 |
আমাদের সবার আর্থিক অবস্থা এক নয়। চলার পথে অনেক সময় আমাদের অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন হয়, আবার অন্যকে সাহায্যও করতে হয়।
তাই প্রায়ই আমরা সামর্থ্যবান আত্মীয় বা বন্ধুর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে থাকি বা কাউকে ঋণ দিয়ে থাকি।
সমাজে সামর্থ্যবানদের দায়িত্ব ঋণ প্রত্যাশীকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করা। ইসলামে সুদমুক্ত ঋণ বা ধার দেওয়া ও নেওয়া বৈধ।
তবে ঋণ দেওয়া বা নেওয়ার বিষয়টি সাক্ষী এবং দু’পক্ষের উপস্থিতিতে লিখিত থাকা প্রয়োজন (অর্থ লেনদেনের বিষয়ে সাক্ষীর উপস্থিতিতে লিখিত রাখার ব্যাপারে আল্লাহ পাক কোরান শরীফে নির্দেশ দিয়েছেন)।
ইসলামে সামর্থ্যবান দেনাদারকে ঋণ শোধ করতে ও পাওনাদারকে পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখানোর ব্যাপারে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
আমাদের সমাজে অহরহ দেখা যায়, ঋণের টাকা শোধ দেওয়ার সুযোগ হলেও অনেকেই তা দিতে গড়িমসি করি, যা মোটেও ঠিক না। কারণ ঋণ শোধ করার নিয়ত থাকা না থাকার ওপর মানুষকে ঋণ শোধের সামর্থ্য দেন আল্লাহ পাক। আবার অনেকে অক্ষম দেনাদারকে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপাচাপি করি। এটাও ঠিক না, ঋণী ব্যক্তিকে সুযোগ না হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দেওয়া পাওনাদারের কর্তব্য।
হাদিসে ঋণ লেনদেনের ব্যাপারে কিছু নির্দেশনা দেওয়া আছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সা.) বলেছেন, Ôযে ব্যক্তি কারো কাছ থেকে টাকা ধার নেয় ও তা আদায় করার নিয়ত রাখে, আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা শোধ করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কারো কাছ থেকে ঋণ নেয়, কিন্তু তা শোধ করার নিয়ত রাখে না, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেবেন।’-(সহীহ বুখারী)
আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, Ôসক্ষম দেনাদারের জন্য ঋণের টাকা শোধ করার ব্যাপারে গড়িমসি করা অন্যায়। তবে যদি দেনাদার পাওনাদারকে অন্য কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে পাওনা আদায় করার জন্য বলে দেয়, তাহলে পাওনাদারের তাই করা উচিত।’- (বুখারী, মুসলিম)
অর্থাৎ, দেনা শোধে অক্ষম ব্যক্তি যদি তার পক্ষ থেকে অন্য কারো মাধ্যমে ঋণ শোধ করতে চায়, তাহলে পাওনাদারের উচিত সে লোকের কাছ থেকে পাওনা আদায় করা।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, Ôএক লোক মানুষকে টাকা ধার দিতো। তারপর সেই লোক পাওনা টাকা আদায় করার জন্য লোক পাঠাতো। তবে সে আদায়াকারীকে বলতো, ‘অভাবী দেনাদারকে মাফ করে দিয়ো। তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ আমাদের মাফ করে দেবেন।’ এ ব্যক্তি যখন আল্লাহর কাছে গিয়ে পৌঁছালো, আল্লাহ তাকে মাফ করে দিলেন।’- (বুখারী, মুসলিম)
তাই আসুন আমরা যারা ঋণ শোধে সক্ষম তারা গড়িমসি না করে ঋণ শোধ করি এবং যারা অক্ষম তারা ঋণ শোধ করার নিয়ত রাখি। আর যারা পাওনাদার তারা অক্ষম দেনাদারকে ঋণ শোধ করার অবকাশ দিই অথবা মাফ করে দিই।