সাতক্ষীরা: থানার ভেতর ছাত্রদল নেতা মাহমুদুল হক টিটোকে ঝুলিয়ে নির্যাতন করার দায়ে ক্লোজড হওয়া খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম কামরুজ্জামান সাতক্ষীরায় থাকাকালেও নানা বিতর্কের জন্ম দেন।
২০০৯ সালে সাতক্ষীরা সদর থানায় কর্মরত অবস্থায় তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের কারণে ২০০৯ সালের ২১ ডিসেম্বর তাকে সাতক্ষীরা থেকে রাজশাহীর সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমিতে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছিল।
কামরুজ্জামান ২০০৯ সালের ২৫ মার্চ সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে যোগ দেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সাতক্ষীরা সদর থানার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে।
সাতক্ষীরা সদর থানার যোগ দেওয়ার কিছু দিনের মধ্যে চোরাচালান গডফাদারদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এলাকায় চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, চুরি, ডাকাতি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে।
২০০৯ সালের ৫ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া লস্করপাড়া এলাকায় নির্মমভাবে খুন হন বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, ভূমিহীন আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত সাইফুল্লাহ লস্কর।
এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তৎকালীন ওসি কামরুজ্জামান জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে। লস্কর হত্যার বিচার বাস্তবায়ন কমিটির নেতারা সে সময় ওসি কামরুজ্জামানকে গ্রেফতারের দাবি জানান।
এক পর্যায় ২০০৯ সালের ২১ ডিসেম্বর বিতর্কিত ওসি এসএম কামরুজ্জামানকে রাজশাহীর সারদায় শাস্তিমূলক বদলি করা হয়।
এছাড়া ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তালা এলাকার ঘের ব্যবসায়ী লুৎফর রহমানকে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরে তাকে চরমপন্থি বলে প্রচার করে সেযাত্রা রেহাই পান ওসি এসএম কামরুজ্জামান।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৩৮ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৩, ২০১২
প্রতিবেদন: মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল
সম্পাদনা: রোকনুল ইসলাম কাফী, নিউজরুম এডিটর;
জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর।