বাংলাদেশের চিরসবুজ গায়ক কুমার বিশ্বজিৎ । সেই আশির দশকের শুরু থেকে তিনি ধরে রেখেছেন জনপ্রিয়তা। ০১ জুন তার জন্মদিন। চিরসবুজ খেতাবের কারণেই সম্ভবত তিনি বয়সটা বলতে চান না কোথাও। এবারও তাই হলো। জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাবার পর বাংলানিউজ তার কাছে জানতে চাইলো, ‘বয়স কতো হলো’?
কুমার বিশ্বজিৎ বললেন, ‘এই প্রশ্নটা আমাকে বোধহয় সবচেয়ে বেশি শুনতে হয়েছে। আমি তো সেই পুরনো কথাটাই বলবো। আমার বয়স ২৬ আর ২৭-এর মাঝে পৌঁছে রহস্যজনকভাবে আটকে গেছে। সামনেও যাচ্ছে না, পিছনেও যাচ্ছে না’।
পরে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বললেন, ‘আমি আসলে খাতা-কলমের বয়স নিয়ে ভাবতে রাজি নই। আমি মনের বযসে বিশ্বাসী। সন-তারিখ ধরে যে বয়স গণনা করা হয় আমি তা মানি না। একটা মানুষকে পৃথিবীতে আসার দিন ধরে বয়স বিবেচনা করাটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। দেখা উচিত মানুষটির কর্মক্ষমতা আর মানসিক জোর। মনের বয়সটা ধরে রাখাই অনেক জরুরি। মানসিকভাব আমি নিজেকে এখনও তরুণ বলে মনে করি। তারুণ্যের জয়গান গাই আমি সবসময়।’
‘এবারের জন্মদিন পালন করছেন?’ উত্তরে কুমার বিশ্বজিৎ বললেন, ‘এবারের জন্মদিনটা আমার জন্য অন্যরকম। একদম সাদামাটা। কারণ আমার স্ত্রী এখন আছেন আমেরিকায়। আমার ছেলেটির চলছে পরীক্ষা। স্পেশাল বলতে কেবল রাত ১২টার পর থেকেই পাচ্ছি বন্ধু, শুভাকাঙ্খী আর ভক্তদের এসএমএস। ঘনিষ্ঠ অনেকে আবার ফোনেও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। পার্থক্য কেবল এইটুকু। এছাড়া আজকের জন্মদিনটা অন্য সব দিনের মতোই কাটছে। রাতে গুলশান ক্লাবে একটা শো আছে। শো’র জন্য প্রস্ততি নিতে হচ্ছে’।
কুমার বিশ্বজিতের কাছে জন্মদিনের অনুভূতির কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি জন্মদিন এলে প্রথমে আমার মাঝে মনখারাপের অনুভূতি তৈরি হয়। মনে হয়, মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। ঘুম থেকে উঠার পর আজ সারাদিন বার বার এটাই মনে হচ্ছে। তাই বলে আমি মনোবল হারাতে রাজি নই। মনের শক্তি দিয়ে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কাজ করে যেতে চাই। আমি অবসর ঘৃণা করি। তাই মৃত্যুর আগে অবসর চাই না’।
‘আপনার জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কী’ ? নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তির কথা জানিয়ে কুমার বিশ্বজিৎ বললেন, ‘আমার গানের শ্রোতা আর ভক্তের ভালোবাসাকেই জীবনের সেরা প্রাপ্তি বলে মনে করি। শ্রোতাদের ভালোবাসার জন্য আমি আজকের কুমার বিশ্বজিৎ হতে পেরেছি। আজকের দিনে আমি কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসা জানাই আমার ভক্ত-শ্রোতা-বন্ধুদের ’।
কুমার বিশ্বজিতের কাছে সবশেষে জানতে চাওয়া হলো, ‘গান নিয়ে এ মুহূর্তে কী করছেন? তিনি বললেন, গানের সঙ্গেই তো দিনের বেশিরভাগ সময় কাটাই। বর্তমানে আমি আমার পছন্দের এক সুরতার ও সঙ্গীত পরিচালক প্রিন্স মাহমুদের নতুন একটি অ্যালবামের কাজ করছি। স্টেজ শো করছি, প্লে-ব্যাক করছি। এভাবেই গানের মধ্যে দিন কাটছে।
একনজরে কুমার বিশ্বজিৎ
ডাকনাম : টুটুল জন্মদিন : ০১ জুন জন্মস্থান : সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম বাবা : সাধন রঞ্জন দে মা : শোভা রানী দে স্ত্রী : নাঈমা সুলতানা ছেলে : কুমার নিবির ভাই বোন : দুই বোন একভাই। প্রিয় সঙ্গীতশিল্পী : কিশোর কুমার, আশা ভোশলে, জগজিৎ সিং এবং আরো অনেকে। গানে অনুপ্রেরণার উৎস : মা স্মরণীয় মুহূর্ত : সন্তানের জন্মগ্রহণ এবং টিভিতে প্রথম পারফর্মেন্স ভবিষ্যত পরিকল্পনা : আমার ছেলের জীবনটা সুন্দর ও নিরাপদ করে তোলা ভক্তদের জন্য ম্যাসেজ : আপনারা আমার জীবন এবং আমি আপনাদের কারণেই আজ কুমার বিশ্বজিৎ
কুমার বিশ্বজিতের নির্বাচিত সেরা ১০ গান
তোরে পুতুলের মতো করে সাজিয়ে
তুমি রোজ বিকেলে আমার বাগানে ফুল নিতে
চতুর্দোলাকে চড়ে দেখো ঐ বধূ যায়
যেখানে সীমান্ত তোমার সেখানে বসন্ত আমার
জন্মিলে মরিতে হবে
কিছুই নাকি দেইনি তোমায়
তুমি ছাড়া আমি যেন মরুভূমি
তোমরা একতারা বাজাইও না
যারে ঘর দিলা সংসার দিলা রে
একটা চাঁদ ছাড়া সারা রাত
বাংলাদেশ সময় ০৮৪০, জুন ০১, ২০১২
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।