ঢাকা: রাজধানীর অদূরে তাজরীন ফ্যাশনস লিমিটেডের অগ্নিকাণ্ডকে সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নাশকতামুলক’ উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের এ প্রতিবেদন মেনে নিতে নারাজ গার্মেন্টস শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো। সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সরকার ঘটনাকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের প্রেসিডেন্ট মোশরেফা মিশু বলেন, “আমি মনে করিনা এটি নাশকতামুলক ছিল।”
একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সরকার অগ্নিকাণ্ডের জন্য কিছু শ্রমিককে দায়ী করতে চাচ্ছে। যাতে তাদের হয়রানি করা যায়।”
শ্রমিক সংগঠনগুলো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনের কিছু প্রমাণকে চ্যালেঞ্জ করেছে। বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার বলেন, “সরকার প্রায়ই ফ্যাক্টরির দুর্ঘটনা, ধর্মঘট ও শ্রমিকদের অন্যান্য অস্থিতিশীলতাকে নাশকতামুলক বলে চালিয়ে দেয়।”
গত ২৪ নভেম্বর তাজরীন গার্মেন্টসেব অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন নিহত হয় এবং আহত হয় শতাধিক লোক।
তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইনউদ্দিন খন্দকার। ২১৪ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য প্রমাণ করে ২৪ নভেম্বর তাজরীন ফ্যাশনস লিমিটেডের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নাশকতামুলক।
তবে এই নাশকতার পেছনে কারা ছিল তা উল্লেখ করা হয়নি তদন্ত প্রতিবেদনে।
তদন্ত প্রতিবেদনে তাজরীন কর্তৃপক্ষকে ‘অমার্জনীয় অবহেলার’ জন্য দায়ী করা হয়। নিম্ন মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে শ্রমিকরা বেরিয়ে আসতে পারেনি। তদন্ত কমিটির বলছে, আগুনের সূত্রপাত স্থলে কোন ধরনের বৈদ্যুতিক সংযোগ বা যন্ত্র পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, “মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তারা আগুনের সতর্ক সঙ্কেত বাজার পরও শ্রমিকদের বের হতে দেননি। শ্রমিকদের কাছে তারা আগুনের কথা গোপন রেখেছিল। আগুন নেভানোর কোন চেষ্টা না করে তারা শতাধিক শ্রমিককে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন।”
কয়েকজন ব্যবস্থাপক ভবনের ভেতর শ্রমিকদের আটকে রাখে। দুর্ঘটনার শিকার দীপা আক্তারের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, “অগ্নিনির্বাপণ মহড়া চলছে। কোন সমস্যা নেই।”
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তাজরীনের ফ্যাশনসের মালিক দেলওয়ার হোসেন অগ্নিকাণ্ড ও মৃত্যু নিয়ে তথ্য গোপন করেছেন, ভুল তথ্য দিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল-মার্ট ইনকরপোরেশনের জন্য পোশাক তৈরি করছিলো তাজরীনের কর্মীরা। তবে ওয়াল-মার্টের দাবি, তারা তাজরীনকে পোশাকের অর্ডার দেয়নি।
অগ্নিকাণ্ডের পর বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে অগ্নিনিরাপত্তা সহায়তা দেওয়ার দিলেও ২০১১ সালে এ সহায়তা দিতে অনিচ্ছুক ছিল প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ অন্য সব সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়াকে ব্যয়বহুল হিসেবে অভিহিত করেছিল ওয়াল-মার্ট।
বাংলাদেশ সময়: ০০০১ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২০, ২০১২
সম্পাদনা: শরিফুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর/জেডএম eic@banglanews24.com