশ সময়: ১২২০ ঘণ্টা, জুন ২৬, ২০১২
এসএআর/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর