 |
মনটা আজ কদিন ধরে কু ডাক দিচ্ছে। কেন এমন হচ্ছে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না ৯০৬২। একটা খবর সে শুনেছিল দিন কয়েক আগে ৯৮১৮’র শরীরটা ভলো নেই। পায়ে একটা আঘাত পেয়েছে। খাট থেকে পড়ে গিয়েছিল। যত বিপত্তি চাদরটা টানতে গিয়ে। পায়ের চেয়েও বড়ো সমস্যা বোধ হয় হৃদয়সংক্রান্ত। কেমন নিথর। সেন্স নেই। ডাক্তারও দেখানো হয়েছে। পরিচিত ডাক্তার দেখলেনও বেশ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সময় নিয়ে। কিন্তু তার বিদ্যাবুদ্ধিতে বেশিদূর এগোতে পারলেন না। তবু চেষ্টার কসুর করলেন না। সাধ্যমতো সু-পরামর্শ দিলেন কি করতে হবে। শুরু হয়ে গেল তৎপরতা।
৯৮১৮১৬ ছিল বেশি উদ্বিগ্ন। ও আর ৯৮১৮ থাকতো কাছাকাছি পাশাপাশি। অবসর
পেলে কত কথাই না তারা বলত। রাতের দিকেই অবসরটা বেশি পায় দুজনে। সকালেও প্রথম কয়েক ঘণ্টা ওদের ওপর চাপটা থাকে কম। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে চাপও। এক এক সময় হাঁপিয়ে ওঠে ওরা। অনর্গল বকবকানি চলতেই থাকে। এদের হাত থেকে নিস্তার নেই। এখন আবার নানা কোম্পানির নানা মতলবি প্রচার। কে কোনটা বাছবে দ্বিধায় পড়ে। আজ বেলার দিক থেকে শরীরটা খারাপ লাগছিল। ক্লান্ত বোধ হচ্ছিল। একেবারে যে শয্যা নেবে তখনও ভাবেনি ৯৮১৮। পড়ে গিয়ে সমস্যাটা বেড়ে গেল। রেস্ট নিয়ে পুরো এনার্জি নিলে আবার ফিট হয়ে যাবে আগের মতো। কিন্তু না সেটাতো হলো না। ডাক্তার বলে গিয়েছিলেন বটে। এনার্জি নিল ঠিকই কিন্তু আগের মতো সে উঠে দাঁড়াতে পারল কই। সাময়িক জ্ঞানও ফিরল কিন্তু অল্প সময়ের জন্য। কেন ওকে নিয়ে এত উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছে ৯৮১৮১৬কে। ভাঙা কণ্ঠস্বরে সে বলে উঠল– ‘তোকে সেরে উঠতেই হবে’। না হলে আমি যে বড় একা হয়ে যাবো। ওর কথাতে ৯৮১৮-ও ভাঙা শরীরেও ব্যথিত হলো। সাথী তো বটে। এতোগুলো বছর ওরা কাছাকাছি পাশাপাশি ছিল। মনটা একটু দুর্বল হবে বৈকি। ৯৮১৮’র শারীরিক অবস্থার কথা বিস্তারিতভাবে ৯০৬২ কে জানিয়েছিল সে। কারণ ওদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্কটা ছিল অটুট। তাই সেও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছিল। দুই বাড়ির মধ্যে সম্পর্কটাও অনেকদিনের। বেশ কয়েক মাসের তফাতে ওদেরও দু বাড়িতে আসা। ৯৮১৮ প্রথম আসে। কয়েকমাস পর আসে ৯৮১৮১৬। সেই দিক দিয়ে বিচার করলে বয়োঃজ্যেষ্ঠ ৯৮১৮। তার কয়েক মাস পরে আসে ওবাড়ির ৯০৬২। সে কনিষ্ঠ। বড় দুজনকে মান্য করে। বিপদে আপদে ওদের পরামর্শ নেয়। সেবারতো ও নিজেই বিপদে পড়ে গিয়েছিল। বাড়িতে বিয়ে সবাই ব্যস্ত। কেউ কাজে ব্যস্ত কেউ অকাজে নিজেকে নিয়ে। ওর কথা ভুলেই গেছে। খাওয়ার অভাবে ক্ষীণকায় হয়ে পড়েছে শরীর। সুগার পেসেন্টের মতো। মাথা ঘুরছে, অস্থির লাগছে শরীর। খবরটা এবাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিল। ৯৮১৮ সঙ্গে সঙ্গে ও বাড়িতে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি জানায়। সেই মতো পূর্ণ রেস্ট এবং এনার্জি দেবার ব্যবস্থা হলো।
৯০৬২ তারপর সুস্থ হয়ে ওঠে। মাঝে মধ্যে গল্প বলার সময় সে এই কথাগুলো
স্মরণ করে। ৯৮১৮ না থাকলে কথায় বলে না যমে মানুষে টানাটানি সেটাই হতে
চলেছিল। যম না থাকলেও টানা টানি একটা চলছিল। ৯৮১৮ ওর কথা শুনে হাসে।
যত বাড়িয়ে কথা বলার অভ্যাস ওর। লজ্জা পায় সে। ও যেটা করেছে সেটাতো সবারই
করার কথা। বিপদে আপদে এগিয়ে আসা। অনেক সময় অযাচিত ভাবে এগিয়ে যাওয়াটাও
বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সে যাই হোক এখন কিভাবে ৯৮১৮কে সুস্থ করে
তোলা যায় সেটাই দেখার এবং ভাবার সময়। কোন মতে রাতটা পার হলো। অবস্থার
তেমন কোন পরিবর্তন হলো না। ডাক্তারকে কল। এলেন, দেখলেন। মত দিলেন ভর্তি
করার। নিজস্ব হাসপাতালে। যেখানে পেসেন্টের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় উপকরণ আছে।
আছে অভিজ্ঞ ডাক্তার। যারা কেয়ার ইউনিটে রেখে দেখভাল করবেন। ৯৮১৮কে
সাবধানে নিয়ে যাওয়া হলো কেয়ার ইউনিটে। মন খারাপ হয়েগেল ৯৮১৮১৬’র,
রূপসার মনও ভালো নেই। তালুর মতো চেনা সে- চলে যাচ্ছে। কতদিন শরীরের উত্তাপ
দিয়েছে। কত কথা, ভালো মন্দের সাথী ছিল সে। তাকে এখন ছেড়ে দিতে হচ্ছে মন
তো খারাপ হবেই। সেটাই তো স্বাভাবিক। রূপসার কাছ থেকে চলে গেল ডাক্তারের
হাতে।
কেয়ার ইউনিটে ঢুকে অবাক। সেখানে অনেক পেসেন্ট। ওদের মাঝে ওকেও জায়গা করে দেওয়া হলো। নিশ্চিন্তে চোখের পাতা এক করবার জো আছে। চেনা অচেনা পেসেন্টদের কথা লেগেই আছে। কাছেই অপারেশন টেবিল। ওপেন হার্ট সার্জারি। সর্বত্র পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ছাপ লক্ষণীয়। ডাক্তারদের পোশাক-আসাক, আদব কায়দাই আলাদা। বড় জায়গার এটা একটা সুবিধা। তবে ছাড়ার সময় বিলটা মন্দ হয় না বটে। তবে কেউ যদি মেয়াদী সময়ের মধ্যে আসে তার আলাদা সুবিধা।
সে যাই হোক বাবা। অতশত ভেবে লাভ নেই তার। সে এখন পেসেন্ট। যাদের
ভাবার তারা ভাববে। রাতও হয়েছে। ৯৮১৮ চোখটা বন্ধ করে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮১৮ ঘণ্টা, ২৭ আগস্ট, ২০১২
সম্পাদনা: এম জে ফেরদৌস, নিউজরুম এডিটর